ধূপগুড়ির দুর্ঘটনায় সন্তান-সহ পরিবারের সাতজনকে হারালেন ওদলাবাড়ির বাসিন্দা, হাসপাতালে একা শিশু কাঁদছে মায়ের জন্য

পরিবারের সাত সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়ে চোখের জলও শুকিয়ে গেছে কামেশ্বরবাবুর। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই ছুটে এসেছেন ওদলাবাড়ি থেকে। শয্যায় শুয়ে সমানে মাকে খুঁজে চলেছে বছর ছয়েকের এক শিশু। তার মা-বাবার দেহ পড়ে রয়েছে মর্গে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: সপরিবারে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে ওদলাবাড়ি থেকে রানিরহাটে এসেছিলেন কামেশ্বর সিং। ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে মেয়ের বিয়ে। পাট চুকতেই স্ত্রীকে নিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ওদলাবাড়ি। বিয়েবাড়িতে থেকে যান কামেশ্বরবাবুর মেয়ে-জামাই ও নাতি নাতনিরা। থেকে যান ভাই-ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাইপো ভাইঝিরাও। বউভাতের নিমন্ত্রণ রক্ষা করে ফেরার কথা তাঁদের। কিন্তু তাঁদের সবাইকে যে এভাবে হারাতে হবে ভাবতে পারেননি।

পরিবারের সাত সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়ে চোখের জলও শুকিয়ে গেছে কামেশ্বরবাবুর। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই ছুটে এসেছেন ওদলাবাড়ি থেকে। বুধবার সকাল থেকে উদভ্রান্তের মতো ছুটে বেড়াচ্ছেন জলপাইগুড়ি হাসপাতাল চত্বরে। একদিকে মেয়ে-জামাই-নাতি-নাতনি, অন্যদিকে ভাই-ভাইয়ের বউ-ভাইপো-ভাইজিকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন এই প্রৌঢ়। স্বজন যাঁরা কাছে আছেন, তাঁদেরও ভাষা নেই কামেশ্বরবাবুকে দুটো সান্তনার কথা শোনানোর।

মঙ্গলবার রাতে ময়নাগুড়ির রানিরহাট থেকে বউভাতের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ধুপগুড়ি যাচ্ছিল কনেযাত্রী বোঝাই পাঁচটি ছোটগাড়ি। পথে বোল্ডার বোঝাই ওভারলোডেড ট্রাকের নীচে চাপা পড়ে যায় কনেযাত্রীদের দুটি গাড়ি। ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৪ জনের। যার মধ্যে রয়েছে চার শিশুও। দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন ১৮ জন। এরমধ্যে কামেশ্বরবাবু হারিয়ে ফেলেছেন তাঁর সন্তান-সহ সাত নিকটাত্মীয়কে।

আরও পড়ুন: ধূপগুড়ি দুর্ঘটনায় মৃত ও আহত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা মোদীর, শুরু রাজনৈতিক চাপান-উতোরও

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কনেযাত্রীর পাঁচটি ছোট গাড়ি যাচ্ছিল ময়নাতলি এলাকায়। কিন্তু রাস্তা ফাঁকা থাকায় গাড়িগুলি যাচ্ছিল উল্টোদিকের লেন ধরে। অন্যদিকে সেই লেন ধরেই আসছিল ১০ চাকার ওই বোল্ডার বোঝাই ট্রাকটি। একই লেনে হওয়ায় কনেযাত্রীদের একটি গাড়ির সঙ্গে ট্রাকটির ধাক্কা লাগে। তাতে সেটি কাত হয়ে যায়। ট্রাকের ডালা খুলে পাথরের টুকরো রাস্তার উপর পড়তে শুরু করে। সেই সময় কনেযাত্রীর আরও দুটি গাড়ি পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ট্রাকের তলায় চাপা পড়ে গাড়ি দুটি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় ধুপগুড়ি থানার বিশাল টিম। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। কিন্তু বোল্ডার তুলে উদ্ধারকাজ করতে অনেকটা সময় গড়িয়ে যায়। বেশ কয়েকটি ক্রেনও নিয়ে আসা হয়। ঘটনাস্থলেই চার শিশু-সহ ১২ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরও দু’জনের।

বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তে বদলে যায় শোকে। স্বজল হারানোর কান্নায় এখন ভারী জলপাইগুড়ি হাসপাতাল চত্বর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শয্যায় শুয়ে সমানে মাকে খুঁজে চলেছে বছর ছয়েকের এক শিশু। তার মা-বাবার দেহ পড়ে রয়েছে মর্গে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More