দেওয়াল দখলকে কেন্দ্র করে তেতে উঠল বাঁকুড়ার গ্রাম, তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর

নিজেদের দখলে রাখা দেওয়ালে তৃণমূলের পোস্টার লাগানোর প্রতিবাদ করতে গেলে বিজেপি কর্মীদের ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পাঁচ বিজেপি কর্মী জখম হন। হামলা ও মারধরের অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: দেওয়াল দখলকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা বাঁকুড়ার তাজপুর গ্রামে। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। জখম হয়েছেন পাঁচজন। দুজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজেপির দখল করা দেওয়ালে তৃণমূলের পোস্টার সাঁটানাোর অভিযোগে কেন্দ্র করে গন্ডগোলের সূত্রপাত। আর এই নিয়েই উত্তেজনা ছড়াল বাঁকুড়ার বড়জোড়া থানার তাজপুর গ্রামে। নিজেদের দখলে রাখা দেওয়ালে তৃণমূলের পোস্টার লাগানোর প্রতিবাদ করতে গেলে বিজেপি কর্মীদের ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পাঁচ বিজেপি কর্মী জখম হন। হামলা ও মারধরের অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে তৃণমূল। তাদের পাল্টা দাবি ঘটনাটি বিজেপির দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব।

৭ মার্চ ব্রিগেড সমাবেশ রয়েছে বিজেপির। আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সমাবেশে নিয়ে গোটা রাজ্যেই এখন বিজেপির অন্দরে সাজো সাজো রব। সমাবেশে আরও বেশি সংখ্যায় মানুষ যাতে যোগ দেন সেই আবেদন জানিয়ে দেওয়াল লিখন চলছে সর্বত্র। তাজপুর গ্রামের বেশ কিছু দেওয়ালেও চুনের প্রলেপ লাগান বিজেপি কর্মীরা। বিজেপির দাবি বাড়ির মালিকদের অনুমতি নিয়েই ওই দেওয়ালগুলিতে চুনের প্রলেপ লাগানো হয়েছিল। গতকাল বিজেপির চুন দেওয়া দেওয়ালগুলিতে এলাকার তৃণমূল কর্মীরা পোস্টার লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

বিষয়টি নজরে আসার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিজেপি কর্মীরা প্রতিবাদ জানাতে গেলে তৃণমূল কর্মীরা তাঁদের উপর রড, লাঠি ও টাঙ্গি নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বিজেপি কর্মীদের রাস্তায় ফেলে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। পাঁচ বিজেপি কর্মী আহত হন। এদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর থাকায় তাঁদের বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় রাতে ওই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

বিজেপির দাবি প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশের আগে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ গড়ে তুলতেই পরিকল্পনা করে এই হামলা চালিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। বিজেপির রাঢ়বঙ্গ জোনের কনভেনার পার্থসারথী কুণ্ডু বলেন, “ভোট আসতেই গোটা রাজ্যে তৃণমূলের সন্ত্রাস লাগামছাড়া হয়ে উঠেছে। দিকে দিকে আক্রান্ত হচ্ছেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। এখানেও বিজেপির চিহ্নিত দেওয়ালে পোস্টার লাগিয়েছিল তৃণমূল। প্রতিবাদ করায় বিজেপির কর্মীদের উপর হামলা হল।”

মারধরের অভিযোগ অবশ্য সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। দলের জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা বলেন, “তৃণমূলের কোনও কর্মী সমর্থক এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। বিজেপির মধ্যে নানা শিবির রয়েছে। তাঁদের গন্ডগোলের জেরেই এই ঘটনা।”

পুলিশ জানিয়েছে গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More