সীমিত সামর্থ্যে সফল হিপ রিপ্লেসমেন্ট করে নজির গড়ল জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল

অস্থি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেবাঞ্জন আদক বলেন, ‘‘এই রোগী স্থানীয় কবিরাজের কাছ থেকে তেল এনে মালিশ করাচ্ছিলেন। কিন্তু ব্যথা বেড়েই যাচ্ছিল। রোগী আমাদের কাছে আসার পর আমরা বিভিন্ন পরীক্ষার পর দেখি তার  ফিমার হেড ভেঙে গেছে। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে নিয়ে তাঁর অপারেশন করা হল।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: কোমড়ের বল ভেঙে ছোট হয়ে গিয়েছিল পা। সীমিত পরিকাঠামো নিয়ে সফলভাবে হিপ রিপ্লেসমেন্ট করে নজির গড়ল জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম। জটিল অপারেশন সফলভাবে করতে পারায় খুশির হাওয়া চিকিৎসক মহলে।

মাস তিনেক আগে ময়নাগুড়ি ডাঙাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুমিতা রায় কুয়োর পাড়ে পিছলে পড়ে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে কোমড়ে ব্যথা হচ্ছিল। আশেপাশের বাসিন্দা কথায় স্থানীয় হাতুড়ে কবিরাজের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী শুরু হয়েছিল তেল মালিশ। গত তিনমাস ধরে এইভাবে তেল মালিশ চলছিল। কিন্তু দিনে দিনে বাড়ছিলো ব্যথা। অবশেষে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এসে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখা গেল সুমিতাদেবীর কোমড়ের বল ভেঙে শুকিয়ে গেছে যা অপারেশন ছাড়া কোনওভাবে ঠিক হওয়া সম্ভব নয়।

দীর্ঘদিন নার্সিং হোমে ভর্তি থেকে করতে হবে এই হিপ রিপ্লেসমেন্ট হাসপাতাল। যা করতে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হবে। শুনে দরিদ্র কৃষক পরিবারের সদস্যদের মাথায় বাজ পড়ার উপক্রম হয়। ঠিক এই সময় দেবদূতের মতো পাশে এসে দাঁড়ালেন জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে একদল তরুণ চিকিৎসক। তাঁরাই সম্পূর্ণ বিনাখরচে এই অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সুমিতা রায় ফের জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৬ দিন ধরে এই রোগীকে অপারেশনের যোগ্য করে তোলেন তাঁরা। এরপর সফল ভাবে অপারেশন করে তার কোমড়ের ভাঙা বল বের করে সেখানে নতুন করে স্টিলের বল লাগিয়ে তাঁকে সুস্থ করে তোলেন।

অস্থি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেবাঞ্জন আদক বলেন, ‘‘এই রোগী স্থানীয় কবিরাজের কাছ থেকে তেল এনে মালিশ করাচ্ছিলেন। কিন্তু ব্যথা বেড়েই যাচ্ছিল। রোগী আমাদের কাছে আসার পর আমরা বিভিন্ন পরীক্ষার পর দেখি তার  ফিমার হেড ভেঙে গেছে। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে নিয়ে তাঁর অপারেশন করা হল। রোগী এখন সুস্থ।’’ এই ধরনের অপারেশন জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে এই প্রথম বলে জানান তিনি।

ডাক্তার অনুপম সাহা বলেন, ‘‘আমরা প্রথমেই দেখলাম কোমড়ের বল ভেঙে যাওয়ার ফলে রোগীর পা ছোট হয়ে গিয়েছে। এরপর তাকে ওয়ার্ডে রেখে পায়ে ট্র্যাকশন দেওয়া হয়। এই ভাবে ১৪ দিন রাখার পর তার অপারেশন করতে গিয়ে দেখা গেল তার প্রেশার কিছুতেই কমছে না। বাতিল হল অপারেশন। এরপর ওষুধ দিয়ে প্রেশার কমিয়ে তারপর তাঁর অপারেশন করা হল। অপারেশন করতে আমাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। কারন কোমড়ের বল ভেঙে শুকিয়ে ভেতরে আঠার মতো আটকে ছিলো। সেই বল কেটে সেখানে নতুন ভাবে স্টিলের বল লাগাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে আমাদের।’’

সুমিতা দেবীর ছেলে রবি রায় বলেন, ‘গ্রামের লোকের কথায় ভুল করে আমরা কবিরাজের কাছে গিয়েছিলাম। তার মাশুল দিচ্ছিল মা। এরপর আমরা হাসপাতালে এসে এতো ভালো চিকিৎসা পেলাম যা বলে শেষ করার মতো নয়। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। বাইরে চিকিৎসা করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না৷ সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে অনেক বাজে কথা শোনা যায়। এইসব অত্যন্ত বাজে কথা আমি এখানে এসে বুঝতে পারলাম। এই ডাক্তারবাবুরা আমার কাছে ভগবানের মতো।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More