তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় অশান্ত মঙ্গলকোট, অভিযুক্তরা গ্রামছাড়া, চলছে পুলিশের টহল

মঙ্গলবার রাতে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় নিগন গ্রামের ১৯৭ নম্বর তৃণমূল বুথ সভাপতি সঞ্জিত ঘোষের। ওইদিন সকালেই তাঁকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: তৃণমূল নেতা সঞ্জিত ঘোষ(৩৫) খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ছে মঙ্গলকোটে। মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় গোটা এলাকায়। বুধবারও পরিস্থিতি থমথমে। মোড়ে মোড়ে জটলা। অপ্রীতিকর যে কোনও পরিস্থিতি ঠেকাতে চলছে পুলিশের টহল। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা প্রত্যেকেই গ্রামছাড়া। নিগন গ্রামে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন জেলার এসপি ভাস্কর মুখোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার রাতে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় নিগন গ্রামের ১৯৭ নম্বর তৃণমূল বুথ সভাপতি সঞ্জিত ঘোষের। ওইদিন সকালেই তাঁকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। জেলা সভাধিপতি, তৃণমূল নেত্রী শম্পা ধারা বলেন, ‘‘মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। উস্কানি দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের দল নিহতের পরিবারের পাশে থাকবে।’’

স্থানীয় তৃণমূল কর্মী আব্বাস আহমেদ বলেন, ‘‘সোমবার বিজেপির সভা থেকে উস্কানি দেওয়া হয়। উত্তেজক বক্তব্যের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।’’ আর এক কর্মী রানা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সঞ্জিত ঘোষকে পরিকল্পিত ভাবেই খুন করা হয়েছে।’’

সোমবার মঙ্গলকোটে সভা ছিল বিজেপির। বক্তব্য রাখেন সৌমিত্র খাঁ। তারপরের দিনই হামলা হয় এলাকার জনপ্রিয় তৃণমূল নেতা সঞ্জিতের উপর। দুপুরে দলীয় কার্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিলেন সঞ্জিত। নিগন গ্রামে বাড়িতে ঢোকার মুখে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ভাঙচুর করা হয় তার গাড়িতেও। মঙ্গলকোটের তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি  ইব্রাহিম শেখকেও মারে দুষ্কৃতীরা। হেলমেট থাকার কারণে তাঁর চোট সেরকম লাগেনি।

সঞ্জিত ঘোষকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়। তারপর বর্ধমানে নিয়ে যাওয়া হয়। সঞ্জিতের স্ত্রী আশালতা ঘোষ বলেন, ‘‘আমার স্বামীর সারা শরীরে আঘাত করেছে দুষ্কৃতীরা। বাঁশ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে।’’

বিজেপির কাটোয়া কালনা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘‘এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নাই। এটা সম্পূর্ণ তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল। আর তার জেরেই মারামারি ও খুন।’’

মঙ্গলকোটের নিগন গ্রাম বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। বাম আমলেও এখানে বিজেপির কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হত বামেদের। ১৯৯৪ সালে ৪ সেপ্টেম্বর দুই সিপিএম নেতা হরপ্রসাদ গোস্বামী ও গোপেশ্বর পাল খুন হন। গ্রাম দখলের জন্য তাঁদের কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। রাজ্যে পালাবদলের পর এখন বামেদের জায়গা নিয়েছে তৃণমূল। এই গ্রামে এখন বিজেপির সঙ্গে টক্কর চলছে তৃণমূলের।

সঞ্জিত ঘোষ খুনের ঘটনায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অপূর্ব চৌধুরি অভিযোগ করেন, ‘‘বিজেপি ক্ষমতায় না আসতেই এখন থেকেই বাংলায় খুনের রাজনীতি শুরু হল। আমাদের জনপ্রিয় নেতাকে ভোটের আগেই পরিকল্পনা করে বিজেপি খুন করেছে। আর তার আগের দিন এখানে বিজেপি কালাদিবস পালন করার জন্য সভা করেছে। ওই সভা থেকে সৌমিত্র খাঁ সমেত প্রতিটি বিজেপি নেতা উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখে। তারজন্যই এই খুন।’’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More