সুরক্ষা যোজনায় অরক্ষিত জননীরা, শুধু আরজি করেই টাকা পাননি সাড়ে পাঁচ হাজার মা

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাঁড়ারের দুর্দশা নাকি হাসপাতালের গাফিলতি তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু জননী সুরক্ষা যোজনার প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিতই হচ্ছেন মায়েরা। সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরে সুরক্ষা যোজনার টাকা পাচ্ছেন না হাজার হাজার মা। আর এই অভিযোগ উঠেছে খাস কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের বিরুদ্ধেই।

মাতৃ প্রকল্প যখন অনিশ্চয়তার শিকার হয়, তখন তা গুরুতর অভিযোগই বটে। কেন্দ্রীয় সরকার যেখানে টাকা দেয় এবং তার পরিমাণটাও অঢেল, সেখানে প্রকল্পের কাজকর্ম স্তব্ধ হতে বসলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন যে মা বা প্রসবের পরে মা ও সন্তানের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার জননী সুরক্ষা যোজনা চালু করেছিল। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ এই যোজনার জন্য বরাদ্দ। বিশেষত দারিদ্র সীমার নীচে থাকা মহিলারা এই প্রকল্পে উপকৃত হবেন সেটাই উদ্দেশ্য। সেখানে মায়েরাই তাঁদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নানাভাবে। অভিযোগ, গত সাত মাসে আরজি করে চিকিৎসাধীন অন্তত সাড়ে পাঁচ হাজার মা জননী সুরক্ষা যোজনার টাকা হাতে পাননি। সাড়ে পাঁচ হাজার মায়ের প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ ৫০ লক্ষ টাকা।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, আরও।কিছু হাসপাতালের ক্ষেত্রে একই সমস্যা চলছে। সময়ে টাকা পাচ্ছেন না মায়েরা।
আরজি কর হাসপাতালের বিরুদ্ধে আগেও এমন অভিযোগ উঠেছিল। মে মাসের আগেও যে মায়েরা সুরক্ষা যোজনার টাকা পেয়েছিলেন তা নয়। প্রকল্পের নিয়মমাফিক, সরাসরি মায়েদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার কথা। কিন্তু আরজি করে পিপি ইউনিট চেকের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হত। অভিযোগ, পিপি ইউনিটের খাতায় চেক বিলি হলেও তা মায়েদের হাতে পৌঁছয়নি। এদিকে, হাসপাতালের জননী সুরক্ষা যোজনা খাতে ১০ লক্ষ টাকা পড়ে আছে।

গ্রুপ ডি নিয়োগে সিবিআই অনুসন্ধানে স্থগিতাদেশ ডিভিশন বেঞ্চের, আপাতত স্বস্তি নবান্নের

এই প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব হেল্‌থ সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মানস গুমটা বলেছেন, মায়েদের জন্য যে প্রকল্প সেটাই অনিশ্চয়তার মুখে। কে টাকা দিচ্ছে না, কেন টাকা পাচ্ছে না, তার থেকেও বড় কথা হল সন্তানের জন্ম দেওয়া মায়েরা তাঁদের প্রাপ্য টাকা পাচ্ছেন না। সবচেয়ে বড় অপরাধ হচ্ছে সেখানেই।
জননী শিশু সুরক্ষা যোজনা শুরু হয়েছিল ২০১২-১৩ আর্থিক বছরে। নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য চালু হওয়া জননী সুরক্ষা যোজনায় প্রসূতিদের জন্য নিখরচায় নানা ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষার ব্যবস্থা করার কথা। ডাঃ মানস গুমটা বললেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার আগে মায়েদের হাতে হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা। সেই টাকাই পাচ্ছেন না মায়েরা। কোথায় গলদ হচ্ছে তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত সরকারের।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.