ভিড়ে বিশৃঙ্খলা, গাড়িতে বসেই উত্তরপাড়ার প্রার্থী কাঞ্চন বললেন, ‘বিশ্বাস করুন মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে চাই’

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ভিড় জমছিল বিকাল থেকেই। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দু’ঘণ্টা পর এসে পৌঁছলেন প্রার্থী। সন্ধে হয়ে গেছে তখন। তিনি এসে পড়তেই তৈরি হল চরম বিশৃঙ্খলা। তাঁকে একবার ছুঁতে, হাত ধরতে পড়ে গেলো হুড়োহুড়ি। কেউ কেউ রাস্তায় উল্টে পড়েও গেলেন। ফের উঠে দাঁড়িয়ে ধুলো ঝেড়ে ছুটলেন গাড়ির দিকে।

এমন হুড়োহুড়ির মধ্যেই কোনওরকমে তাঁকে নামানো হল শিবতলা তৃণমূল পার্টি অফিসে। ফুল মালা শঙ্খধ্বনিতে সংবর্ধনা দেওয়া হল দলের প্রার্থী অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিককে। সেখানে দলীয় কর্মীদের কাঞ্চন বললেন, ‘‘এটা ভাবলে হবে না পরিযায়ী হিসেবে এসেছি, আবার চলে যাব।  এটাও ভাবলে হবে না যে নির্বাচন মিটে গেলে কোনও অনু্ষ্ঠান করতে এসে পয়সা নেব।’’  ধাক্কাধাক্কিতে তখন চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা সেখানে। কোনওরকমে ঠেলেঠুলে তাঁকে তুলে দেওয়া হল গাড়িতে। গাড়ি ঘিরেও তখন উত্তাল জনতা। কোনওরকমে গাড়িতে উঠে কাঞ্চন মল্লিক বললেন, ‘‘দলীয় কর্মীদের উষ্ণতা আমার মন জয় করে নিয়েছে। আমি উত্তরপাড়ার মানুষের পাশে আছি। গাড়িতে বসে হাত নাড়িয়ে নয়, বিশ্বাস করুন মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়ে মানুষের কাজ করতে চাই।’’

সে সব প্রতিশ্রুতি অবশ্য তখন শোনার সময় নেই কারও। সেলিব্রিটি প্রার্থীকে একবার ছুঁয়ে দেখতে তখন ঠেলাধাক্কা চলছে।

২০১৬র ভোটে উত্তরপাড়ায় তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন প্রবীর ঘোষাল। এবার তিনি গেরুয়া শিবিরে। তাঁর নাম উঠতেই এবারের প্রার্থী কাঞ্চন মল্লিক বললেন, ‘‘প্রবীর ঘোষাল তো চলে গেছেন বিজেপিতে তাই এখন তো তিনি বহিরাগত।’’

প্রবীর ঘোষালের উত্তর, ‘‘কোন্নগরে আমার বাড়ির পুজোর বয়সই পাঁচশ বছর। তাই আমাকে যদি কেউ বহিরাগত বলেন তাকে লোকে পাগলও বলতে পারে। সেলিব্রিটি প্রার্থী হলে কি হয় তা উত্তরপাড়ার মানুষ টের পেয়েছে আগে। বিজেপি এমনিতে উর্বর জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই তৃণমূলের স্থানীয় প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More