মিথ্যা বলছে কেন্দ্র, অক্সিজেনের অভাবে দিল্লিতে অনেক করোনা রোগী মারা যান: সত্যেন্দ্র জৈন

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অক্সিজেনের অভাবে কোভিড রোগীদের মৃত্যুর খবর জানে না সরকার, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরেই দেশজুড়ে ঝড় উঠেছে। অক্সিজেন সঙ্কট নিয়ে কেন্দ্রের দায়সারা মন্তব্যের বিরোধিতায় কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিরোধীপক্ষ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরু থেকেই অক্সিজেনের ঘাটতিতে সবচেয়ে বেশি ভুগেছে দিল্লি। অক্সিজেনের অভাবে অনেক করোনা রোগীর মৃত্যুর খবরও মিলেছে। সেই প্রসঙ্গ তুলেই বুধবার কেন্দ্রের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করলেন দিল্লি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন।

‘ডাহা মিথ্যা বলছে কেন্দ্র’, সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সত্যেন্দ্র জৈন। তাঁর বক্তব্য, দিল্লিতে গতকালও ৪৪ জন নতুন আক্রান্ত ধরা পড়েছে, অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৫৬৯। এর পরে হয়ত কেন্দ্র বলবে দিল্লিতে কোভিড ছিলই না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রের কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে কোন যুক্তিতে হাসপাতালগুলো অক্সিজেনের জোগান বাড়ানোর জন্য হাইকোর্ট অবধি ছুটে গেল। টিভিতেও দেখানো হয়েছে, কীভাবে দিল্লির বড় হাসপাতালগুলিতেও অক্সিজেনের প্রবল ঘাটতি ছিল। অক্সিজেন দিতে না পারায় কীভাবে রোগী মৃত্যু হয়েছে। এত কিছুর পরেও কেন্দ্রীয় সরকার দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দিল্লিতে প্রতিদিনের চাহিদা মাফিক ৭০০ মেট্রিক টন মেডিক্যাল অক্সিজেন পাঠানোর আর্জি জানানো হয়েছিল কেন্দ্রকে। কিন্তু বরাদ্দের তুলনায় বরাবরই কম অক্সিজেন পাঠায় কেন্দ্র। কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য অক্সিজেনের অভাব দেখা দিতে থাকে। বাধ্য হয়েই হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করতে হয়। সেই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট অবধি। অক্সিজেনের অভাবে রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করে হাইকোর্ট। চাঁচাছোলা ভাষায় বিচারপতিরা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে মুখ লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। একে অমার্জনীয় অপরাধ বলেও উল্লেখ করে দিল্লি হাইকোর্ট।

সত্যেন্দর জৈন বলেছেন, অক্সিজেনের কতটা জোগান লাগবে সে নিয়ে অডিট কমিটি তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু কেন্দ্র সেই কমিটি বন্ধ করে দেয়। ওই কমিটির কাছেই অক্সিজেনে মৃত্যুর সমস্ত তথ্য ছিল।

রাজ্যসভায় গতকালই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ভারতী প্রবীণ বলেছেন, অক্সিজেনের অভাবে রোগী মৃত্যুর কোনও তথ্যই দেয়নি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি। আজ সরকারের তরফে ফের বলা হয়েছে, কোউইন অ্যাপেও অক্সিজেন সঙ্কটে মৃত্যুর ডেটা লেখা নেই। রাজ্যগুলিও এ ব্যাপারে খাতায় কলমে সরকারকে কিছু জানায়নি।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.