হাতিয়ে নেওয়া টাকা জমা পড়ল পঞ্চায়েতের অ্যাকাউন্টে, জামিন পেলেন সুপারভাইজার

গ্রেফতার এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেন এক সুপারভাইজার। শুক্রবার সেই আবেদনের শুনানি হয়। অভিযুক্তের আইনজীবী বিশ্বজিৎ দাস বলেন, সরকারি অ্যাকাউন্টে ৭ লক্ষ ৩ হাজার ৬২০ টাকা জমা পড়েছে। পঞ্চায়েতের প্রধান টাকা জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাই যে কোনও শর্তে অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করা হোক।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: খণ্ডঘোষ থানার শশঙ্গা পঞ্চায়েতের একশো দিনের প্রকল্পে হাতিয়ে নেওয়া ৭ লক্ষাধিক টাকা সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছে পঞ্চায়েত। সরকারি অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ায় অভিযুক্ত এক সুপারভাইজারের অন্তর্বর্তী আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন জেলা জজ পার্থসারথি সেন।

গ্রেফতার এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেন এক সুপারভাইজার। শুক্রবার সেই আবেদনের শুনানি হয়। অভিযুক্তের আইনজীবী বিশ্বজিৎ দাস বলেন, সরকারি অ্যাকাউন্টে ৭ লক্ষ ৩ হাজার ৬২০ টাকা জমা পড়েছে। পঞ্চায়েতের প্রধান টাকা জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাই যে কোনও শর্তে অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করা হোক। সরকারি আইনজীবী কমলকৃষ্ণ তা সরকারি অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার কথা মেনে নেন। কেসের তদন্তকারী অফিসার হাসান পারভেজও সরকারি অ্যাকাউন্টে আত্মসাত করা টাকা জমা পড়ার কথা জানান। সওয়াল শুনে অভিযুক্তের অন্তর্বর্তী আগাম জামিন মঞ্জুর করেন জেলা জজ। তবে, সরকারি অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানোর জন্য তদন্তকারী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা জজ। ৯ মার্চ এ ব্যাপারে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে তদন্তকারী অফিসারকে।

শশঙ্গা পঞ্চায়েতে একশো দিনের প্রকল্পে ফুটবল মাঠ ও ক্যানেলের সংস্কার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ ব্যাপারে বিডিও ৩ ডিসেম্বর ৬ সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ধারায় মামলা রুজু হয়। অভিযোগে বিডিও জানান, একশো দিনের প্রকল্পে বাথান ফুটবল মাঠের সংস্কার করা হয়েছে। তাতে ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নয়-ছয় করা হয়েছে। একইভাবে পঞ্চায়েতের কাকুনা থেকে শশঙ্গা পর্যন্ত ক্যানেলের সংস্কারে ২ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬১৮ টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে।

বিষয়টি বিডিও জেলাশাসককে জানান। জেলাশাসক এফআইআর করার জন্য বিডিওকে নির্দেশ দেন। সেইমতো বিডিও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু থানা প্রাথমিক ভাবে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি জেলাশাসককে জানান বিডিও। এরপরেই জেলাশাসক সরকারি অর্থ নয়ছয়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলার পুলিশ সুপারকে চিঠি দেন। চিঠি পেয়ে পুলিশ সুপার খণ্ডঘোষ থানার ওসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এসপির নির্দেশ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ঘটনার বিষয়ে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More