নেশার টাকার জন্য বাবা-মাকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে মার রানাঘাটে, ছেলেকে আটক করল পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: নেশার টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে বেপরোয়া মারধরের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে।  ওই যুবকের হামলা থেকে বাদ যায়নি তার বোনও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বৃদ্ধ বাবা ও মাকে রানাঘাট মহাকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে রানাঘাট থানার পুলিশ সুমন দাস নামে ওই যুবককে আটক করেছে।

ওই পরিবারটি রানাঘাটের রামকৃষ্ণ পল্লীর বাসিন্দা। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই নেশায় আসক্ত সুমন। পড়াশোনাও বন্ধ করে দেয় মাঝপথে। সুমনের বাবা সদানন্দ দাস গৃহশিক্ষকতা করে পরিবার প্রতিপালন করেন। গত কয়েক বছর ধরেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে সুমন। একই সঙ্গে জুয়ার নেশাতেও আসক্ত সে। ছেলের নেশার টাকা জোগাড় করতে করতে হিমসিম খেয়ে যাচ্ছিলেন বৃদ্ধ সদানন্দ দাস।

অভিযোগ, বাড়িতে মেয়ের বিয়ের জন্য যে সামান্য টাকা সঞ্চয় করেছিলেন, তাও জোর করে নিয়ে নেয় সুমন। মা মায়ারানি দাসকে মারধর করে হাতিয়ে নেয় সামান্য গয়না। এরপর আর কোনও টাকাপয়সা না থাকায় বাড়ি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য বাবার উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

বুধবার সন্ধ্যায় ফের চড়াও হয় মা বাবার উপর। সুমনের দিদি বীথি জানান, বাবা-মাকে ঘরের ভিতর চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে কিল-ঘুঁষি মারতে থাকে সে। এরপর হাতের কাছে যা পায় তাই দিয়েই মারতে থাকে। বিছানায় আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয় স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড-সহ অন্যান্য সমস্ত মূল্যবান নথি। তিনি বলেন, “ভাইয়ের ওই রুদ্র মূর্তি দেখে আমি ঘর থেকে কোনওরকমে পালিয়ে যাই। প্রায় এক ঘণ্টা তাণ্ডব চালানোর পর ও বাইরে চলে গেলে আমি মা বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।”

ছেলের মারে বৃদ্ধ মা-বাবা, দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এই অবস্থায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চাইছেন বীথি ও তাঁর বাবা-মা। পুলিশ জানিয়েছে, নেশা করে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে ওই যুবক। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More