ফের ঝাড়গ্রামে মাওবাদীদের নামে পোস্টার, এবার নিশানায় পঞ্চায়েত প্রধান

মঙ্গলবার সকালে জামবনি থানার বালিজুড়ি গ্রামে মাওবাদীদের নামে পোস্টার দেখেই চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। পোস্টারের খবর পেয়েই জামবনি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পোস্টারগুলি ছিঁড়ে নিয়ে চলে যায়। পুজোর আগে ফের মাওবাদীদের নামে পোস্টার পড়ায় রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: ঠিকাদারের পর এবার গ্রামপঞ্চায়েত প্রধানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মাওবাদী পোস্টার পড়ল জঙ্গলমহলে। মঙ্গলবার সকালে জামবনি থানার বালিজুড়ি গ্রামে মাওবাদীদের নামে পোস্টার দেখেই চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়।

পোস্টারগুলিতে লাল কালিতে লেখা ছিল ‘কাপগাড়ি অঞ্চলের চোরদের খতম তালিকা, (১) প্রধান (এক কোটি টাকার দুর্নীতি) এবং (২) ইঞ্জিনিয়ার। অন্য একটি পোস্টারে লেখা ‘মাওবাদী আছে। সারাজীবন থাকবে।’ নীচে উল্লেখ রয়েছে সিপিআই (মাওবাদী)। পোস্টারের খবর পেয়েই জামবনি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পোস্টারগুলি ছিঁড়ে নিয়ে চলে যায়। পুজোর আগে ফের মাওবাদীদের নামে পোস্টার পড়ায় রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ঝাড়গ্রাম জেলার উচ্চপদস্থ এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ‘‘এগুলি মাওবাদীদের দেওয়া পোস্টার নয়। স্থানীয় কিছু মানুষ এরকম পোস্টার দিয়ে এলাকাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে।’’

১৫ ই আগস্ট বেলপাহাড়ি বাঁকশোল ও শালতল- সহ একাধিক গ্রামে সিপিআই মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধার হয়।  এই পোস্টারগুলিতে ১৫ ই অগস্টকে কালা দিবস হিসেবে পালনের আর্জি জানিয়েছিল মাওবাদীরা। তার কিছুদিন পরেই বেলপাহাড়ি থানা থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরে হড়দার মোড়ে এক কন্ট্রাক্টরকে কাজ বন্ধ করার হুমকি দিয়ে মাওবাদীদের নামে পোস্টার পড়ে। তার কিছুদিনের মধ্যেই বেলপাহাড়ির বাঁশপাহাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ণাপানি গ্রামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা চেয়ে মাওবাদীদের নামে চিঠি পাঠানো হয়। অভিযোগ, টাকা না দেওয়ায় রাতের অন্ধকারে গুলিও চলেছিল ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে।

কিছুদিন আগে বেলপাহাড়ির ঢাঙ্গিকুসুমে বেড়াতে যাওয়া কয়েকজন পর্যটক অভিযোগ করেন সেখানে ৭ জন সশস্ত্র মাওবাদী  তাঁদের উপর হামলা চালায়। তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। তারপরেই ঝাড়গ্রামে ছুটে আসেন রাজ্য পুলিশের ডিজিপি বীরেন্দ্র। ঝাড়গ্রাম পুলিশ লাইনে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি ঢাঙ্গিকুসুম গ্রামের ওই স্থানটি পরিদর্শনে যান ডিজি। তবে পুলিশি তদন্তে ওই ঘটনার কোনও প্রমাণ মেলেনি।

৭ই অক্টোবর ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছিলেন কিছু মানুষ টাকার বান্ডিল নিয়ে এই এলাকায় মাওবাদী ঢুকিয়ে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। পুজোর ঠিক আগে মঙ্গলবার আবার মাওবাদী পোস্টার উদ্ধারকে কেন্দ্র করে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে। এই পোস্টারগুলি মাওবাদীদের নামে কেউ ছড়িয়েছে কি না,  তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More