মাওবাদীদের নামে পোস্টার এবার পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ও বরাবাজারে

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বরাবাজার থানার বাঁশবেরা গ্রাম পঞ্চায়েতের রানসি মোড়ে একটি বাড়ির দেওয়ালে লাল কালিতে লেখা পোস্টারে কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি বিলের বিরোধিতা করা হয়েছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: এ বার মাওবাদীদের নামে পোস্টার পড়ল বান্দোয়ান ও বরাবাজার থানা এলাকায়। লিফলেট ও ছবি- সহ হিন্দি অক্ষরে তাঁদের দলের বেশ কয়েকজন নেতার মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে এই পোস্টারে। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে পোস্টারগুলি উদ্ধার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বরাবাজার থানার বাঁশবেরা গ্রাম পঞ্চায়েতের রানসি মোড়ে একটি বাড়ির দেওয়ালে লাল কালিতে লেখা পোস্টারে কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি বিলের বিরোধিতা করা হয়েছে। লেখা রয়েছে, হাজার হাজার একর জমি দখল করে মিত্তাল, বেদান্ত, জিন্দাল, টাটাদের প্রকল্প বানানোর ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করুন। অবিলম্বে সমস্ত রাজনৈতিক বন্দিদের নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে। আগামী ২ থেকে ৮ ডিসেম্বর পিএলজিএ ২০ তম বর্ষপূর্তি উদ্দীপনার সঙ্গে পালন করুন।

পুরুলিয়া জেলার ঝাড়খণ্ড লাগোয়া এই এলাকা গুলিতে ঝাড়খণ্ড থেকে মাওবাদীরা এসে পোস্টারগুলি লাগিয়ে দিয়ে যায় বলেই এলাকার মানুষের অনুমান। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

২৩ নভেম্বর বীরভূমের লোকপুর থানার খড়িকাবাদ গ্রামের নির্মীয়মাণ একটি বাড়িতে বেশ কয়েকটি মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার দেখতে পান এলাকার মানুষ। সাদা কাগজের উপর অপটু হাতে লাল রঙে লেখা ‘মাওবাদ এক হও, আমাদের অধিকার ছিনিয়ে লিব, পুলিশগিরি চলবে না, সিআরপিএফ চলবে না, দাদাগিরি চলবে না, লাল সালাম।’ পোস্টারগুলি দেখার পরেই গ্রামে আতঙ্ক ছড়ায়। বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন গ্রামবাসীরা। গ্রামে পুলিশ পৌঁছয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করে  পুলিশ।

এর আগে গত ১৫ ই অগস্ট ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি বাঁকশোল ও শালতল-সহ একাধিক গ্রামে সিপিআই মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধার হয়।  এই পোস্টারগুলিতে ১৫ ই অগস্টকে কালা দিবস হিসেবে পালনের আর্জি জানিয়েছিল মাওবাদীরা। তার কিছুদিন পরেই বেলপাহাড়ি থানা থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরে হড়দার মোড়ে এক কন্ট্রাক্টরকে কাজ বন্ধ করার হুমকি দিয়ে মাওবাদীদের নামে পোস্টার পড়ে। তার কিছুদিনের মধ্যেই বেলপাহাড়ির বাঁশপাহাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ণাপানি গ্রামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা চেয়ে মাওবাদীদের নামে চিঠি পাঠানো হয়। অভিযোগ, টাকা না দেওয়ায় রাতের অন্ধকারে গুলিও চলেছিল ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে।

কিছুদিন আগে বেলপাহাড়ির ঢাঙ্গিকুসুমে বেড়াতে যাওয়া কয়েকজন পর্যটক অভিযোগ করেন সেখানে ৭ জন সশস্ত্র মাওবাদী  তাঁদের উপর হামলা চালায়। তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। তারপরেই ঝাড়গ্রামে ছুটে আসেন রাজ্য পুলিশের ডিজিপি বীরেন্দ্র। ঝাড়গ্রাম পুলিশ লাইনে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি ঢাঙ্গিকুসুম গ্রামের ওই স্থানটি পরিদর্শনে যান ডিজি। তবে পুলিশি তদন্তে ওই ঘটনার কোনও প্রমাণ মেলেনি।

২০ অক্টোবর গ্রামপঞ্চায়েত প্রধানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফের মাওবাদী পোস্টার পড়ে জঙ্গলমহলে। ওই দিন সকালে জামবনি থানার বালিজুড়ি গ্রামে মাওবাদীদের নামে পোস্টার দেখেই চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। পোস্টারের খবর পেয়েই জামবনি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পোস্টারগুলি ছিঁড়ে নিয়ে চলে যায়।

বাম আমলে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ জঙ্গলমহলের অন্যান্য জেলায় মাওবাদীদের গতিবিধি নজরে এসেছিল। ২০১১ সালের পর থেকে তা কমতে থাকে। সম্প্রতি জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে মাওবাদীরা আবার নাথাচাড়া দিচ্ছে বলে গোয়েন্দাসূত্রে খবর। পরপর বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার উদ্ধারের ঘটনায় সেই আশঙ্কা আরও জোরদার হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More