আকাশযুদ্ধের ব্রহ্মাস্ত্র ‘ইনফিনিটি’ ড্রোন আনছে হ্যাল, সৌরশক্তিতে ৬৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়বে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলবে সৌর-শক্তিতে। বায়ুমণ্ডলের ট্রোপোস্ফিয়ার ছাড়িয়ে উড়ে যাবে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও। ড্রোন থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসবে ক্ষেপণাস্ত্র। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে শত্রু সেনার ঘাঁটি। ঠিক যেন হলিউড সিনেমা ‘ওয়ার’-এর মতোই। বাস্তবেও এমন ড্রোনই তৈরি করেছে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্যাল লিমিটেড তথা হ্যাল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনে আকাশপথে যুদ্ধের ব্রহ্মাস্ত্র হতে চলেছে এই ড্রোন।

এত কাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চিন ও রাশিয়ার হাতেই ছিল এই প্রযুক্তি। এবার খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে এমন যুদ্ধ ড্রোন বানাচ্ছে ভারত। নাম ইনফিনিটি। হ্যালের সঙ্গে এই ড্রোনের নকশা ও প্রযুক্তিতে রয়েছে বেঙ্গালুরুর ‘নিউস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিস’। আলফা-এস বা এয়ার লঞ্চড ফ্লেক্সিবল অ্যাসেট (সোয়ার্ম) প্রকল্পের অধীনে এই ড্রোন বানানো হচ্ছে।

 

সৌরশক্তিতে উড়বে যোদ্ধা ড্রোন ইনফিনিটি

ভারতে নানা প্রযুক্তি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল বা চালকহীন যুদ্ধবিমান তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোনের প্রযুক্তি বাকিদের পিছনে ফেলে দেবে। ড্রোনটি ছুটবে ১০০ কিলোমিটার গতিতে। উড়তে পারবে ৬৫ হাজার ফুট উচ্চতা দিয়ে। একটানা ৯০ দিন আকাশে থেকে নজরদারি চালাতে পারবে ইনফিনিটি। একই সঙ্গে ক্ষেপাণাস্ত্র হামলা করে শত্রুসেনার যুদ্ধবিমান বা সশস্ত্র ড্রোনকে ঘায়েল করতে পারবে।

Image result for solar-powered Infinity drone

হ্যাল-এর ‘কমব্যাট এয়ার টিমিং প্রোগ্রাম’ (সিএটিএস)-এর অংশ হিসেবে এই ড্রোন ভবিষ্যতে সীমান্ত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ভারতীয় স্থলসেনা এবং বায়ুসেনার কার্যকরী হাতিয়ার হয়ে উঠবে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি। চিন এবং পাকিস্তানের হাতে থাকা ড্রোনের তুলনায় সামরিক উৎকর্ষে অনেক এগিয়ে রয়েছে ভারতের ইনফিনিটি। আলফা-এস সোয়ার্ম ড্রোন বা ওয়ারিয়র উইংম্যানের মতোই আকাশ সুরক্ষার বড় অস্ত্র হতে চলেছে এই ড্রোন।

আরও পড়ুন: রুস্তম! ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ল ভারতের ‘যোদ্ধা’ ড্রোন, মোতায়েন হবে লাদাখ সীমান্তে

ইনফ্রারেড ও ইলেকট্রো অপটিক্যাল সেন্সরের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি থাকবে এই ড্রোনগুলিতে। যে কারণে ড্রোনগুলি নিজেদের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান করতে পারবে। লাইভ ভিডিও করতে পারবে ইনফিনিটি। শত্রুঘাঁটির সঠিক অবস্থান, তাদের সেনা বিন্যাস সবকিছুরই নিখুঁত ছবি ও ভিডিও তুলে আনতে পারবে। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে শুধু নয়, এই ড্রোনের প্রযুক্তিকে যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা ও উদ্ধারকাজেও লাগানো যাবে।

পুলওয়ামা হামলার পর বালাকোটে জইশ শিবিরের খবর আনতে নেত্র যুদ্ধবিমানকে পাঠিয়েছিল বায়ুসেনা। তারপরেই এয়ার স্ট্রাইকের ঘুঁটি সাজানো হয়েছিল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ড্রোন খবর আনার কাজ তো বটেই প্রয়োজনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালাতে পারবে শত্রু শিবিরের ওপরে। ৬৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে পারবে এই ড্রোন, ফলে প্রতিপক্ষের নাগালের বাইরেই থাকবে। হালেও নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে পাক সেনাদের অবস্থান ও জঙ্গি শিবিরের সন্ধান পেতে এই ড্রোনকে কাজে লাগানো যাবে। শত্রুর অলক্ষ্যে এই ড্রোনগুলিকে উড়িয়ে দেওয়া হবে। অভিযানের সময়সীমা যদি দীর্ঘক্ষণ হয়, তাহলেও একই গতিতে দীর্ঘ সময় ধরে উড়তে পারবে এই ড্রোন।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.