শুভেন্দুর যাত্রাপথ শুভ হোক, স্বৈরাচারী শাসন খতম করতে ওঁর লড়াই সফল হোক: আবদুল মান্নান

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলায় গেরুয়া শিবির যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনই দু’হাত তুলে তাঁকে আশীর্বাদ করলেন রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান।

এদিন শুভেন্দু বিধানসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মান্নান সাহেব তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “শুভেন্দুর যাত্রা শুভ হোক। বাংলায় স্বৈরাচারী শাসন খতম করার যে শপথ ও নিয়েছে, সেই লড়াই সফল হোক।” তাঁর কথায়, “শুভেন্দু ও তাঁর পরিবারকে আমি গত কয়েক দশক ধরে চিনি। ওরা বরাবর ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি করেছে, বহুত্ববাদের পরিবেশ মজবুত করার পক্ষে কাজ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, শুভেন্দু যে দলেই যাক না কেন সেই পরম্পরা অব্যাহত রাখবে।”

মান্নান সাহেব এখানেই থামেননি। তিনি বিধানসভা থেকে শুভেন্দুর ইস্তফার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর কথায়, “এটা দেখে ভাল লাগছে যে শুভেন্দু নৈতিক পথে থেকে যা করার করছে। বিধানসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে, তার পর তৃণমূল ছাড়ছে। অথচ কংগ্রেস থেকে তৃণমূল গত পাঁচ বছরে যে সব বিধায়ককে ভাঙিয়ে নিয়েছে, তাঁরা কেউ ইস্তফা দেয়নি। খাতায়-কলমে কংগ্রেসের বিধায়ক পদে থেকে নির্লজ্জের মতো তৃণমূলের ঝাণ্ডা নিয়ে ঘুরছেন।”

বিরোধী দলনেতা বলেন, “এই জন্যই তো আমি বলি বাংলায় স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণতন্ত্রকে কবে খতম করে দিয়েছেন ওঁরা।”

বাংলার রাজনীতিতে এখন বড় আলোচনা যে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়ে কেন্দ্রে শাসক দল বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের বরাবরের অভিযোগ, বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল। তাৎপর্যপূর্ণ হল, শুভেন্দুর ভবিষ্যৎ গন্তব্য কী হতে পারে সেটা মান্নান সাহেব জানেন না তা নয়। কিন্তু তার পরেও তিনি এদিন যে বড় সার্টিফিকেট তাঁকে দিয়েছেন, তা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজ্য রাজনীতিতে বহুদিনের সংখ্যালঘু মুখ আবদুল মান্নান। তবে অঙ্কের এই মাস্টারমশাই কখনও সেই ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনীতি করেননি। ধর্মনিরপেক্ষতার দর্শনে কংগ্রেসি ঘরানার রাজনীতি করেছেন।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, আসলে আবদুল মান্নান নিশ্চয়ই পরিষ্কার বুঝতে পারছেন যে শুভেন্দু হিন্দুত্বের রাজনীতি করার জন্য বিজেপিতে যাচ্ছেন না। তাঁর লক্ষ্য হল তৃণমূলকে পরাস্ত করা। মান্নান সাহেব এও বোঝেন, বাংলায় কংগ্রেসের এই মুহূর্তে যা সাংগঠনিক শক্তি, তাতে তৃণমূলকে পরাস্ত করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই যে সেটা করে দেখাতে পারবেন, যাঁর সেই আত্মবিশ্বাস ও লড়াইয়ের মানসিকতা রয়েছে তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং স্নেহশীল কথা বলছেন।

এমনিতে নন্দীগ্রাম, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় শুভেন্দুর গ্রহণযোগ্যতা কম নয়। বরং অনেকের থেকে ভাল। কিন্তু শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দিলে সংখ্যালঘুরা তাঁর পাশ থেকে সরে যেতে পারেন বলে কেউ কেউ মনে করছেন। তবে পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আবদুল মান্নান যে ভাবে এদিন শুভেন্দুকে আশীর্বাদ করেছেন, সেটা সংখ্যালঘুদেরও বার্তা দেবে। তাঁদের অনেকের মনে হতে পারে যে, শুভেন্দু যতক্ষণ ওই শিবিরে রয়েছেন, তাঁদের কোনও ভয় নেই।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.