আলাপনকে ৭০ বছরের পুরনো আইনের জোরে দিল্লিতে পোস্টিং, সেই আইনে কী বলা আছে, পাল্টা যুক্তি কী

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে বাংলায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে শুক্রবার কলাইকুণ্ডা বিমান ঘাঁটিতে রিভিউ মিটিং ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেদিনই রাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে পোস্টিংয়ে চিঠি ধরায় কেন্দ্রের কর্মিবর্গ দফতর।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যাবিনেট কমিটি অফ অ্যাপয়ন্টমেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আইএএস অফিসার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে বদলি করা হবে। ১৯৫৪ সালের ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস রুলের ৬ (১) নম্বর নিয়ম মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

আসলে মূল আইনটি হল, অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস অ্যাক্ট ১৯৫১। সেই আইন পাশ হওয়ার পর তা বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা ক্রমে ১৯৫৪ ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (ক্যাডার) রুল চূড়ান্ত করে।

তার ৬ (১) ধারায় কী বলা হয়েছে?

৬(১) নিয়মে বলা হয়েছে, কোনও ক্যাডার বা অফিসারকে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের সম্মতিক্রমে কেন্দ্রের অধীনে কোনও দফতরে পোস্টিং দিতে পারে। কিংবা অন্য রাজ্যের সরকারি দফতরে বা কেন্দ্রের অধীনে কোনও প্রতিষ্ঠান বা কমিটির কাজের জন্য পোস্টিং দিতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে কোনও মতান্তর হলে কেন্দ্রীয় সরকারের মত প্রাধান্য পাবে, রাজ্য সরকারকে তা বাস্তবায়িত করতে হবে।

বাংলার প্রাক্তন আমলাদের পাল্টা যুক্তি কী?

প্রাক্তন মুখ্য সচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, আইএএস ক্যাডার রুলের ৬(১) ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কোনও অফিসারকে কেন্দ্র সরকারের ডেপুটেশনে পাঠাতে হলে রাজ্য সরকারের সম্মতি চাই। এ ক্ষেত্রে যদি মতান্তর হয় তবেই কেন্দ্রের মতামত প্রাধান্য পাবে। কিন্তু প্রথম কথা হল, আগে তো সহমতের চেষ্টা করতে হবে। সেই ক্রোনোলজি তো মানা হয়নি।”

তাঁর কথায়, “সেন্ট্রাল ডেপুটেশনে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। সাধারণত যে সব অফিসাররা সেন্ট্রাল ডেপুটেশনে যেতে চান, তাঁদের নিয়ে একটা অফার লিস্ট তৈরি হয়। সেই তালিকা থেকে বিভিন্ন পোস্টে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু সে রকম কিছু না হয়ে থাকলে কেন্দ্রকে তাদের পদক্ষেপের ব্যাখ্যা তো দিতেই হবে।”

অপর প্রাক্তন মুখ্য সচিব অর্ধেন্দু সেনও এ ব্যাপারে এক মত। তিনি বলেছেন, “কেন্দ্রে যে পদক্ষেপ করেছে তা অযৌক্তিক। এবং অযৌক্তিক বলেই বেআইনি। তিন দিন আগে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্য সচিব পদে আরও তিন মাস এক্সটেনশন দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্র সহমত হয়েছিল। এই তিন দিনের মধ্যে কী এমন হয়ে গেল! শুধুমাত্র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রুল উদ্ধৃত করলেই তো হবে না, কেন্দ্রকে কারণ ব্যাখ্যাও করতে হবে।”

তাঁর কথায়, “এর পরিণতি কী হবে জানি না। রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে এই নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করতে পারে। তাতেও কেন্দ্র না শুনলে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।”

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.