সেচখালের পাড় দখল করে তৈরি হচ্ছে পাকা বাড়ি, চিন্তায় জামালপুরের চাষিরা

কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকার চাষিদের অভিযোগ আগে সেচ খালের পাড়ের দখল নিয়ে সেখানে সারা বছর বালি মজুত করে রাখতো বালি কারবারিরা। এখন সেচ খালের পাড়ে বালি মজুত রাখা বন্ধ হলেও শুরু হয়েছে সেচ খালের পাড় দখল করে একের পর এক পাকা বাড়ি তৈরির কাজ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: সেচ খালের পাড়ের জমি দখল করে দেদার তৈরি হচ্ছে পাকা বাড়ি। অভিযোগ, জামালপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকায় ওই সব বাড়ি কোনও ভূমিহীন পরিবারের লোকজন করছেন এমনটা নয়, সেচ খালের পাড়ে ওইসব বাড়িগুলি তৈরি করছেন কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকারই বিত্তশালী একাধিক পরিবার। তা নিয়ে এলাকার চাষিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সেচ খালের পাড় দখল করে তৈরি হওয়া পাকা বাড়িগুলি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে এলাকার চাষিরা সেচ দফতরের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন।

জামালপুরের মেমারি-তারকেশ্বর রোডে হালাড়া থেকে চৌবেড়িয়া পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তার একপাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে সেচ খাল। এই সেচখালের জলেই বিস্তীর্ণ এলাকার চাষ জমি, বিশেষত তিন ফসলি জমিতে চাষাবাদ করেন চাষিরা। সেচ খালের পাড় যাতে ধসে না যায় তাই সেখানে প্রচুর গাছ লাগানো আছে ।

কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকার চাষিদের অভিযোগ আগে সেচ খালের পাড়ের দখল নিয়ে সেখানে সারা বছর বালি মজুত করে রাখতো বালি কারবারিরা। সেই কারণে পাইপের সাহায্যে রাস্তার বিপরীত দিকের জমিতে সেচের জল নিয়ে যেতে পারতেন না চাষিরা। এছাড়াও সেচ খালের পাড়ে মজুত রাখা বালি অনবরত খালে গড়িয়ে পড়ায় খালের গভীরতাও অনেকই কমেও গিয়েছে। এখন সেচ খালের পাড়ে বালি মজুত রাখা বন্ধ হলেও শুরু হয়েছে সেচ খালের পাড় দখল করে একের পর এক পাকা বাড়ি তৈরির কাজ।

এলাকার চাষিরা মঙ্গলবার বলেন, যারা বাড়িগুলি তৈরি করছেন তারা কেউ ভূমিহীন পরিবারের লোকজন নন । সবাই বড় ব্যবসায়ী ও ধনী পরিবারের সদস্য। কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকায় সেচখালের পাড়ে থাকা গাছগুলিও সন্তর্পণে কেটে দেওয়া  হয়েছে। তারপর থেকে শুরু হয়েছে পাড় দখল করে দেদার  পাকা বাড়ি তৈরি। চাষিরা জানিয়েছেন, যে ভাবে সেচ খালের পাড় দখল করে বাড়ি তৈরি হচ্ছে তার ফলে জমিতে সেচের জল পাওয়ার ক্ষেত্রে আগামী দিনে চাষিদের চুড়ান্ত সমস্যায় পড়তে হবে।

জামালপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান অলোক ঘোষ বলেন, “বছর তিনেক আগে এলাকার এক বালি কারবারি সারাংপুরে সেচ খালের জায়গা দখল করে বেআইনি ভাবে পাকা বাড়ি তৈরি করছিলেন। সেচ দফতরের কর্তারা পুলিশের সাহায্য নিয়ে বুলডোজার চালিয়ে সেই বাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছিলেন। চাষিদের স্বার্থে কৃষ্ণচন্দ্রপুর এলাকায় সেচ খালের পাড় দখল করে যে সব পাকা বাড়িগুলি তৈরি হচ্ছে সেই গুলিও সেচ দফতর গুঁড়িয়ে দিক। নয়তো এলাকার চাষিরা যে ভাবে ক্ষোভে ফুঁষছে তাঁরা যে কোন দিন এই বিষয়টি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করে দিতে পারে।”

সেচ দফতর অবৈধ নির্মাণ বন্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা জানতে এদিন জামালপুর সেচ দফতরের সাব ডিভিশনাল অফিসার দীনেশ ঠিকাদারকে একাধিক বার ফোন করেও যোগাযোগ করা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে দেড় কিমি দূরে জামালপুরের সেচ দফতরে অফিসে গিয়েও কোন আধিকারিকের দেখা পাওয়া যায়নি। তবে একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (লোয়ার দামোদর ইরিগেশন সার্কেল) তপন পালকে ঘটনা সবিস্তার জানানো হলে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে কিছু জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। বেআইনি ভাবে সেচ দফতরের জায়গা দখল করে যাঁরা পাকা বাড়ি তৈরি করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More