গভীর রাতে ঘরে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে কুপিয়ে খুন, ঘায়েল বাড়ির কর্তা, চাঞ্চল্য কোচবিহারের মারুগঞ্জে

ঘুম ভেঙে ওই যুবককে চিনে ফেলেন রেজিনা। এতেই কাল হয় তাঁর। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই দুষ্কৃতী প্রথমে তাঁর হাতের শিরা কেটে দেয়। পরে এলোপাথাড়ি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে তাকে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার:রাতের অন্ধকারে গৃহকর্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করল আততায়ী। ধারালো অস্ত্রের এলোপাথাড়ি কোপে জখম হয়েছেন ওই মহিলার স্বামী। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। ঘনবসতি এলাকায় এমন ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে কোচবিহারের মারুগঞ্জ এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে মৃতার নাম রেজিনা বিবি (৪৫)। তাঁর স্বামীর নাম আলি হোসেন। মঙ্গলবার রাত দুটো নাগাদ এলাকার এক যুবক বাড়িতে চুরি করতে ঢোকে বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। ঘুম ভেঙে ওই যুবককে চিনে ফেলেন রেজিনা। এতেই কাল হয় তাঁর। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই দুষ্কৃতী প্রথমে তাঁর হাতের শিরা কেটে দেয়। পরে এলোপাথাড়ি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে তাকে। ওই ঘরেই বিছানায় শুয়ে ছিলেন গৃহকর্তা আলি হোসেন। হার্টের রোগে একরকম শয্যাশায়ী তিনি। তাঁকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দুষ্কৃতী। কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।

আলি হোসেনের বাড়ির পাশেই থাকেন তাঁর মেয়ে ও জামাইও। রাত দু’টো নাগাদ আততায়ী ঘরে ঢুকেছিল বলে অনুমান। রাত তিনটে নাগাদ মা-বাবার ঘর থেকে আর্তচিৎকার শুনতে পান রেজিনা দেবীর মেয়ে-জামাই। ছুটে আসেন তাঁরা। এসে দেখেন রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘর। পড়শিরাও ছুটে আসেন। দুজনকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওনা হন তাঁরা। রেজিনাবিবির মেয়ে জানান, তাঁরা যখন ঘরে ঢুকেছিলেন তখনও বেঁচে ছিলেন তাঁর মা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হয়েছিল চুরি করতে এসেছিল দুষ্কৃতী। চিনে ফেলায় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। কিন্তু পরে পারিবারিক শত্রুতার অভিযোগ উঠে আসছে। রেজিনা বিবি ও আলি হোসেনের মেয়ে জামাই জানিয়েছেন দিন কয়েক আগে মাঠে গরু চড়ানো নিয়ে এলাকার একটি পরিবারের সঙ্গে বচসা হয়েছিল তাঁদের। তখন ওই পরিবার থেকে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট যুবকের বিরুদ্ধে তুফানগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন রেজিনা বিবির মেয়ে-জামাই। তবে এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনা খুবই গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সমস্ত দিকই বিবেচনা করা হচ্ছে। খুব দ্রুত খুনি ধরা পড়বে বলে মনে করছে পুলিশ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More