কাঁদতে কাঁদতে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির বৈঠক থেকে বেরিয়ে এলেন মহিলা নেত্রী

কাঁদতে কাঁদতেই তিনি বলছিলেন, ‘‘রাজ্য কমিটিতে গিয়ে আমি কি ভূত হয়ে গেছি যে আমাকে জেলা কমিটির বৈঠকে ডাকা হবে না!’’  

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: জেলা কমিটির বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এসে কাঁদতে কাঁদতে জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন মহিলা তৃণমূলের রাজ্য সহ সাধারণ সম্পাদক সাগরিকা সেন। দাপুটে তৃণমূল নেত্রীকে এভাবে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখে অবাক হলেন পথচারীরা। কাঁদতে কাঁদতেই তিনি বলছিলেন, ‘‘রাজ্য কমিটিতে গিয়ে আমি কি ভূত হয়ে গেছি যে আমাকে জেলা কমিটির বৈঠকে ডাকা হবে না!’’

২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি জেলাজুড়ে ভরাডুবি হয় তৃণমূলের। সেই সময় তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলার বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এরপর ২০১৯ সালের মাঝামাঝি তাঁকে সরিয়ে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি হিসেবে কৃষ্ণকুমার কল্যাণীকে দায়িত্ব দেয় দলের হাইকমান্ড।

তিনি দায়িত্ব পাওয়ার ৬ মাস পর বুধবার তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈঠক ছিল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না ময়নাগুড়ির বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী, মন্ত্রী গৌতম দেব, জলপাইগুড়ি পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোহন বোস। বৈঠকে অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মহিলা তৃণমূলের রাজ্য সহ সম্পাদক সাগরিকা সেন। এই বৈঠক চলাকালীন আচমকাই কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেত্রী সাগরিকা সেনকে। বাইরে তখন অপেক্ষারত সাংবাদিকেরা।

এরপর তিনি সাংবাদিকদের কাছে জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘‘রাজ্য কমিটিতে গিয়ে আমি কি ভূত হয়ে গেছি! তাই আমাকে জেলা কমিটিতে রাখা হবে না। আমি দলের পুরনো সৈনিক। আর আমাকে কোনও বৈঠকে ডাকা হয় না। এইভাবে কোনও দল চলতে পারে না।’’ চোখের জল ফেলতে ফেলতে চলে যান তিনি। এদিন দাপুটে নেত্রীর এই অবস্থা দেখে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পথচারীদের মধ্যে।

পরে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী বলেন, ‘‘উনি এখন রাজ্য কমিটিতে রয়েছেন। দল তাঁকে রাজ্য কমিটিতে রেখেছে। তিনি চাইলে তাঁকে আমরা জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি না। দলের নিয়ম শৃঙ্খলা সবাইকে মানতে হবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আজ জেলা কমিটির বৈঠক ছিল। বৈঠকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার সবটা মিডিয়ার সামনে বলা যায় না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বসে যাওয়া কর্মীদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি গিয়ে তাঁদের ক্ষোভ বিক্ষোভ মিটিয়ে দলের কাজে লাগানো হবে। এই নিয়ে জেলার সর্বস্তরের কমিটি গুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

এ দিনের সভায় মোহন বোসের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জেলা সভাপতি বলেন, ‘‘তাকে বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। তিনি অসুস্থ। এর বেশি কিছু জানি না। তবে একথা স্পষ্ট ভাবে বলে দিতে চাই তৃণমূল কংগ্রেস কারও দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে বৈঠকে আসার জন্য ভিক্ষে চাইবে না।’’

তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, গৌতম দেব সরকারি কাজে ভামরি দেবী মন্দিরে গিয়েছিলেন। তাই তিনি থাকতে পারেননি। ময়নাগুড়ির বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী কলকাতায় থাকার কারণে আজ আসেননি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More