নিমতিতা বিস্ফোরণ কাণ্ডে সিআইডির জালে আরও দুই, সূত্র পেতে লাগাতার জেরা

ঝাড়খণ্ড থেকে পাকরাও করা হয়েছে শাহিদুল ইসলাম নামের এই যুবককে। ধৃত অপর যুবকের নাম আবু সামাদ তার বাড়ি মুর্শিদাবাদের সুতিতে। দু’দিন আগেই আটক করা হয়েছিল এই দুজনকে। লাগাতার জেরার পর শুক্রবার তাদের গ্রেফতার করে বহরমপুরে সিআইডি অফিসে নিয়ে আসা হয়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: নিমতিতা বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে বড় সাফল্য গোয়েন্দাদের। গ্রেফতার করা হল আরও দুজনকে। ঝাড়খণ্ড থেকে পাকরাও করা হয়েছে শাহিদুল ইসলাম নামের এই যুবককে। ধৃত অপর যুবকের নাম আবু সামাদ তার বাড়ি মুর্শিদাবাদের সুতিতে। দু’দিন আগেই আটক করা হয়েছিল এই দুজনকে। লাগাতার জেরার পর শুক্রবার তাদের গ্রেফতার করে বহরমপুরে সিআইডি অফিসে নিয়ে আসা হয়। বিস্ফোরণের ঘটনার সূত্র পেতে তাদের জোরকদমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে নেমে দু’দিন আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল শেখ নাসিম নামে এক যুবককে। বিস্ফোরণ কাণ্ডের আগে তাঁকে স্টেশন চত্বরে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় বলে খবর। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, ঘোরাঘুরির নামে আসলে স্টেশন চত্বরের রেইকি করছিল নাসিম। তাঁকে জেরা করছে সিআইডি। কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে কি না তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই ধৃত ওই যুবক স্টেশনের বাইরে বসে ফল বিক্রি করতে শুরু করেন।

তদন্তকারী আধিকারিকরা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই নাসিমের খোঁজ মেলে। তারপরেই তাঁকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দারা। তদন্তকারীরা মনে করছেন, বাইরে বসে ফল বিক্রি করায় স্টেশনের অনেক কিছুই ছিল তাঁর হাতের নাগালে। সবার নজর এড়িয়ে বিস্ফোরক রেখে আসাটা খুব একটা কঠিন কাজ ছিল না বলেই মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই বিস্ফোরণের সঙ্গে তাঁর যোগ খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় নাসিমকে জেরা করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

বিস্ফোরণের গতিপ্রকৃতি দেখে এই ঘটনায় বাংলাদেশের জঙ্গিযোগ রয়েছে বলে শুরু থেকেই অনুমান করছিলেন গোয়েন্দারা। বিস্ফোরণের পরদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনাও সংগ্রহ করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। বোমায় মশলা এবং স‌্প্লিন্টারের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি ছিল বলে জানতে পারেন তাঁরা। তা থেকেই বোঝা যায়, শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানোই লক্ষ্য ছিল দুষ্কৃতীদের। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে জানিয়েছিলেন তদন্তকারীরা।

১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় আসছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী জাকির হোসেন। নিমতিতা স্টেশন থেকে তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস ধরে কলকাতায় ফেরার কথা ছিল তাঁর। সেই সময় স্টেশন চত্বরে আচমকাই বিস্ফোরণ হয়। জানা গেছে, মন্ত্রীর ঠিক সামনেই বোমা ফাটে। জখম হন মন্ত্রী জাকির হোসেন-সহ কমপক্ষে ২৩ জন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ নিমতিতা স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি ব্যাগের সন্ধান পায়। সেই ব্যাগে করেই বিস্ফোরক নিয়ে আসা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। কোনও সাধারণ মানের বিস্ফোরণ নয় আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে অনুমান ছিল গোয়েন্দাদের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More