মুক্তিপণের টাকা নিয়ে এসে কুশমন্ডি থানার পুলিশের জালে তিন অপহরণকারী

অপহৃত কিশোর আবদুল মতিনের বাবা আব্দুল লতিফ পেশায় পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসায়ী। বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডি থানার বেলপুকুর এলাকায়। অভিযোগ গত ৩ তারিখ রাতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে ঢুকে কয়েকজন দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তার ছেলে আব্দুল মতিনকে তুলে নিয়ে যায়। ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়েছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ দিনাজপুর: রীতিমতো সিনেমার কায়দায় অপহরণকারীদের গ্রেফতার করল কুশমন্ডি থানার পুলিশ। রায়গঞ্জ থানার সহযোগিতায় দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডি থানার পুলিশ উত্তর দিনাজপুরের নাগর এলাকা থেকে তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে। মুক্তিপণ আদায়ের সময়েই ফাঁদ পেতে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার ভোরে ওই তিন দুষ্কৃতীকে কুশমন্ডি থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে বুনিয়াদপুরের গঙ্গারামপুর মহাকুমা আদালতে তোলা হয় ওই তিন দুষ্কৃতীকে। অপহৃত কিশোর নবম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল মতিনকে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

অপহৃত কিশোর আবদুল মতিনের বাবা আব্দুল লতিফ পেশায় পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসায়ী। বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডি থানার বেলপুকুর এলাকায়। অভিযোগ গত ৩ তারিখ রাতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে ঢুকে কয়েকজন দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তার ছেলে আব্দুল মতিনকে তুলে নিয়ে যায়।

পরের দিন ভোর হতেই ৬ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ওই ব্যবসায়ীকে ফোন করা হয়। তার কাছে অত টাকা নেই বলে জানান তিনি। অবশেষে তিন লক্ষ টাকায় রফা হয়। অপহরণকারীরা টাকা নিয়ে আব্দুল লতিফকে উত্তর দিনাজপুরের নাগর এলাকায় আসতে বলেন। অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি বিষয়টি কুশমন্ডি থানাতেও জানান ওই ব্যবসায়ী।

পুলিশের পরামর্শে বৃহস্পতিবার রাতে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে নাগর এলাকায় যান ওই ব্যবসায়ী। সাদা পোশাকে দূর থেকে নজর রাখছিল কুশমন্ডি থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল রায়গঞ্জ থানার পুলিশও। নানা ছদ্মবেশে এলাকায় ছিল পুলিশ। মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে আসতেই  ওই দুষ্কৃতীদের হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ। এমন পরিস্থিতির জন্য তৈরি ছিল না ওই দুষ্কৃতীরা। পালানোর কোনও সুযোগই পায়নি তারা।

পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণের পিছনে নিছকই মুক্তিপণ, না কি অন্য কোনও কারণ লুকিয়ে আছে তা খতিয়ে দেখা হবে। ধৃত অভিযুক্তদের নাম সাজিদুল রেহা, সাজ্জাদ আলি এবং কলিমুদ্দিন। তিনজনেই উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More