বহিরাগত প্রার্থী হলে এসপার ওসপার, বালিতে ধুন্ধুমার তৃণমূলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: বহিরাগত ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয় এমন কাউকে প্রার্থী করা হলে বালি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিলেন এলাকার তৃণমূল নেতৃত্বের একটা বড় অংশ। পিকের টিমের সামনেই চাঁছাছোলা ভাষায় সেই বক্তব্য জানিয়ে দিলেন তাঁরা। আর এই ঘটনা ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

বুধবার লিলুয়ার একটি স্কুলে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন বালি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন পৌর প্রতিনিধিরা। একইসঙ্গে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিম পিকের কর্মীরাও। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন পৌরপিতা তফজিল আহমেদ, বলরাম ভট্টাচার্য ও রেখা রাউতরা সরাসরি বললেন, “বিগত দুটি বিধানসভা নির্বাচনে বহিরাগত প্রার্থী হওয়ায় ক্ষতি হয়েছে বালি এলাকায়। কোনও উন্নয়ন হয়নি। একইসঙ্গে ক্ষতি হয়েছে দলেরও। কারণ তাঁরা কেউ আন্তরিকভাবে দলকে ভালোবাসেননি।” তাই এবার বালি কেন্দ্রে এলাকার কোনও লড়াকু নেতাকেই প্রার্থী হিসেবে চাইছেন তাঁরা।

আসলে বহিরাগত ইস্যু বালি বিধানসভা কেন্দ্রে বরাবরই বড় ফ্যাক্টর। ২০১১ সালে বালি কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন প্রাক্তন আইপিএস সুলতান সিং। ২০১৬তে বৈশালী ডালমিয়া। এই দুই বিধায়ককে নিয়ে বারবার অসন্তোষ দানা বেঁধেছে দলের অন্দরে। বৈশালীর সঙ্গে দলের একাংশের দ্বন্দ্ব তো একসময় নিত্য নৈমিত্তিক হয়ে উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতেই শোনা যাচ্ছে এবার বালি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণা হতে পারে দেবাংশু ভট্টাচার্যের। আর এতেই আগুনে ঘি পড়েছে। বুধবার দলের বৈঠকে সেই ক্ষোভই সামনে এল।

প্রাক্তন কাউন্সিলর বলরাম ভট্টাচার্য বলেন, “যারা প্রথম দিন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন না তাঁরা কীভাবে দলের গুরুত্ব বুঝবেন? বারবার বালিকে এর খেসারত দিতে হচ্ছে। তাই এবারও যদি বালি বিধানসভা কেন্দ্রে বহিরাগত কাউকে প্রার্থী করা হয় তাহলে আমরা আর দলের হয়ে নির্বাচনে কাজ করব না।”

হাওড়া সদরের তৃণমূল চেয়ারম্যান, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়ও বালির তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সহমত। তিনি বলেন, “এর আগে দু’বার বালিতে বহিরাগত প্রার্থী হয়েছে। তাই নিয়ে ক্ষোভ আছে। আমি দলকে তা জানিয়েছি। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”

এদিকে বিজেপির হাওড়া সদরের সভাপতি সুরজিত সাহা বলেন, “আগে বিজেপিকে বহিরাগত বলে কটাক্ষ করত তৃণমূল। এখন এই বহিরাগত কাঁটায় সবথেকে বেশি ছিন্নভিন্ন হচ্ছে তৃণমূলই।”

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More