ঝুড়ি-বাক্সের ধুলো ঝাড়ছেন হকাররা, রাত পোহালেই আবার পসরা নিয়ে ট্রেনে উঠতে হবে যে!

করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের জেরে পুরোপুরি থমকে গিয়েছিল ট্রেন চলাচল। আনলক পর্বে বিক্ষিপ্তভাবে মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন চলতে শুরু করলেও বন্ধ লোকাল ট্রেন। তাই রেলে হকারি করে রুটিরুজির সংস্থানও বন্ধ হয়ে গেছিল। ঘিরে ধরেছিল আর্থিক অনটন। এবার দিন ঘোরার পালা।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: প্রতিদিন ভোরের আলোর ফোটার আগেই দিন শুরু হত ওঁদের। স্নান সেরে পসরা গুছিয়ে নিয়ে স্টেশনে ছোটার পালা। কারও ঝাঁপিতে ঝালমুড়ির রকমারি, কারও ঝাঁপিতে মিষ্টি বা ডিমসেদ্ধ, কেউ বা আবার পসরা সাজাতেন চুলের ক্লিপ-কানের দুলে। তারপর ট্রেনে উঠে বিকিকিনির পালা। প্রতিদিনের যাতায়াতে সবাই প্রায় চেনা মুখ। চেনা সুরে যাত্রীরাও ঠিক চিনে নিতেন তাঁদের। এটাই জীবন চিত্র ছিল শান্তিপুরের শিবশঙ্কর রায়, সবুজ রায়, ভানু দত্তদের। গত সাত মাসে যা থমকে গিয়েছিল পুরোপুরি। বুধবার থেকে চালু হবে লোকাল ট্রেন। তাই ফের চেনা ছন্দে ফেরার স্বপ্নে মশগুল রেলের হকাররা।

করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের জেরে পুরোপুরি থমকে গিয়েছিল ট্রেন চলাচল। আনলক পর্বে বিক্ষিপ্তভাবে মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন চলতে শুরু করলেও বন্ধ লোকাল ট্রেন। তাই রেলে হকারি করে রুটিরুজির সংস্থানও বন্ধ হয়ে গেছিল। ঘিরে ধরেছিল আর্থিক অনটন।

বুধবার থেকে ট্রেন চলবে ফের। তাই মুখে হাসি নদিয়া শান্তিপুরের রেল হকারদের। এতদিন রেশনে পাওয়া চাল দিয়ে পেট ভরিয়েছেন কোনওমতে। কেউ কেউ সংসার চালানোর জন্য সাময়িকভাবে বেছে নিয়েছিলেন অন্য রুজি। এখন তাঁরাই আবার ফিরবেন চেনা জীবনে। পরিচিত পরিবেশে।

শান্তিপুরের বিভিন্ন এলাকাতে প্রায় শতাধিক রেল হকারের বাস। শান্তিপুর থেকে শিয়ালদাগামী সমস্ত ট্রেনে দেখা মিলত এঁদের। কেউ ঝাল মুড়ি, কেউ রুমাল, কেউ বা ফল বিক্রেতা। দীর্ঘদিন ট্রেনে ওঠেননি তাঁরা। জিনিস বিক্রি করেননি। বুধবার থেকে ট্রেন চলার খবর শুনে শুধু ব্যক্তি নন খুশির হাওয়া গোটা পরিবারে। জমে থাকা ব্যবসার জিনিস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। তবে ট্রেনে উঠতে পারবেন কিনা তা নিয়ে এখনও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। আপাতত বুধবার সকালের দিকে তাকিয়ে সবাই।

পেশায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা শিবশংকর রায় বলেন, ‘‘গত কয়েকমাস ঘরে বসে থেকে পুঁজি সব শেষ হয়ে গেছে। এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেছি সকাল থেকে রাত। তাতে কোনও রকমে দিনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার বেচাকেনা হতো। ট্রেনে উঠতে পারলে বেঁচে যাই।’’ সবুজ রায় বলেন, ‘‘২০ বছর ধরে ট্রেনে ব্যবসা করছি একইভাবে। এমন হবে কোনও দিন ভাবিইনি। কীভাবে যে দিন কাটছে একমাত্র ভগবান জানেন। ট্রেন চলবে আবার। এটা ভেবেই স্বস্তি পাচ্ছি।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More