জামাইকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার শ্বশুর, পুলিশের জালে মৃতের স্ত্রীও

মৃত্যুর আগে নিজের ভাইপোর কাছে ভয়েস মেসেজে সুইসাইডের কথা জানান তিনি। কিন্তু ভাইপো দেরিতে ফোন খোলায় এই ঘটনা রোখা যায়নি। জানাল পুলিশ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: সুইসাইড নোট লিখে যাননি। তবে ভয়েজ মেসেজে আত্মহত্যার কথা জানিয়েছিলেন ভাইপোকে। ভাইপো ফোন খুলে সেই মেসেজ দেখার আগেই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যায় হাওড়ায়। পরে ঘর থেকে মেলে বাবা-মেয়ের দেহ। এই ঘটনায় জামাইকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল শ্বশুরকে। গ্রেফতার করা হয়েছে মৃত ব্যক্তির স্ত্রীকেও। সোমবার রাতে সালকিয়ার বাড়ি থেকে মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ গ্রেফতার করে তাঁদের।

সোমবার সকালে সালকিয়ার শোভন চৌধুরী লেনে একটি বাড়ির বন্ধ ঘর থেকে অভিজিৎ রায় (৩৮) এবং তার আট বছরের শিশুকন্যা প্রীতি রায়ের দেহ পাওয়া যায়। মৃত অভিজিৎবাবুর বাড়ির লোকেরা মালিপাঁচঘড়া থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অভিজিৎবাবু তাঁর মেয়েকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তিনি নিজে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন।

পরিবারের লোকের থেকে পুলিশ জানতে পারে পেশায় সোনার দোকানের মালিক অভিজিৎবাবুর সঙ্গে তার স্ত্রী কুসুম রায়ের দাম্পত্য বিবাদ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভাল ছিল না। প্রায় নিজেদের মধ্যে গন্ডগোল হত। অভিজিৎবাবুকে তার স্ত্রী এবং শ্বশুরমশাই মানসিক অত্যাচার করত বলেও জানতে পারে পুলিশ। এমনকি মাস কয়েক আগে অভিজিৎবাবুর স্ত্রী তাঁর স্বামীকে ছেড়ে বাপের বাড়ি ঘাটালে চলে যান। সেখানে স্ত্রী এবং মেয়েকে আনতে গেলে তাঁকে চরম অপমান করা হয় বলে অভিযোগ। জানা যায়, অনেক কষ্টে দিন কয়েক আগে মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু স্ত্রীকে তাঁর কাছে আসতে দেননি শ্বশুরমশাই। এরফলে মানসিক অবসাদ থেকে মেয়েকে খুন করে আত্মঘাতী হন অভিজিৎবাবু।

ডিসি (নর্থ) প্ৰবীন প্রকাশ জানান, মৃতের ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর আগে নিজের ভাইপোর কাছে ভয়েস মেসেজে সুইসাইডের কথা জানান তিনি। কিন্তু ভাইপো দেরিতে ফোন খোলায় এই ঘটনা রোখা যায়নি। ধৃত দু’জনকে মঙ্গলবার হাওড়া আদালতে তোলা হয়। পুলিশ দু’জনকেই তাদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More