অসুস্থ বাবা গোল্লা পাকান, মা ফুটিয়ে দেন, রসগোল্লা বিক্রি করে সংসার চালায় ক্লাস সেভেনের ছাত্র

নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাড়ের পাশাপাশি সংসারের আর্থিক অনটন ঘোচাতে এভাবেই চলছে সুমনের লড়াই। পাড়ায় পাড়ায় রসগোল্লা বিক্রির পাশাপাশি সুমনকে খোঁজ রাখতে হয় কোথাও কোনও মেলা বা অনুষ্ঠান হচ্ছে কী না। তাহলেই রসগোল্লা নিয়ে সেখানে চলে যায় সে। বিক্রিবাটা ভালোই হয়। রসগোল্লা বিক্রি করে ঘরে ফিরে খাওয়া-দাওয়া করে বই নিয়ে বসে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: স্কুলে যাওয়ার আগে পাড়ায় পাড়ায় মিষ্টি বিক্রি। বিক্রি যদি না হয় স্কুল থেকে ফিরে এসে আবার বেরোতে হয় মিষ্টির বাক্স নিয়ে। এটাই খাঁড়গ্রামের ক্লাস সেভেনের ছাত্র সুমনের দিনলিপি। এখন করোনা আবহে স্কুল বন্ধ। তাই কিছুটা বাঁচোয়া।

অ্যাম্বুলেন্স চালক বাবা হাই সুগারের ফলে কাজে বেরোতে অক্ষম। তাই বাবা গোল্লা পাকান, আর মা ফুটিয়ে দেন। তারপর সেই রসগোল্লা নিয়ে বিক্রি করতে বের হয় সুমন। সব বিক্রি না হলে যে মুশকিল। সংসার চলবে কেমন করে? তাই স্কুলে যাওয়ার আগে সব রসগোল্লা বিক্রি না হলে আবার বেরোতে হয় স্কুলের পর। বিকেলে বন্ধুরা যখন খেলার মাঠে, তখন সাইকেলে মিষ্টির বাক্স চাপিয়ে আবার ফেরি করার পালা।

খাঁড়গ্রামের ঘোষপাড়ায় বাড়ি বছর তেরোর সুমনের। খাঁড়গ্রাম জুনিয়র হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে সে। বছর দু’য়েক আগে তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাই ব্লাড সুগারে কর্মক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলেন তিনি। তাই বন্ধ হয়ে যায় অ্যাম্বুল্যান্স চালানো। সংসারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন তিনি। সেই রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসারে তীব্র অভাব দেখা দেয়। সংসারের হাল ধরতে এগিয়ে আসে সুমন। খেলে বেড়ানোর বয়সে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে রসগোল্লা বিক্রি করতে শুরু করে সে। তার বিক্রি করা রসগোল্লার খদ্দেরও হয়েছে যথেষ্ট। সাইকেলে চেপে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম ঘুরে রসগোল্লা বিক্রি করে সে।

নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাড়ের পাশাপাশি সংসারের আর্থিক অনটন ঘোচাতে এভাবেই চলছে সুমনের লড়াই। পাড়ায় পাড়ায় রসগোল্লা বিক্রির পাশাপাশি সুমনকে খোঁজ রাখতে হয় কোথাও কোনও মেলা বা অনুষ্ঠান হচ্ছে কী না। তাহলেই রসগোল্লা নিয়ে সেখানে চলে যায় সে। বিক্রিবাটা ভালোই হয়। রসগোল্লা বিক্রি করে ঘরে ফিরে খাওয়া-দাওয়া করে বই নিয়ে বসে। একজন গৃহশিক্ষকও আছেন। বাবাও পড়া দেখিয়ে দেন। এখন স্কুল বন্ধ। তাই কিছুটা বাঁচোয়া। স্কুল খুললেই লড়াইটা আবার আগের মতোই কঠিন হয়ে যাবে।

সুমনের কথায়, “এভাবে না চেষ্টা করলে সংসার অচল হয়ে যাবে। পড়াও হবে না।” সুমনের মা নয়নমণি বলেন, “এভাবে ওকে পড়াশোনা আর কাজ দুটো দিকই দেখতে হয়। স্কুল খোলা থাকতে স্যারেরা বলতেন, “স্কুলে একটু পরেই না হয় আসিস। এই না হলে আর উপায় কী?”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More