উত্তরাখণ্ডে এখনও আটকে ৭০ বাঙালি পর্যটক, ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় নবান্ন

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand) দুর্যোগের মেঘ কাটছেই না। বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও পাহাড়ি ধসে জনজীবন বিপর্যস্ত। নৈনিতাল, আলমোড়াস রানিখেত ভেসে গেছে। জাতীয় সড়ক বিচ্ছিন্ন, বিদ্যুৎ নেই বেশিরভাগ জায়গায়। পানীয় জল, খাবারের অভাব। আটকে পড়েছেন পর্যটকরা। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, হুগলি, কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু পর্যটক ঘুরতে গিয়েছিলেন উত্তরাখণ্ড। সূত্রের খবর, হাওড়া থেকে যাওয়া সাতজনের একটি দলের খোঁজ মিলছে না। তাছাড়া কলকাতা, হাওড়া, হুগলির অনেকেই আটকে পড়েছেন। তাঁদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু করেছে নবান্ন।

সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরাখণ্ডে গিয়ে আটকে পড়েছেন ৭০ জনের বেশি বাঙালি পর্যটক। তাঁদের উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, উত্তরাখণ্ড সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পর্যটকদের কীভাবে উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনা যায় তার চেষ্টা চলছে। হাওড়ার অনেক পর্যটকই আটকে উত্তরাখণ্ডে। অনেকের খোঁজও মিলছে না। তাঁদের কীভাবে উদ্ধার করা যাবে সে প্রসঙ্গে হাওড়া জেলার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী পুলক রায় বলেছেন, “আমরা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। বাঙালি পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”

Death toll climbs to 52 in Uttarakhand; heavy rainfall batters parts of UP,  West Bengal - India News

রামরাজাতলার বাসিন্দা সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় আটকে রয়েছেন বাগেশ্বর এলাকায়। তিনি জানিয়েছেন, আট জন ট্রেকারের একটি দল গিয়েছিলেন উত্তরাখণ্ডে। পিন্ডারি হিমবাহে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়ায় তাঁরা সমতলে নেমে আসতে পারেননি। সরযূ নদীর জলস্তর বেড়ে রাস্তাঘাট ছাপিয়ে গেছে। তাছাড়া পাহাড়ি ধসে জাতীয় সড়ক বন্ধ। কীভাবে ফিরে আসা যাবে সেই চিন্তাই করছেন তাঁরা।

হিন্দ মোটরের আরও চারটি বাঙালি পরিবার আটকে রয়েছেন উত্তরাখণ্ডে। জানা গেছে, মোট ১২ জনের একটি দল বদ্রীনাথের দিকে রওনা দেন। কিন্তু ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ফিরতে পারেননি। বদ্রীনাথের সড়কপথও এখন বন্ধ। ওই পরিবারের অন্য তিনজন দেবাশিস দাস, দেবাঞ্জন পাঠক ও সুখেন্দু দাস যোশীমঠে আটকে পড়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া ভ্রমণার্থী ও ট্রেকারদের অনেকেই আটকে উত্তরাখণ্ডের নানা জায়গায়। হাওড়া থেকে যাওয়া বাংলার সাতজন ট্রেকারের একটি দলের খোঁজল মিলছে না। উত্তরকাশী জেলার বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, ওই দলটির  হরশিল থেকে ছিটকুল যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা পৌঁছতে পারেননি। কোথায় আটকে পড়েছেন তা জানতে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।

আমতা থেকে ১৪ জন বাঙালি পর্যটকের একটি দল কাঠগোদামে আটকে রয়েছেন। তাঁদের পরিবার জানিয়েছে, হোটেল খাবার নেই, পানীয় জল নেই, এমনকি বিদ্যুৎ পরিষেবাও বিচ্ছিন্ন। বেশিরভাগ পর্যটকই মোবাইলে চার্জ দিতে পারছেন না, ফলে তাঁরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছেন না। অনেকে মাঝরাস্তায় আটকে রয়েছেন। বাসের ভেতরে দিন কাটাতে হচ্ছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছেন, বৃষ্টি-বন্যায় ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের। কমপক্ষে ৪৬টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নৈনিতালে। নৈনি লেকের জল উপচে রাস্তাঘাট ভেসে গেছে। সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। টানা বৃষ্টিতে ধস নেমে রাজ্য থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে রানিখেত ও আলমোড়া। জরুরি পরিষেবাও মিলছে না। বাড়িঘর ধসে পড়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এনডিআরএফ। এখনও পর্যন্ত উধম সিংহ নগর ও নৈনিতাল থেকে আটকে পড়া ১৩০০ মানুষকে উদ্ধার করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.