রাজারা নেই, কিন্তু ঐতিহ্য মেনেই মকর সংক্রান্তিতে ঘুড়ির মেলা বর্ধমানের আকাশে

ঘুড়ির মেলার জন্য প্রায় একমাস আগে থেকে শুরু হয় প্রস্তুতি। পরপর তিনদিন বর্ধমানের তিনটি এলাকায় ঘুড়ির মেলা বসে। নানা জায়গায় ঘুড়ির দোকান খোলা হয়। সেখান থেকে ঘুড়ি আর লাটাই বিক্রি করা হয়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: আজ বর্ধমানের আকাশ মুখ ঢেকেছিল পেটকাটি চাঁদিয়াল আর বগগা ঘুড়িতে। প্রায় গোটা রাজ্যেই ঘুড়ির দিন বলে চিহ্নিত থাকে বিশ্বকর্মা পুজোর দিনটাই। তবে বর্ধমানের ঐতিহ্য কিন্তু  মকর সংক্রান্তির দিন ঘুড়ি ওড়ানো।

ঘুড়ির মেলার জন্য প্রায় একমাস আগে থেকে শুরু হয় প্রস্তুতি। পরপর তিনদিন বর্ধমানের তিনটি এলাকায় ঘুড়ির মেলা বসে। নানা জায়গায় ঘুড়ির দোকান খোলা হয়। সেখান থেকে ঘুড়ি আর লাটাই বিক্রি করা হয়। মাঞ্জা তৈরির ব্যস্ততা থাকে ঘরে ঘরে। নানা উপকরণ দিয়ে সুতোয় মাঞ্জা দেওয়া হয়। এখন অবশ্য বাজারে সহজেই মেলে চাইনিজ সুতো। তাই মাঞ্জা দেওয়ার হ্যাপা কম।

সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন বাড়ির ছাদে দলে দলে ছেলেমেয়েদের ভিড়। আকাশ মুখ ঢেকেছে রঙীন ঘুড়িতে। তারমধ্যেই চলছে নানা কসরত। লড়াইও। মাঝেমধ্যেই আওয়াজ উঠছে ‘ভোকাট্টা’। রাজ আমল থেকেই এই ঐতিহ্য চলে আসছে। এখনও বর্ধমান সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। আগের চেয়ে সংখ্যায় কম হলেও এখনও মকরসংক্রান্তি মানেই জমজমাট ঘুড়ির লড়াই।

ইতিহাসবিদ সর্বজিৎ যশ জানান, রাজা মহতাব চাঁদের আমলের শেষ দিকে গোটা শহরে ঘুড়ি ওড়ানো শুরু হয়। রাজবাড়িতে আগে থেকেই ঘুড়ি ওড়ানো হত। মকর সংক্রান্তির দিন দামোদরের সদরঘাটে ময়ূরপঙ্খী মেলা হতো। দক্ষিণ দামোদর এলাকার বাসিন্দারা গরুরগাড়িকে ময়ূরের মত সাজিয়ে নিয়ে আসতেন। হত গানের লড়াই। মূলত রাধা কৃষ্ণ নিয়েই গান হতো ময়ূরপঙ্খী মেলায়। সেখানে যে ভালো গান করে রাজার মন জয় করতো, তাকে পুরস্কার দিতেন রাজা।

তবে রাজ আমলের অবলুপ্তির পর সে সবই এখন ইতিহাস। তবে রয়ে গেছে মকর সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানোর চল। পিঠেপুলির সঙ্গেই বর্ধমানে মকরসংক্রান্তির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই ঘুড়ির ঐতিহ্য।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More