ফার্স্ট ফ্ল্যাশের ব্যস্ত মরসুমে সব ভুলেই মানুষের কাছে সিপিএমের প্রার্থী চা শ্রমিক রতন

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: মার্চ মাস চলছে। শুরু হয়েছে ফার্স্ট ফ্ল্যাশ। দুটি পাতা একটি কুড়ি ঠিক যেন সবুজ গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে চা বলয়ে। অন্যবার এ সময় নাওয়া খাওয়ার ফুরসত মেলে না। মরসুমের ব্যস্ত এই সময়ে চা কারখানায়  গড়িয়ে যায় তাঁর বেলা। এবারও মিলছে না অবসর। তবে এবার দিন গড়িয়ে সন্ধে নামছে মানুষের কাছে পৌঁছতে। আসলে চা বাগানের শ্রমিক রতন রায় এ বার প্রার্থী হয়েছেন যে!

সবুজে ঘেরা চা বাগানের মাঝে লাল ও তেরঙ্গা পতাকা নিয়ে শ্রমিকদের মাঝখানে পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি। বলছেন, ‘‘আমিও চা শ্রমিক। তাই তোমাদের কষ্ট আমি বুঝি। আমি নির্বাচিত হলে ন্যূন্যতম মজুরি নিয়ে বিধানসভায় সরব হব।’’ চা শ্রমিকদের মাঝে পৌঁছে এভাবেই দিনভর প্রচার চালাচ্ছেন রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম মনোনীত সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী রতনবাবু।

কৃষক পরিবারের ছেলে তিনি। জানালেন, ছেলেবেলা থেকেই বামেদের বিভিন্ন কাজকর্ম তাঁকে আকৃষ্ট করতো। সেই সুবাদে বাবা কংগ্রেসের ভক্ত হওয়া সত্তেও উলটো স্রোতে হেঁটে খুব অল্প বয়সে তিনি সিপিএমের যুব সংগঠনে যোগ দেন। বাবা কংগ্রেসের পঞ্চায়েত পদে লড়াই করার সময় বাবার বিরুদ্ধে সিপিএম প্রার্থীর হয়ে প্রচার করেন তিনি। ধীরে ধীরে নেতাদের নজরে পড়ে যান। বিভিন্ন পর্যায় পার করে তিনি সিপিএমের রাজগঞ্জ জোনাল কমিটিতে জায়গা করে নেন। বর্তমানে তিনি রাজগঞ্জ এরিয়া কমিটির সম্পাদক। সেখান থেকে এবারে তিনি সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন।

এবারে বামেরা তাঁদের প্রার্থী তালিকায় তরুণ ব্রিগেডকে প্রাধান্য দিয়েছেন। রাজ্যের অন্যান্য আসনের সঙ্গে তার প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনেও। এখানে প্রার্থী করা হয়েছে বছর ৪৫ এর রতন রায়কে।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজগঞ্জ ব্লক জুড়ে থাকা বিভিন্ন চা বাগানে গিয়ে চা শ্রমিকদের নানা সমস্যাকে সামনে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। বলছেন, ‘‘অতীতে তোমরা যাঁকে নির্বাচিত করেছ তাঁরা ক্ষমতায় থেকেও তোঁমাদের কোনও দাবি পূরণ করতে পারেনি। কিন্তু আমি তোমাদের ঘরের লোক। আমাকে নির্বাচিত করো। আমি সবসময় তোমাদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো।’’

রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বড় অংশ রয়েছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লক এলাকায়। জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডেঙ্গু‌য়াঝাড় এলাকায় এসে জোরদার প্রচার চালাতে দেখা গেলো রতন রায়কে। সঙ্গে ছিলেন বাম-কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা।

চা শ্রমিক ময়না দাস বলেন, ‘‘দাদা এসেছিল। ভোটের ব্যাপারে বলল। আমি বললাম ভোট নিয়ে কোনও টেনশন নেই। ভোট দেব। মজুরি বাড়লে আমাদের খুব ভালো হয়।’’

প্রচারে নেমে দারুন সাড়া পাচ্ছেন বলে জানালেন। বললেন, ‘‘আমিও চা শ্রমিক তা শোনার পর আমাকে দু হাত তুলে আশীর্বাদ করছেন চা শ্রমিকরা। আমি নির্বাচিত হলে ন‍্যূনতম মজুরি সহ চা-বাগানে‌র শ্রমিকদের অনেক দাবি রয়েছে। সেই দাবিগুলো বিধান‌সভায় সঠিকভাবে তোলা হয় না। সেই দাবিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করবো আমি।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More