মরসুম শেষে ট্রলার ভরল খোকা ইলিশে, উচ্ছ্বসিত ডায়মন্ডহারবারের মৎস্যজীবীরা

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মরসুমে মেলেনি। তাই হা হুতাশ ছিলই। কিন্তু শীতের শুরুতেই মৎস্যজীবীদের জালে ধরা দিল বিপুল পরিমাণে খোকা ইলিশ। এমন আকস্মিক প্রাপ্তিতে দুঃখ অনেকটাই ভুলে গেলেন মৎস্যজীবীরা।

মঙ্গলবার রাতে ডায়মন্ডহারবারের নগেন্দ্রবাজারে ঢুকেছে এক হাজার মণ খোকা ইলিশ। তার আগের দিন আরও এক হাজার মন ইলিশ উঠেছে বলে জানা গেছে। শীতের শুরুতে ইলিশ জালে উঠতেই ক্ষতির হাত থেকে এবারের মতো রেহাই পেলেন মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে মাছের আড়ৎদাররা। দুদিনের ধরা ইলিশে যেন অক্সিজেন পেল এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্যবন্দর নগেন্দ্রবাজার।

চলতি বছরে দফায় দফায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় আশি শতাংশ ট্রলার ঘরে ফিরতে বাধ্য হয় ইলিশ মাছ না নিয়েই। বছরভর অন্য মাছ উঠলেও বর্ষায় জালে ওঠা ইলিশই মৎস্যজীবীদের ঘরে ঘরে লক্ষ্মী আনে।

তাই এই ইলিশের মরসুমের দিকেই তাকিয়ে থাকেন তাঁরা। মহাজনের থেকে ঋণ নিয়ে ট্রলার সাজিয়ে গভীর সমুদ্রে পারি দেন মৎস্যজীবীরা। ইলিশ উঠলে দেনা শোধ করেও বছরভরের খরচ থেকে যায় বেশিরভাগেরই। তবে গত কয়েক মরসুম ধরেই ইলিশের খরা চলছে। এই বছরেও অনেক টাকা দাদন নিয়ে সমুদ্রে যাওয়ার পরেও উপার্জন না হওয়াতে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে মৎস্যজীবীদের। শেষ মুহুর্তে তাই জালে খোকা ইলিশ মিলতে দেদার আনন্দ জেলেপাড়ায়।

ট্রলার পিছু খরচ এক থে‌কে দেড় লক্ষ‌ টাকা। প্রতি ট্রলা‌রে মাছ এসেছে আশি থে‌কে একশো মণ। তাই খুশি মৎস্যজীবীরা। ট্রলার ভরা ইলিশ আসার কথা শুনে ইতিমধ্যেই অনেকে সাগরে পাড়ি দিয়েছেন ইলিশের আশায়।

জানা গেছে দেড় থেকে দু’কেজি ইলিশ যেমন মিলেছে, তেমনি চার থেকে ছশো গ্রামের ইলিশও ধরা পড়েছে জালে। দামও মধ্যবিত্তদের নাগালের মধ্যে। এক কেজির উপর ইলিশের দাম প্রায় বারো থেকে তেরোশো টাকা। তবে চারশো থেকে ছশো গ্রাম ওজনের মাছের দাম তিন থেকে চারশো টাকা। নাগালের মধ্য দাম হওয়াই এবার অন্তত মাছে ভাতে বাঙালির পাতে ইলিশ ওঠার সম্ভাবনা।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.