বন্যপ্রাণ বাঁচাতে শিকার উৎসব রুখে দিল বর্ধমানের বন দফতর

মাঘ মাসের প্রথম তিন সপ্তাহ এক দিন করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে শিকারে বের হওয়ার প্রথা রয়েছে। সেই প্রথা অনুযায়ী বুধবার খুব সকালে আউশগ্রামের ডাঙাপাড়া গ্রামের কাছে দেখা যায় অজয়নদের চর দিয়ে এলাকার কয়েকশো আদিবাসী দলে দলে এগিয়ে আসছেন। জঙ্গলে শিকারীদলের হাজির হওয়ার খবর পৌঁছে যায় আদুরিরা বিট অফিসার আসরাফুল ইসলামের কাছে। তিনি তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে তাড়াতাড়ি ঘটনাস্থলে চলে যান।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বন দফতরের তৎপরতায় আটকানো গেল শিকারীদের। মঙ্গলবার বেলা বাড়তেই বীরভূম জেলা থেকে শ’খানেক আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন অজয় নদ পেরিয়ে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। তাঁরা বনের পশুপাখি শিকারের জন্য হাজির হন। এই ঘটনায় সকালে আউশগ্রামের ডাঙাপাড়ায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। তবে শেষপর্যন্ত বন দফতরের তৎপরতায় তাদের আটকে দেওয়া হয়।

মাঘ মাসের প্রথম তিন সপ্তাহ এক দিন করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে শিকারে বের হওয়ার প্রথা রয়েছে। সেই প্রথা অনুযায়ী বুধবার খুব সকালে আউশগ্রামের ডাঙাপাড়া গ্রামের কাছে দেখা যায় অজয়নদের চর দিয়ে এলাকার কয়েকশো আদিবাসী দলে দলে এগিয়ে আসছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছে বেশকয়েকটি  শিকারী কুকুরও। শুধু ডাঙাপাড়ায় নয়,  আউশগ্রাম এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের শতাধিক মানুষ শিকারের জন্য জড়ো হন।

জঙ্গলে শিকারীদলের হাজির হওয়ার খবর পৌঁছে যায় আদুরিরা বিট অফিসার আসরাফুল ইসলামের কাছে। তিনি তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে তাড়াতাড়ি ঘটনাস্থলে চলে যান। সম্প্রতি আউশগ্রামের জঙ্গলে ময়ূরের সংখ্যা বেড়েছে। ময়ূরের বাচ্চারা মাঝেমধ্যেই আশপাশের গ্রামে ঢুকেও পড়ে। এছাড়া প্যাঙ্গোলিন, সজারু, বনবিড়াল তো রয়েছে।

বনআধিকারিক আসরাফুল ইসলাম বলেন, ‘‘শিকারীরা একবার জঙ্গলে ঢুকে পড়লে প্রথমেই তারা ময়ূরগুলোকে মারবে। ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাবে এইসব বন্য পশুপাখি। তাই এই বেআইনিভাবে পশুশিকার রুখে দেওয়া হয়।’’

এই বন আধিকারিক এদিন শিকারী দলের সামনে গিয়ে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। বনরক্ষা কমিটির সদস্যদেরও ডাকেন বন আধিকারিক।সকলে মিলে বোঝানোর পর শেষ পর্যন্ত বীরভূমে ফিরে যায় শিকারীর দল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More