চুঁচুড়ার কুম্ভকর্ণ! পুলিশ এসে, তালা ভেঙে ঘুম ভাঙাল

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুম্ভকর্ণের (kumbhakarna) কথা কে না পড়েছে! ৬ মাস ধরে একটানা ঘুমোতে পারা এই পৌরাণিক চরিত্রটি বাঙালির সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িতও বলা যায়। খুব বেশি ঘুমোনোর জন্য বা গভীর ঘুমের জন্য ‘কুম্ভকর্ণ’ বিশেষণটি কতবারই না ব্যবহার করা হয়েছে কত জায়গায়।

কিন্তু বাস্তবেও যে সত্যিই কুম্ভকর্ণ রয়েছে, তা কি কেউ জানত! না, এই কুম্ভকর্ণ ৬ মাস ঘুমোননি। তবে গোটা একটা দিন ধরে এমন ঘুম ঘুমিয়েছেন, যে শেষমেশ ভাঙতে হয়েছে দরজা! চুঁচুড়ার বড়বাজার এলাকার এই ঘটনা যেন টানটান ক্রাইম থ্রিলার। তবে শেষদৃশ্যে সমস্ত থ্রিল ভেঙে পড়েছে হাসির চোটে, এটাই স্বস্তি।

কী ঘটেছিল এইদিন?

বছর ৪২ বয়স সৌমেন নিয়োগীর। পেশায় তিনি রেল কর্মী, চুঁচুড়ার বড়বাজারের আবাসনে থাকেন। তাঁর স্ত্রীর বাপের বাড়ি বর্ধমানে। সেখানেই ছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। শুক্রবারই স্ত্রী চলে যান সেই বিয়েতে। সৌমেনবাবুর যাওয়ার কথা ছিল গতকাল, শনিবার দুপুরে। শুক্রবার বাপের বাড়ি যাওয়ার পরে পৌঁছনো সংবাদ জানিয়ে ফোন করেন স্ত্রী। কথা হয় শনিবার সকালেও। কিন্তু ব্যস, তার পর থেকেই কোনও সাড়াশব্দ নেই সৌমেনবাবুর।

এদিকে শনিবার দুপুরে বর্ধমান যাওয়ার কথা সৌমেনবাবুর! বাড়ি থেকে বেরোলেন কি, জানতে বারবার ফোন করছেন স্ত্রী। ফোন আর রিসিভ হয় না! হলটা কী! স্ত্রীর মন খচখচ করতে থাকে। কখনও তো এমন হয় না, যে ফোনের পর ফোন রিসিভ হচ্ছে না!

সৌমেনবাবুর প্রতিবেশি মনোজিৎবাবু। সৌমেনের স্ত্রী ফোন করেন তাঁকে। অনুরোধ করেন, সৌমেন কেন ফোন ধরছেন না, বাড়িতে আছেন কিনা খোঁজ নিয়ে দেখতে। মনোজিৎবাবু দেখেন, কোলাপসিবল গেট বন্ধ, দরজা ভেতর থেকে লক করা। বারবার কলিংবেল বাজিয়ে, দরজায় ধাক্কা মেরেও কোনও সাড়া নেই!

দুয়ারে গাঁজা পৌঁছে যাচ্ছে, অ্যামাজন কর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

ততক্ষণ আবাসনের তিনতলার ওই ফ্ল্যাটের বাইরে লোক জড়ো হতে শুরু করেছে। গোটা আবাসন কার্যত ভেঙে পড়েছে। সবাই ডাকাডাকি করছেন, ফোন করছেন, দরজায় ধাক্কাচ্ছেন, কিন্তু সাড়া আর মেলে না। মনোজিৎবাবু সৌমেনবাবুর স্ত্রীকেও ফোন করে জানান সে কথা।

ততক্ষণে যা হওয়ার তাই হয়েছে। চরমতম খারাপ কিছু ঘটে গেছে ঘরের ভিতরে, সেটাই আশঙ্কা করতে শুরু করেছেন সকলে! সৌমেনবাবুর স্ত্রী মনোজিৎবাবুদের বলেন, দরজা ভাঙতে। উপায়ই বা কী! তিনি নিজেও বাপেরবাড়ির দুয়েক জনকে সঙ্গে নিয়ে বর্ধমান থেকে রওনা দেন চুঁচুড়ার উদ্দেশে। সে এক তুমুল উদ্বেগ চারদিকে!

ইতিমধ্যেই খবর দেওয়া হয় চুঁচুড়া থানায়। সব শুনে কাঠের মিস্ত্রিকে একেবারে সঙ্গে নিয়েই এসে হাজির হন পুলিশ অফিসাররা। তাঁরাও এসে কয়েকবার দরজা ধাক্কা দিয়ে সাড়া না পেয়ে ভাঙেন কোলাপসিবল। কাঠের দরজার লকও ছেনি-হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন সঙ্গে আসা মিস্ত্রি। দরজা খুলে ঢোকার আগে যেন থমথম করছে চারদিক। কে জানে ভেতরে কী দৃশ্য অপেক্ষা করছে! সে এক দৃশ্যই বটে। খালি গায়ে, বারমুডা পরে, এসি চালিয়ে, পাতলা একটা চাদর গায়ে ফেলে আরাম করে ঘুমোচ্ছেন সৌমেনবাবু। পুলিশ ঘরে ঢুকছে যখন, তখন বোধহয় সবে ভাঙছে ঘুম, হাত-পা মেলে আড়মোড়া ভাঙছেন তিনি। একদল পুলিশকে দেখে তো তুমুল চমকে উঠেছেন তিনি! তবে তখনও তো তিনি জানেন না, এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি তিনি নিজে চমকেছেন গোটা এলাকাবাসীকে!স্ত্রীকে ফোন করে খবর দেওয়া হয়, জানানো হয় এই গভীর ঘুমের কথা। তাঁরও যেন কিংকর্তব্যমিমূঢ় দশা। একদিকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার স্বস্তি, একদিকে স্বামীর ওপর তুমুল রাগ! মাঝপথ থেকেই ফের বাপের বাড়ি ফিরে যান তিনি। শেষমেশ কালকের দিনটা আরও খানিক ঘুমিয়ে আজ, রবিবার সকালে সৌমেনবাবুও পৌঁছেছেন বিয়েবাড়ি।

সেখানে গিয়ে স্ত্রী-পরিজনরা তাঁকে কুম্ভকর্ণ উপাধি দিয়েছেন কিনা, তা অবশ্য জানা যায়নি! তবে চুঁচুড়ার মানুষের মুখে মুখে এখন ঘুরছে আধুনিক কুম্ভকর্মের গল্পই!

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.