৮৪তেও হার মানতে নারাজ জটু লাহিড়ী, টিকিট না পেয়ে গেরুয়ার পথে হাওড়ার বিধায়ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: ক্ষোভের আগুন হাওড়াতেও। টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চললেন হাওড়া সদরের তৃণমূলের দুই প্রাক্তন বিধায়ক। শিবপুর কেন্দ্রের জটু লাহিড়ী ও সাঁকরাইল কেন্দ্রের শীতল সর্দার। তাঁরা জানান, খুব শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দেবেন তাঁরা। বিজেপির টিকিট পেলে জিতে দেখিয়ে দেবেন বলেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন তৃণমূলের দুই প্রবীণ নেতা।

শিবপুরের পাঁচ বারের বিধায়ক ছিলেন জটু লাহিড়ী। শীতল সর্দার তিনবারের বিধায়ক। বয়সজনিত কারণে তৃণমূল এবার দুজনকে প্রার্থী করেনি। জটু লাহিড়ীর দাবি, বয়স ৮৪ বছর হলেও প্রতিদিন তিনি মানুষেকে পরিষেবা দিয়ে যান। বিজেপিতে নাম লেখাতে ব্যস্ত এই নেতা এরজন্য তুলে আনলেন রাম প্রসঙ্গও। মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘এলাকায় রামমন্দির তৈরি করেছিলাম আমি, যা ছিল এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। রাম নাম শুনলেই নেত্রী চটে যান। তাতে কিছু যায় আসে না।’’ বার্ধক্যভাতা ও বিধবাভাতা নিয়ে তৃণমূল মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে বলেও তাঁর দাবি।

জটু লাহিড়ী জানান মুকুল রায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। প্রার্থী করা হোক আর না হোক তিনি বিজেপি করবেন বলেও জানান জটু লাহিড়ী।

অন্যদিকে টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ শীতল সর্দার দাবি করেন, গত লোকসভা নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলকে লিড দিয়েছিলেন তিনি। এই কেন্দ্রের প্রায় ৩৪ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট ঘাসফুলে পড়েছে তাঁরই জন্য। এলাকার মানুষ তাঁকেই চায় বলেও জানান।

তবে এই দুই প্রবীণ নেতার বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে হাওড়া সদরের সভাপতি সুরজিৎ সাহার কাছে এখনও কোনও খবর নেই। তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে এরকম কোনও খবর নেই। অফিসিয়ালি যোগদান করলে আমি জানতে পারতাম।’’

এদিকে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ‘কাজের মানুষ বিভাস হাজরাকে চাই’ বলে ফ্লেক্স লাগানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে বিভাস হাজরার অনুগামীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভও দেখান। এই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারিকে। তাঁকে বহিরাগত বলে কটাক্ষ করেন বিভাস অনুগামীরা। তবে কি বিভাস হাজরাও যাচ্ছেন বিজেপিতে। বিভাসের নিজের কথায়, ‘‘মানুষ যদি আমাকে চায় তাহলে অবশ্যই ভাবনাচিন্তা করব।’’

তৃণমূলের সদরের চেয়ারম্যান অরূপ রায় বলেন, ‘‘দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যাকে মনে করেছে তাঁকেই প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁদের হয়ে লড়াই করতে হবে। কে বিজেপিতে গেল আর কে বিক্ষোভ দেখাল তাতে কিছু আসে যায় না। সবক’টি আসনেই জয়লাভ করবে তৃণমূল।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More