চোপড়ায় গুলিবিদ্ধ তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু, ঘটনার খবর আসতেই ফের তেতে উঠল দাসপাড়া

বুধবার সকালে মুস্তাফা কামালের মৃত্যুর খবর আসতেই ফের উত্তেজনা ছড়ায় দাসপাড়ায়। বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এলাকায় পুলিশের টহল চলছে। ঘটনায় মুল অভিযুক্ত মনসুরকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: চোপড়া থানার গোয়াবাড়িতে গুলিবিদ্ধ তৃণমূল কর্মী মুস্তাফা কামালের মৃত্যু হল শিলিগুড়িতে। এখানে একটা বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন তিনি ৷ সেখানেই ৩৬ ঘণ্টা লড়াইয়ের পর বুধবার ভোরে মৃত্যু হয় ওই তৃণমূল কর্মীর। সোমবার বিকেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন এই তৃণমূল কর্মী। গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান, তৃণমূল নেতা আবুল হোসেনও। তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বুধবার সকালে মুস্তাফা কামালের মৃত্যুর খবর আসতেই ফের উত্তেজনা ছড়ায় দাসপাড়ায়। বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এলাকায় পুলিশের টহল চলছে। ঘটনায় মুল অভিযুক্ত মনসুরকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার সন্ধ্যায় দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গোঁয়াবাড়ি এলাকায় পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের সভা চলছিল। সেখানেই হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলিবিদ্ধ হন দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান, তৃণমূল নেতা আবুল হোসেন ও তৃণমূল কর্মী মোস্তাফা কামাল। দুজনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। দুজনেরই বাড়ি চোপড়ার অম্বিকানগর এলাকায়। তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, কংগ্রেস-সিপিএম জোট আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে চোপড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে মঙ্গলবার দাসপাড়ায় ১২ ঘণ্টার বনধও পালিত হয়। সমস্ত দোকানপাট, হাট বাজার বন্ধ ছিল। বন্ধ ছিল দাসপাড়া পঞ্চায়েত অফিসও।

তৃণমূলের আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জোটের নেতৃত্ব। বাম কংগ্রেস জোটের পক্ষে চোপড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি অশোক রায় বলেন, ‘‘শুনেছি ওখানে একশো দিনের কাজের টাকা বিলি করছিলেন তৃণমূল নেতারা। এই টাকা বিলি নিয়েই গন্ডগোলের সূত্রপাত। সেই অশান্তির জেরেই গুলি চলেছে। এর সঙ্গে বাম-কংগ্রেস জোটের কোনও সম্পর্ক নেই।’’

এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব চোপড়ায় নতুন কোনও ঘটনা নয়। যে কোনও ছুতোয় শুরু হয় গুলি-বোমার লড়াই। অশান্ত হয় এলাকা। আতঙ্কে ব্যহত হয় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তাঁরা বলেন রাজনৈতিক দলগুলি আশ্রয় দেওয়াতেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দুষ্কৃতীরা। রাজনৈতিক দলগুলি যদি এই সমস্ত দুষ্কৃতীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করে তবেই শান্তি ফিরবে চোপড়ায়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More