করোনার ভয়ে ১৮ টি পরিবারের ছট পুজোর জন্য গ্রামেই পুকুর কাটল পঞ্চায়েত

জলপাইগুড়ি অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের গোমস্তাপাড়া এলাকার ১৮ টি পরিবার জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন নদী ঘাটে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছটপুজো করে আসছেন। কিন্তু এবছর করোনা সংক্রমণ হওয়ায় কী ভাবে তাঁরা পূজো করবেন তা নিয়ে সমস্যায় পড়েন। সমাধানের পথ খুঁজতে এলাকার পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয় পরিবারগুলি।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: নদীর ঘাটে ছট পুজো করতে গিয়ে যদি করোনা আক্রান্ত হন গ্রামবাসীরা, তাই গ্রামেই পুকুর খুড়ে ফেলল গ্রাম পঞ্চায়েত।

জলপাইগুড়ি অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের গোমস্তাপাড়া এলাকার ১৮ টি পরিবার জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন নদী ঘাটে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছটপুজো করে আসছেন। কিন্তু এবছর করোনা সংক্রমণ হওয়ায় কী ভাবে তাঁরা পূজো করবেন তা নিয়ে সমস্যায় পড়েন। সমাধানের পথ খুঁজতে এলাকার পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয় পরিবারগুলি।

এরপর স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা এলাকার এক সহৃদয় ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। পুজো হয়ে গেলে আবার পুকুর বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলে তিনি রাজি হয়ে যান। এরপর আর্থ মুভার দিয়ে মাটি খুঁড়ে শুরু হয় ঘাট তৈরির কাজ। পঞ্চায়েতের এই উদ্যোগে দুশ্চিন্তামুক্ত হয় পরিবারগুলি।

স্থানীয় পঞ্চায়েত রাজেশ মণ্ডল বলেন, ‘‘আমার এখানে ১৮ টি পরিবার শহরের বিভিন্ন নদী ঘাটে গিয়ে ছট পুজো করত। কিন্তু এই বছর করোনা সংক্রমণের ভয়ে তাঁরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমি স্থানীয় এক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে তাঁর জমিতে পুকুর খোঁড়ার ব্যবস্থা করলাম। এই ১৮ টি পরিবার সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে এবার পাড়াতেই পুজো করবে।  পাড়ার লোক পাড়ায় থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা কম। তাই পুকুর খোড়ার ব্যবস্থা করলাম।’’

গ্রামবাসী রিয়া ঘোষদেব বলেন, ‘‘বাইরে গেলে সংক্রমণ বাড়তে পাড়ত। তাই আমাদের পঞ্চায়েত পাড়াতেই পুকুর খুড়ে দিলেন। এতে আমরা খুব খুশি। আমরা এবার পাড়াতেই ছট পুজো করব।’’

করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার সময় প্রচণ্ড আতঙ্কিত ছিলেন গ্রামবাসীরা। এলাকাবাসীদের দাবি ছিল তাঁদের এলাকা নিয়মিত স্যানিটাইজ করতে হবে। পঞ্চায়েতে পরিকাঠামো না থাকায় গ্রামবাসীদের আতঙ্ক দূর করতে টিম গড়ে ড্রামে স্যানিটাইজার গুলে ওয়াটারিং ক্যান দিয়ে ক্রমাগত এলাকা স্যানিটাইজ করে নজির গড়েছিলেন রাজেশ মণ্ডল নামে পঞ্চায়েতের এক সদস্য। এবার ছটপুজোয় করোনা ঠেকাতে পুকুর খুড়ে ফের একবার নজির গড়ল এই পঞ্চায়েত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More