১৭ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়ায় ১৪ দিনের লকডাউন ডালখোলায়, বন্ধ দোকানপাটও

ডালখোলা পুরসভা এলাকার বাসিন্দা এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ৩০ শে জুন শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। সতর্কতা অবলম্বন করতে জুলাই মাসের ২ এবং ৩ তারিখে ওই ব্যক্তির সান্নিধ্যে এসেছিলেন এমন প্রায় ২০০ জনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সোমবার সকালে কোভিড টেস্টের রিপোর্ট আসলে দেখা যায় মোট ১৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর : করোনা আতঙ্কে ফের ১৪ দিন লকডাউন ঘোষণা হল ডালখোলা পুরসভা এলাকায়। ৮ জুলাই থেকে শুরু হবে লকডাউন।

ডালখোলা পুরসভা এলাকার বাসিন্দা এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ৩০ শে জুন শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। সতর্কতা অবলম্বন করতে জুলাই মাসের ২ এবং ৩ তারিখে ওই ব্যক্তির সান্নিধ্যে এসেছিলেন এমন প্রায় ২০০ জনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সোমবার সকালে কোভিড টেস্টের রিপোর্ট আসলে দেখা যায় মোট ১৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ। এরপরেই নড়েচড়ে বসে পুর প্রশাসন।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্তারা প্রাক্তন কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানদের নিয়ে বসে জরুরি বৈঠকে বসে। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় করোনা সংক্রমণ রোধে ফের লকডাউন করা হবে ডালখোলা পুরসভা এলাকায়। পুর নাগরিকদের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায় তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন পুর প্রশাসক রহমত আলি।

রহমত আলি জানান, একসঙ্গে ১৭ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। তাই নাগরিকদের কথা ভেবে তাঁদের বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। লকডাউন চলাকালীন দোকান, বাজার সব বন্ধ থাকবে । তবে একইসঙ্গে নাগরিকদের আতঙ্কিত হতে বারণ করেন তিনি। পুর প্রশাসক রহমত আলি বলেন, ‘‘আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনও বিষয় নেই। সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।’’

গ্রিন জোন উত্তর দিনাজপুরে প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিস মেলে ৯ মে। ওইদিন জেলায় তিনজনের শরীরে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরা প্রত্যেকেই কলকাতা থেকে জেলায় গিয়েছিলেন। উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা জানিয়েছিলেন ওই তিন ব্যক্তিই ৭ তারিখ কলকাতা থেকে রায়গঞ্জে আসেন। তাঁদের শরীরে করোনার কোনও উপসর্গ ছিল না। কিন্তু স্বাস্থ্য দফতরের প্রোটোকল মেনেই তাঁদের লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এবং যাঁদের শরীরে কোনও উপসর্গ ছিল না তাঁদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। পরে ওই তিনজনের রিপোর্ট পজেটিভ আসে।’’

এরপরে দেশজুড়ে করোনার দাপট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জেলাতেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবথেকে উদ্বেগের, যাঁদের করোনা ধরা পড়েছে তাঁদের অনেকেরই কোনও উপসর্গ ছিল না। স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা জানান, যাঁদের পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে তাঁদের অনেকেরই কোনও উপসর্গ নেই। নিয়মমাফিক পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়েছে। এটাই সবথেকে উদ্বেগের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More