প্রধান ও বুথ সভাপতির বিবাদে বর্ধমানে থমকে রাস্তা তৈরির কাজ, সমস্যায় বাসিন্দারা

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দুজন নেতার মন কষাকষি। দু’দল অনুগামীর কোন্দল। তারই জেরে আটকে আছে রাস্তা তৈরির কাজ। দু’পক্ষের কাদা ছোড়াছুড়িতে অনুমোদন হলেও রাস্তার কাজ থমকে পুর্ব বর্ধমান জেলার সদর এলাকার ঝিঙ্গুটি গ্রামে। প্রধানের ইচ্ছে একদিক দিয়ে কাজ শুরু করার। বুথ সভাপতির মর্জি আবার ভিন্ন। এর সঙ্গে আবার কোভিডের সময় সক্রিয়তা নিয়েও দাবি আর পাল্টা দাবি।

বাসিন্দারা জানান, এই এলাকায় প্রধানের গোষ্ঠীর সঙ্গে বুথ সভাপতির গোষ্ঠীর বিবাদ রয়েছে। লকডাউন পর্বে বুথ সভাপতির অনুগামী একটি পরিবারের সদস্য কোভিডে আক্রান্ত হন। অভিযোগ, প্রধান নিয়মকানুনের কথা বলে সাহায্য পৌঁছতে গড়িমসি করেন। পরে বুথ সভাপতি তাঁদের খাবারদাবার দিয়ে আসেন। পরে প্রধান খাদ্যসামগ্রী দিতে এলেও পরিবারটি তা প্রত্যাখান করে। অভিযোগ, এরপর থেকেই ওই এলাকায় সব সহযোগিতা বন্ধ করেন প্রধান।

এদিকে সম্প্রতি এলাকায় এই একটি ৪৭০ মিটার রাস্তা ঢালাইয়ের ওয়ার্ক অর্ডার আসে। গ্রামবাসী ও বুথ সভাপতির অভিযোগ প্রধান ও তার অনুরাগীরা রাস্তা পুরো সম্পূর্ণ করতে চাইছেন না। অন্যদিকে প্রধানের বক্তব্য রাস্তা তৈরির জন্য ৩.৫ লক্ষ টাকা এসেছে। তাতে যতটা করা সম্ভব ততটাই করা যাবে। সামনে ভোট। তার আগে অন্য কিছু কীভাবে করবেন। আবার বিপক্ষ গোষ্ঠী চান রাস্তা ঠিক উল্টোদিক থেকে শুরু হোক। গুরুসদয় পুকুর থেকে জগন পাত্রের বাড়ি পুরোটাই করতে হবে। বুথ সভাপতির বক্তব্য একই। নচেৎ রাস্তা করা যাবে না। এই নিয়ে বিবাদের জেরে রাস্তা তৈরির কাজটাই বন্ধ হয়েছে।

প্রধান জাহানারা খাতুনের অভিযোগ, “ওরা অনেকদিন থেকেই দলবিরোধী কাজ করছেন। খাবার দিতে গেলেও নেয়নি। উল্টোদিক দিয়ে কাজ শুরু করার দাবি তুলে কাজ আটকে দিচ্ছেন।” বুথ সভাপতির অভিযোগ, “প্রধান দু একজনের কথায় চলেন। গ্রামের মানুষের একাংশের সহযোগিতা পান না। নিজের মর্জিমত রাস্তার কাজ করানো যাবে না।”

স্থানীয় গ্রামবাসী কিশোর পাত্র ও লতিকা পাত্র। তাঁরাও ক্ষুব্ধ প্রধানের বিরুদ্ধে। তাঁরা বলছেন,“কাজ করলে পুরো রাস্তাই করতে হবে।”
ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে। সামনে ভোট। এই কাজ হলে গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। তবু দু’পক্ষের ইগো সমস্যায় ভুগছেন সেই গ্রামবাসীরাই।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.