ছেড়ে দিলেন সরকারি নিরাপত্তারক্ষী, ঘুরছেন গাড়ির বদলে বাইকে, বিধায়ক সৌরভের হলটা কী!

সৌরভ অবশ্য বলছেন, "দলীয় কর্মীদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চাই। সেই কারণেই যখন যেমন যানবাহন পাচ্ছি তাতে করেই দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছি। মানুষের আরও কাছে যাচ্ছি। এই ঘটনায় অবাক হওয়ার তেমন কিছু নেই।”

 

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: এখনও ভোট ঘোষণা হয়নি। স্বভাবতই বিধায়ক থাকার সময়সীমাও শেষ হয়নি এখনও। তার আগেই নিজের নিরাপত্তারক্ষী ছেড়ে দিলেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। শুধু নিরাপত্তারক্ষী নয় উত্তরবঙ্গের দাপুটে বিধায়ক ছেড়ে দিয়েছেন তাঁর সরকারি গাড়িও।

কাজেকর্মে যেতে সৌরভ এখন সওয়ার হচ্ছেন কখনও মোটরবাইকে, কখনও স্কুটিতে। এমনকি টোটো বা অটোতেও। যখন যা পাচ্ছেন তাতে চেপেই দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। বিধায়ককে এভাবে দেখেননি কখনও। এখন আমআদমির মতো তাঁকে চলাফেরা করতে দেখে তাজ্জব বনে গেছেন অনেকেই। সৌরভ দাবি করেছেন, “আরও বেশি করে মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করতে চাই। সেই কারণেই নিরাপত্তারক্ষী ও সরকারি গাড়ি ছেড়ে দিয়েছি। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চাই। সেই কারণেই যখন যেমন যানবাহন পাচ্ছি তাতে করেই দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছি। মানুষের আরও কাছে যাচ্ছি। এই ঘটনায় অবাক হওয়ার তেমন কিছু নেই।”

তবে বিধায়কের দাবি উড়িয়ে তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিরোধী দল বিজেপি। আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, “সৌরভবাবু বুঝে গেছেন তাঁর পক্ষে আর জয়লাভ করা সম্ভব নয়। তাই নিজের আসন ধরে রাখতে একরকম মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এখনতো রীতিমত নাটক করছেন। তবে যত নিপুন ভাবেই তিনি নাটক করুন, আর ভোটে জয়লাভ করতে পারবেন না। জেলার পাঁচটি বিধানসভার সবগুলো আসনেই বিজেপি জিতবে।”

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করেন সৌরভ চক্রবর্তী। এর আগে ও পরে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতির পদ-সহ একাধিক পদ সামলেছেন রাজ্য রাজনীতি করা উত্তরবঙ্গের এই বিধায়ক। একসময় একসঙ্গে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি দুই জেলা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান, শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানের পদের পাশাপাশি চা পর্ষদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। এত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে আর সময় দিতে পারছিলেন না বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে অনেকেরই বক্তব্য ছিল। পরবর্তীতে অবশ্য তাঁকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়।

এবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে জনসংযোগ আরও জোরদার করবার জন্যই বিধায়কের এমন উদ্যোগ বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল। আর তাঁর এই উদ্যোগে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁর প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি চুড়ান্ত হয়ে গেছে। সেই আভাস পেয়েই বিধায়ক সৌরভ আর বেশি জন সংযোগ গড়তে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

যদিও জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, “কে প্রার্থী হবেন, আমার কিছু জানা নেই। আমাদের দলের প্রার্থী চুড়ান্ত করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সর্বোপরি সব আসনে আমাদের প্রার্থী আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে প্রার্থী যেই হোন ভোট হবে দিদিকে দেখে। সকলকেই বেশি করে মানুষের কাছে যেতে বলা হয়েছে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More