ডিএ বৈষম্য আছেই, কেন্দ্র-রাজ্য ফারাক বাড়তে পারে হাউস রেন্ট বাড়লে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের হাউস রেন্ট বাড়তে পারে আগামী বছরের গোড়াতেই। এই খবরে গোটা দেশের সঙ্গে এ রাজ্যেও কেন্দ্রীয় (Centre) সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে খুশির হাওয়া। অন্যদিকে মুখভার রাজ্য সরকারের কর্মী, অফিসারদের। তাদের বক্তব্য, এখনই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের থেকে রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের বেতনের ফারাক অনেকটাই। কোনও কোনও পদের ক্ষেত্রে কয়েক হাজার টাকা। কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের হাউস রেন্ট বাড়লে বেতনের ফারাক আরও বেড়ে যাবে। এমনিতেই মহার্ঘ্য ভাতার ফারাকের কারণে বেতন বৈষম্য নিয়ে তীব্র হয়ে আছে। ফলে মরার উপর খাঁড়ার ঘা পড়ার অবস্থা তৈরি হতে যাচ্ছে।

‘খালি গায়ে রাস্তায় বসেছিলে কেন, এটা তৃণমূলের কালচার?’ গৌতমকে ধমক মমতার

মহার্ঘ ভাতা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ফেডারেশন। ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ১০ বছর অন্তর সরকার বেতন কমিশন বা বেতন কমিটি গঠন করে। কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি ঘটিয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় সরকার – সহ অন্যান্য রাজ্যে ০১.০১.১৬ থেকে বেতন বৃদ্ধি ঘটলেও এই রাজ্যে বেতন বৃদ্ধি হয়েছে ০১.০১.২০ থেকে৷ কেন্দ্র নিদিষ্ট নিয়ম মতো ২০১৬- র ১ জুলাই থেকে মহার্ঘভাতা দিলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩% হারে মহার্ঘভাতা ব্যতীত আর কোনও মহার্ঘভাতা আজ পর্যন্ত ঘোষণা করেনি৷

এর ফলে বেতনের ফারাক কেমন দাঁড়িয়েছে?

যেমন, কেন্দ্রের ৬ষ্ঠ বেতন কমিশনে ১ নম্বর স্কেলের বেতন ছিল ৭ হাজার টাকা৷ সপ্তম বেতন কমিশনে তা বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার টাকা৷

অপরদিকে এই রাজ্যে পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশ মত ১ নম্বর স্কেলের বেতন ছিল ৬,৬০০ টাকা৷ ৬ষ্ঠ বেতন কমিশনে তা গিয়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার টাকা৷ ফলে বেতন স্কেলেই ফারাক প্রায় হাজার কোটি টাকার।

কেন্দ্রের নিয়মেই এই রাজ্যের বেতন স্কেলের পরিবর্তন ঘটেছে৷ কিন্তু মহার্ঘভাতার প্রশ্নে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের বিস্তর ফারাক৷ ৫ম বেতন কমিশন শেষে ১০ বছরে এই ফারাক ছিল (১২৫%—৭৫%)=৫০% এবং ৬ষ্ঠ বেতন কমিশন চালু হওয়ার পর থেকে এখনও তা ২৮ শতাংশ।

ইতিমধ্যে, কর্মী সংগঠনের মামলায় আদালত পরিষ্কার বলে দিয়েছে, মহার্ঘভাতা সরকারি কর্মচারির আইনি অধিকার৷ ফলে আজ না হোক কাল সরকারকে বকেয়া মহার্ঘভাতা দিতেই হবে৷

বেতন কাঠামোর বদল দশ বছর পর পর হলেও মহার্ঘ ভাতা থেমে থাকে না৷ বাজার দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তার বৃদ্ধি হওয়ার কথা। যে কারণে কেন্দ্রের স্বশাসিত সংস্থায় বেতন কাঠামোর বদল না হয়ে থাকলেও মহার্ঘভাতা চলতি হারেই পেয়ে যাচ্ছেন (১৯৫%)৷

রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের বক্তব্য, এই রাজ্যে তা হয়না৷ তা যদি হতো, সেক্ষেত্রে বেতন সংশোধন না হলেও নিদিষ্ট নিয়মে ডিএ পেলে বর্তমান বেতনের থেকে অসংশোধিত বেতনে মোট বেতন বেশি হত।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.