দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি থেকে সরে এসে উলেন রায়ের দেহ ফেরতের আর্জি

সোমবার উলেন রায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখতে চেয়ে জলপাইগুড়ি সিজেএম আদালতে আবেদন করা হলে সিজেএম এনজেপি থানার পুলিশকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আদালতে পেশের নির্দেশ দেয়। সেই রিপোর্ট আজ আদালতে জমা দেয় পুলিশ। রিপোর্ট দেখে অনেকাংশে সন্তুষ্ট হন উলেন রায়ের পরিবারের আইনজীবী সৌজিত সিংহ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: উলেন রায়ের দেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি থেকে সরে এল উলেন রায়ের পরিবার। দেহ ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হল আদালতে।

সোমবার উলেন রায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখতে চেয়ে জলপাইগুড়ি সিজেএম আদালতে আবেদন করা হলে সিজেএম এনজেপি থানার পুলিশকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আদালতে পেশের নির্দেশ দেয়। সেই রিপোর্ট আজ আদালতে জমা দেয় পুলিশ। রিপোর্ট দেখে অনেকাংশে সন্তুষ্ট হন উলেন রায়ের পরিবারের আইনজীবী সৌজিত সিংহ।

উলেন রায়ের আইনজীবী সৌজিত সিংহ বলেন, ‘‘উলেন রায়ের মৃত্যু শট গান ইঞ্জুরি তে হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। ৩ জন চিকিৎসকের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত হয়েছে। রিপোর্টে ৩ চিকিৎসকের স্বাক্ষরও রয়েছে। যদিও রিপোর্টে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী পুলিশের লাঠি বা বন্দুকের বাটের আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ নেই। এমন অবস্থায় উলেন রায়ের পরিবারের মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত করতে পারলাম না। তাই আমরা এই মামলার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানালাম।’’

জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী মৃন্ময় ব্যানার্জী বলেন, ‘‘আদালতের নির্দেশ মতো পুলিশ আজ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আদালতে পেশ করে। এরপর রিপোর্ট দেখে উলেন রায়ের পরিবার বলে তারা আগের মামলা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। একইসঙ্গে তারা দেহ নেওয়ার আবেদন জানালে আদালত আগামীকালের মধ্যে উত্তরবঙ্গে মেডিকেল কলেজের মর্গে থাকা উলেন রায়ের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।’’

সাত ডিসেম্বর বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযানের সময় জখম হন গজলডোবার বাসিন্দা বছর ৫০ এর উলেন রায়। পরে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশের লাঠি ও গুলিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে বিজেপির অভিযোগ। যদিও প্রশাসন তা মানতে নারাজ। ৮ ডিসেম্বর উলেন রায়ের দিদি জলপাইগুড়ি আদালতে জানান, সত্য লুকোতে গভীর রাতে তাঁর ভাইয়ের দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই ওইদিন জলপাইগুড়ি আদালত উলেন রায়ের দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ ছিল, তিনজন চিকিত্‍সকের উপস্থিতিতে এই ময়নাতদন্ত করতে হবে। গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করতে হবে। ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে।

কিন্ত তারপরে সেই আদেশ প্রত্যাহারের আর্জি নিয়ে সরকার পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। শুরু হয় আইনি জটিলতা। এর জেরে সপ্তাহ গড়ালেও এখনও পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি উলেন রায়ের দেহ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More