কোথাও পাঁচিল, কোথাও হাইটবার, পথে নেমে জেরবার বোলপুরের মানুষ, সমস্যা মেটার দিশা নেই

ভুক্তভোগীদের কারও কারও আশঙ্কা, সামনেই নির্বাচন। তার মাঝে সময় বের করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন মুখোমুখি হওয়ার অবকাশ পাবে তো? নাকি সামনের দিনগুলি তাঁদের এমন আরও কিছু সিদ্ধান্তের ফল ভুগতে হবে!

দেবস্মিতা চট্টোপাধ্যায়, বোলপুর: বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ আর ভোটের আগে পাল্টে যাওয়া বীরভূম জেলা প্রশাসনের নতুন কর্তারা মুখোমুখি হননি প্রায় দু’মাস। বিশ্বভারতী ও প্রশাসনের ভিতরের খবর এমনটাই। সাক্ষাৎ না হওয়া এই সময়ের মধ্যেই কোথাও দীর্ঘ দিনের ব্যবহৃত রাস্তায় উঠেছে পাঁচিল। কোথাও আবার বিতর্কিত রাস্তায় বসানো হয়েছে হাইটবার। দু’পক্ষ মুখোমুখি বসে এই সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ফলে নানা সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

একই সঙ্গে তাঁদের কৌতুহল, তাহলে সমস্যাগুলোর সমাধান কবে হবে? কেউ মনে করিয়েছেন উচ্চ আদালতের নির্দেশিকার কথাও। কেননা আদালত যৌথ ভাবে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। বিষয়টি নজরে এসেছে বীরভূম জেলা প্রশাসনেরও। জেলার দায়িত্বে আসা নতুন জেলাশাসক দেবীপ্রসাদ করণম পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রথমে আসা যাক হাইট বার প্রসঙ্গে। শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন সংযোগকারী রাস্তাটি এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পূর্ত দফতরের অধীনে। পয়লা জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বুঝে নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে ঠিক যে কারণে রাস্তাটি বিশ্বভারতী নিজেদের অধীনে হোক এই আবেদন রেখেছিল সেই বিষয়টি পুনরায় উঠে আসে। কেননা গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির উপরেই রয়েছে উপাসনা গৃহ, ছাতিমতলা, রবীন্দ্রভবন, কলাভবন, সংগীতভবন, অমর্ত্য সেনের বাড়ি, বিনয়ভবন, শিক্ষাভবনের একটা অংশ সহ একাধিক ঐতিহাসিক ভাস্কর্য। রাস্তার উপর দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের ফলে সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা ভেবেই একসময় রাস্তাটি বিশ্বভারতীর তত্ত্বাবধানে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই জেলা প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পরে ওই রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণের জন্য সম্প্রতি উপাসনা গৃহের কাছে এবং অমর্ত্য সেনের বাড়ির কাছে দুটি হাইটবার বসানো হয়েছে। বিপত্তি সেখানেই।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, হাইটবারের উচ্চতা এতটাই কম যে, কোনও সময় দমকলের গাড়ির ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে সেই গাড়ি পেরোতে পারবে না। পড়ুয়াদের কথায়, “এখন নিতান্তই বিভাগগুলি বন্ধ। অন্য সময় আমরা বিশ্বভারতীর বাসে চেপে বিভাগে যাই। বিশ্বভারতীর বাসও আটকে যাবে। তাতে সমস্যা হবে।” প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, হাইটবারের উচ্চতা বাড়ানোর ব্যাপারটি দেখছেন তাঁরা। তাছাড়া কোনও সমস্যা হলে স্ক্রু খুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। তাই বিভ্রান্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশ্বভারতীর একটি সূত্রে খবর, দু’সপ্তাহ আগেই হাইটবার কেমন হলে ভাল হয় জানিয়ে একটি মডেল জেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমল দেওয়া হয়নি। তাতেই এমন সমস্যা।

শুধু কি হাইটবার? সমস্যা হচ্ছে সুরশ্রী পল্লীর পাঁচিল নিয়েও। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে হঠাৎ করেই দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত রাস্তার উপরে পাঁচিল দেওয়া হয় বিশ্বভারতীর তরফে। খবর পেয়ে সেখানে যান তৎকালীন জেলাশাসক ড. বিজয় ভারতী এবং জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং। ঠিকাদারেরা কোনও ওয়ার্ক অর্ডার দেখাতে না পারার ফলে তৎক্ষণাৎ নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ততদিনে অবশ্য ওই পাঁচিলের সিংহভাগই নির্মাণ হয়ে গিয়েছে। কথা ছিল, দুপক্ষ আলোচনা করে তারপর পাঁচিলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। তার আগেই প্রশাসনিক রদবদল হয়ে যায়। এদিকে একটা বড় অংশের মানুষ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতেন। ফলে বর্তমানে পুরো চাপটা পড়ে গিয়েছে শান্তিনিকেতন রোডের উপরে। দিনের বিভিন্ন সময় যানজটে কাহিল হচ্ছেন বোলপুরবাসী। কেবল বোলপুর নয়, শ্যামবাটির এক ব্যবসায়ী বললেন, “যে গাড়িতে আমাদের দোকানের জিনিসপত্র আসে তারা এখন দ্বিগুণ ভাড়া চাইছে। ওই রাস্তার যানজটে দাঁড়িয়ে গাড়ির তেল খরচ বাড়ছে বলে দাবি করছে। শুধুমাত্র ওই পাঁচিলের জন্য মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।”

ভুক্তভোগীদের কারও কারও আশঙ্কা, সামনেই নির্বাচন। তার মাঝে সময় বের করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন মুখোমুখি হওয়ার অবকাশ পাবে তো? নাকি সামনের দিনগুলি তাঁদের এমন আরও কিছু সিদ্ধান্তের ফল ভুগতে হবে! প্রশ্ন বা সমস্যা চেনা। সমাধান কবে হবে সেটাই এখন দেখার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More