উপসর্গহীন করোনা রোগীদের মৃত্যু নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দফতর, স্ট্যাটেজি বদলের ভাবনা

উত্তরবঙ্গের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাক্তার সুশান্ত রায় জানান, তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেস স্টাডি করে দেখেছেন একটি দেশে বেড়ে চলা করোনা রোগীদের মৃত্যুর হার কমাতে সি টি ভ্যালুর উপর জোর দিয়ে ভালো ফল পাওয়া গেছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: উপসর্গহীন করোনা রোগীর মৃত্যু উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে। তাই এবার উপসর্গহীন করোনা রোগীদের মৃত্যুর হার কমাতে উদ্যোগী হল স্বাস্থ্য দফতর। সেই ক্ষেত্রে ইতালিকে রোল মডেল করে এগোতে চাইছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মহল।

কোভিড ১৯ এর মূল উপসর্গ হল তীব্র জ্বরের সঙ্গে শুকনো কাশি। কিন্তু বর্তমানে উত্তরবঙ্গে যে সমস্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে তাদের বেশিরভাগের দেহেই এই দু’টি উপসর্গ কম পাওয়া যাচ্ছে। বদলে কেউ গন্ধ না পাওয়া, কেউ পেট খারাপ, কেউ মৃদু জ্বর ইত্যাদি নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু তাদেরও লালা রস পরীক্ষা করলে কিছু সংখ্যক মানুষের পজেটিভ রিপোর্ট আসছে। এই সমস্ত উপসর্গহীন করোনা পজিটিভ রোগীদের বর্তমানে সেফ হোম কিংবা হোম আইসোলেশন রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। এদের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন।

গত ২৯ শে জুলাই পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে মোট ৭৩,৪৩৯ জনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ৮১৮৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬১১৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। যাদের মধ্যে ৫ শতাংশ উপসর্গহীন করোনা পজেটিভ রোগী ।

সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের করোনা পজিটিভ রোগীদের ডেথ রিভিউ করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন রোগী করোনা আক্রান্ত হলেও উপসর্গহীন ছিলেন। কিন্তু মারা গেছেন। এটাই ভাবাচ্ছে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। কারণ উপসর্গহীন করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। সেই ক্ষেত্রে এই ধরনের রোগীদের মধ্যেও যদি মৃত্যু হার আরও বাড়তে থাকে তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে মুশকিল হবে। তাই এই মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে নতুন স্ট্র‍্যাটেজি হিসেবে ইতালির সি টি ভ্যালু থিয়োরিকে কাজে লাগাতে চাইছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পদ্ধতিতে মানবদেহ থেকে লালারসের নমুনা সংগ্রহর পর এই মেশিনের মাধ্যমে একজন মানুষের দেহে কত পরিমাণ ভাইরাস রয়েছে তা দেখা হয়। এবং সেই পরিমাণ ভাইরাসের উপস্থিতি ওই মানুষের দেহের পক্ষে কতটা বিপদজনক তা নির্ণয় করে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার কাজ শুরু করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

উত্তরবঙ্গের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাক্তার সুশান্ত রায় বলেন, ‘‘প্রথম দিকে আমরা করোনায় আক্রান্ত হলেই তাঁকে কোভিড হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করা শুরু করি। এরপর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় আমরা স্ট্র‍্যাটেজি বদলে উপসর্গহীন করোনা পজিটিভ রোগীদের সেফ হোমে বা হোম আইসোলেশন রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। এবং উপসর্গ যুক্ত করোনা আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি করতে থাকি। কিন্তু এবারে ডেথ রিভিউ করতে গিয়ে দেখি কয়েকজন উপসর্গহীন করোনা পজিটিভ রোগী মৃত্যু হয়েছে। তাই এই বিষয় এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আমাদের।’’

তিনি জানান, তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেস স্টাডি করে দেখেছেন একটি দেশে বেড়ে চলা করোনা রোগীদের মৃত্যুর হার কমাতে সি টি ভ্যালুর উপর জোর দিয়ে ভালো ফল পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘‘আসলে আগে আমরা সি টি ভ্যালু একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের কম থাকলে এবং তার করোনা উপসর্গ থাকলে তাকেই কোভিড হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিতাম। কিন্তু এখন সেই স্ট্যাটেজি বদল করার ভাবনা চিন্তা চলছে। সি টি ভ্যালু নির্দিষ্ট পরিমাণের কম কিন্তু উপসর্গহীন তাদেরকেও এবার হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়ার সময় এসেছে।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More