বাজি পোড়ানোয় রাশ টানার আর্জি করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে শঙ্কিত জলপাইগুড়ির স্বাস্থ্যকর্তার

নবমী এবং দশমীর বাঁধন ছাড়া উল্লাস বিপদ বাড়িয়েছে বলে মনে করেন উত্তরবঙ্গে করোনা মোকাবিলার দায়িত্বে থাকা অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাঃ সুশান্ত রায়। আসন্ন দীপাবলিতে মেতে গিয়ে মানুষজন যাতে বাজি না পোড়ান সেই অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কোভিড ফুসফুসের অসুখ। কোভিড আক্রান্তদের ফুসফুসে সমস্যা হয়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়াল। মৃত্যু হয়েছে ৮৭ জনের। নবমী এবং দশমীর বাঁধন ছাড়া উল্লাস বিপদ বাড়িয়েছে বলে মনে করেন উত্তরবঙ্গে করোনা মোকাবিলার দায়িত্বে থাকা অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাঃ সুশান্ত রায়।

স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর ২০২০ তারিখ পর্যন্ত জলপাইগুড়িতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯১৫০ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮০১৮ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ৮৭।

জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের কার্যালয়ে এ দিন জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির জেলাশাসক, জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা। ডাক্তার সুশান্ত রায় জানান, এই পরিস্থিতিতে জলপাইগুড়ি জেলায় করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এতদিন গড়ে ১১০০ মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হত। তা বাড়িয়ে ২৫০০ করা হচ্ছে। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘‘দুর্গাপুজোর নবমী ও দশমীতে বাঁধন ছাড়া উল্লাসের প্রভাব ইতিমধ্যে জলপাইগুড়িতে পড়তে শুরু করেছে। ক্রমেই বাড়ছে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা। আমরা যদি ভেবে বসে থাকি গ্রামগুলি গ্রিন জোনে আছে তবে ভুল হবে। আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে গ্রামের অবস্থা ঠিক কী? যদি দেখা যায় গ্রামে পজেটিভ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।’’

আসন্ন দীপাবলিতে মেতে গিয়ে মানুষজন যাতে বাজি না পোড়ান সেই অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কোভিড ফুসফুসের অসুখ। কোভিড আক্রান্তদের ফুসফুসে সমস্যা হয়। যারা করোনা পজিটিভ হয়ে বসে আছেন কিন্তু বুঝতে পারছেন না তাদেরও ফুসফুসে চাপ পড়ছে। যারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তাদেরও ফুসফুসে ফাইব্রোসিস থেকে যেতে পারে। ফলে তাঁদেরও অক্সিজেন নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। এরমধ্যে যদি বাজি পোড়ানো হয় তবে তা থেকে যে দূষণ ছড়াবে তাতে কোভিড রোগীদের শ্বাসকষ্টজনিত কষ্ট বাড়তে পারে।’’

এই স্বাস্থ্যকর্তা জানান, অক্সিজেন প্ল্যান্টগুলির উৎপাদন ক্ষমতার একটা সীমা আছে যা ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছে গেছে। ফলে অক্সিজেন সাপ্লাই হচ্ছে কম। ফলে আরও বেশি অক্সিজেন লাগলে যোগানে সমস্যা হবে। এই পরিস্থিতিতেই এবার দীপাবলীতে বাজি পোড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More