ভেসে গেছে কাজিরাঙাও, প্রাণ বাঁচাতে উঁচু জায়গায় ঠাঁই নিচ্ছে গন্ডাররা

বন্যপ্রাণীদের বাঁচাতে যানবাহনের গতি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে জাতীয় সড়কে। যেসব যানবাহন নির্ধারিত করে দেওয়া গতি মানছে না, তাদের জরিমানা করছে প্রশাসন।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের বন্যায় চূড়ান্ত বিপদের মুখে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণ। পরিস্থিতি এমনি যে প্রাণ বাঁচাতে বনাঞ্চল ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছে বনের প্রাণীরা। যদি আশ্রয় নেওয়ার মতো উঁচু জায়গার খোঁজ মেলে। জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে মাঝেমাঝেই দেখা যাচ্ছে গন্ডার সহ একাধিক বনের পশুদের। তাই যানবাহনের গতি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে জাতীয় সড়কে।

বন্যপ্রাণীদের বাঁচাতে বসানো হয়েছে সিসিটিভি-সহ একাধিক যন্ত্র। যেসব যানবাহন নির্ধারিত করে দেওয়া গতি মানছে না, তাদের জরিমানা করছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ৪০ টির বেশি বন্যপ্রাণীর মারা যাওয়ার খবর মিলেছে। কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের অধিকর্তা পি শ্রীনিবাস জানান, মৃত বন্যপ্রাণের মধ্যে একটি গন্ডারও রয়েছে।

কাজিরাঙার মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া জাতীয় সড়কে হঠাৎ হঠাৎই দেখা যাচ্ছে এক একটি পূর্ণবয়স্ক গন্ডারকে। একেক সময় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে শাবককে রাজপথ পার করাতেও দেখা যাচ্ছে তাদের। দুদিকে তখন দাঁড়িয়ে যানবাহন।

জল নামায় অসমের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০। অসমের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি জানিয়েছে, ১২ জেলায় মোট ১.৭ লক্ষ মানুষ বন্যা বিধ্বস্ত। সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বরপেটা জেলা। এই জেলায় বন্যা কবলিত প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০ জন মানুষ। তারপরেই ক্ষতিগ্রস্ত ধেমাজি ও গোয়ালপাড়া। ধেমাজিতে বন্যাবিধ্বস্ত প্রায় ৪৮ হাজার মানুষ। গোয়ালপাড়ায় এই সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। জোড়হাট ও ধুবড়িতে এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে ব্রক্ষ্মপুত্র নদ। ধানসিড়ি ও দিসাং নদীর জলও বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। এখনও জলের নীচে ৩৪৮টি গ্রাম। প্রায় ২৭ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত। গোয়ালপাড়া, বরপেটা, মাজুলি ও লখিমপুরে রাস্তা-সহ অন্যান্য পরিকাঠামোর ব্যপক ক্ষতি হয়েছে বলে অসমের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি সূত্রে জানা গেছে।

যে সব জেলায় এখনও বন্যার জলে আটকে রয়েছেন অসংখ্য মানুষ সেখান থেকে তাঁদের উদ্ধারের ক্রমাগত চেষ্টা চালাচ্ছেন এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ-এর বিশেষ টিম। উদ্ধার করা মানুষদের সরাসরি পাঠানো হচ্ছে ত্রাণ শিবিরে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যাঁরা বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। এর আগে মে মাসে ভূমিধসে অসমে মৃত্যু হয়েছিল মোট ২৪ জনের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More