বিজেপির রথ থেকে নামিয়ে দেওয়া হল প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদকে, ধোয়া হল রথও

এখানেই শেষ নয়, নব্য বিজেপি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ঐ রথ থেকে নেমে পড়ার পর তা দুধ আর গঙ্গাজল দিয়ে 'শুদ্ধিকরণ' করলেন দলীয় কর্মীরা।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া:  চরম অস্বস্তিকর ঘটনার মুখে পড়তে হল বিষ্ণুপুর পুরসভার দীর্ঘ ৩৪ বছরের পুরপ্রধান, প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। বর্তমানে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তিনি। সোমবার বিকেলে আদি বিজেপি কর্মীদের কটুক্তি আর বিক্ষোভের মুখে পড়ে দলের পরিবর্তন যাত্রার রথ থেকে নেমে পড়তে বাধ্য হলেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, নব্য বিজেপি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ওই রথ থেকে নেমে পড়ার পর তা দুধ আর গঙ্গাজল দিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করলেন দলীয় কর্মীরা।

কয়েক মাস আগেই মেদিনীপুর কলেজ মাঠে বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভায় গিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন বিষ্ণুপুর পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান শ্যাম মুখার্জী। তারপর থেকেই বিজেপির একাংশ তাঁকে দলে নেওয়ার বিরুদ্ধাচরণ করে আসছিলেন। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের চাপে বিষয়টি ধামাচাপা ছিল। এদিন পরিবর্তন যাত্রার রথ বের হয় বাঁকুড়ায়। সেই রথে ছিলেন শ্যাম মুখার্জি। এ সময় তাঁকে লক্ষ্য করে বিজেপির কিছু কর্মী কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ। আরও বিক্ষোভের আশঙ্কা করেই বিষ্ণুপুর শহরে ঢোকার আগেই জয়পুর জঙ্গলে তিনি ওই রথ থেকে নেমে পড়েন।

রথ থেকে নেমে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী নিজেও। তিনি বলেন, “দলের কথাতেই রথে চেপেছিলাম। ঝামেলা হতে পারে আন্দাজ করেই দলের একজন প্রবীণ নেতা হিসেবে ও দলের সম্মানের কথা ভেবে রথ থেকে নেমে পড়েছি। এর বাইরে কে কী বলল তা শোনার আগ্রহ নেই আমার।”

বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক নীরজ কুমার বলেন, “ওনাকে (শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী) নিয়ে কোনও ঝামেলা নেই। উনি বর্ষীয়ান নেতা। বড় দল কে কী বলল খুঁজে দেখা মুশকিল। যদি কিছু হয়ে থাকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দেখবেন।” তবে তিনি শ্যামবাবুকে উঠতে বা নামতে কোনটাই দেখেননি বলে দাবি করেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More