মিলছে না দাম, খেতের বাঁধাকপি গরু-ছাগলকে খাওয়াচ্ছেন তিস্তাপারের চাষিরা

একে খরচ করে চাষ করেছেন। তার উপর দুশো থেকে তিনশো টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে হাটে বা বাজারে বাঁধাকপি নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রি করতে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে না ফসল। তাই উঠছে না ভ্যান ভাড়াও। ফলে একরকম বাধ্য হয়ে অসহায় কৃষকরা খেতে গরু বা ছাগল বেধে তাকেই বাঁধাকপি খাওয়াচ্ছেন।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বাঁধাকপি চাষ করে দাম মেলেনি। তাই খেতে ছাগল বেঁধে তাদেরই কপি খাওয়াচ্ছেন কৃষকরা। জলপাইগুড়ির তিস্তাপারে দেখা গেল এই ছবি।

একে খরচ করে চাষ করেছেন। তার উপর দুশো থেকে তিনশো টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে হাটে বা বাজারে বাঁধাকপি নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রি করতে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে না ফসল। তাই উঠছে না ভ্যান ভাড়াও। ফলে একরকম বাধ্য হয়ে অসহায় কৃষকরা খেতে গরু বা ছাগল বেধে তাকেই বাঁধাকপি খাওয়াচ্ছেন।

তিস্তা নদীর পার জুড়ে বরাবর বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়ে থাকে। যারমধ্যে শীতকালীন সবজি হিসেবে অনেকেই বাঁধাকপি চাষ করে থাকেন। কিন্তু এবার বাঁধাকপির দাম তলানিতে ঠেকেছে। এক থেকে দেড় কিলো ওজনের কপি পাইকারি বাজারে দু টাকা পিস হিসেবেও দাম পাচ্ছে না কৃষকেরা। তাই একরকম বাধ্য হয়ে কপি খেতে ছাগল, গরু বেধে তাদের কপি খাইয়ে দিতে দেখা যাচ্ছে।

বাপ্পা মাঝি নামে এক কৃষক বলেন, “এর তার থেকে ঋণ নিয়ে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে এবার প্রথম কপিচাষ করেছিলাম। কিন্তু এখন দর না মেলায় আমার মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা হয়েছে। আমার পুরো ৪০ হাজার টাকাই ক্ষতি হয়ে গেল। কীভাবে লোকের টাকা ফেরত দেব তা ভেবে আমার রাতের ঘুম হচ্ছে না।” শুধু বাপ্পা মাঝিই নয় তিস্তা পারের কয়েকশো কৃষকদের এখন এই অবস্থা।

জলপাইগুড়ি কৃষি দফতরের সহ-অধিকর্তা অসীম চক্রবর্তী বলেন, “কৃষকদের ফসল নষ্ট হওয়া আমাদের কাছে খুবই বেদনাদায়ক। আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি। সমাধানের রাস্তা খুঁজছি। আলু রাখার জন্য যেমন কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে, তেমনই অন্যান্য শাকসবজি রাখার জন্য এমন কোল্ড স্টোরেজ করা যায় কি না সেই উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা চলছে। তাহলে উদ্বৃত্ত ফসল কোল্ড স্টোরেজে রেখে পরবর্তীতে দাম পেতে পারবেন চাষিরা।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More