পুজোয় কোভিড ঠেকাতে এখনই কী কী সতর্কতা প্রয়োজন? শুনুন ডাক্তারবাবুদের পরামর্শ

0

চৈতালী চক্রবর্তী

কেরলে করোনা সংক্রমণ মারাত্মক চেহারা নিয়েছে। সংক্রমণের হার কেন বাড়ছে সে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আজ মঙ্গলবার বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের ডিরেক্টর ডক্টর সুজিত কুমার সিং সংক্রমণ বৃদ্ধির ৯টি কারণ চিহ্নিত করেছেন, যেগুলির মধ্যে রয়েছে গোষ্ঠী সংক্রমণ, কোভিড বিধি লঙ্ঘন, বয়স্কদের সংক্রমণের হার, অসংক্রামক রোগ তথা কোমর্বিডিটির কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধি, ডেল্টা স্ট্রেনের প্রকোপ, উৎসব-অনুষ্ঠানে ভিড় ইত্যাদি। এখন প্রশ্ন হল, আমাদের পশ্চিমবঙ্গেও এইসব কারণেই সংক্রমণ ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছিল দ্বিতীয় ওয়েভে। কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আসন্ন। কেরলে ঠিক যে যে কারণে সংক্রমণ বেড়েছে, আমাদের রাজ্যেও ঠিক সেই কারণগুলিই দেখা দিতে পারে। সামনেই দুর্গাপুজো। অনুষ্ঠানবিধিতে নিয়ম মানার নির্দেশ দিলেও, মানুষজন বেপরোয়া। কেরলের মতো এ রাজ্যেও কোভিড সংক্রমণের হার তথা ইনফেকশন রেট বাড়ার সম্ভাবনা আছে কিনা, কী কী বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে, সে নিয়ে রাজ্যের বিশিষ্ট কয়েকজন চিকিৎসক তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন।

Lockdown-like Covid curbs in Bengal; malls, restaurants, gyms shut till further orders - Coronavirus Outbreak News

পশ্চিমবঙ্গে কোভিড পজিটিভিটি রেট বেশি

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক আগেই হিসেব দেখিয়েছিল, কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার বৃদ্ধিতে গোয়া ও পুদুচেরীর পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মে মাসেই সংক্রমণের হার ছিল ৩৪ শতাংশের বেশি। এই ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ (সিনিয়র পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট) ডাক্তার সুবর্ণ গোস্বামী বলেছেন, কোভিড পজিটিভিটি রেট যদি বাড়ে তাহলে সংক্রমণের ঢেউ প্রবলভাবে আচড়ে পড়বে। কোভিড পজিটিভিটি রেট মানে হল প্রতি দিন যে সংখ্যক কোভিড টেস্ট করা হয়, তার মধ্যে যত শতাংশের রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তাকেই ‘পজিটিভিটি রেট’ বা সংক্রমণের হার বলা হয়। অর্থাৎ প্রতিদিনে যত জন করোনা পরীক্ষা করাচ্ছে, তার মধ্যে প্রতি ১০০ জনে যতজনের টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ আসবে তাকেই বলা হবে পজিটিভিটি রেট। এখন এই পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার তখনই বাড়ে, যখন করোনা কোভিড টেস্ট ঠিকমতো করা হয় না, বা নমুনা পরীক্ষায় কোনও খামতি থাকে। যদি কোনও রাজ্যের সব জেলাতে ঠিকমতো পরিকল্পনা করে কোভিড টেস্ট না করা হয়, তাহলে বেশিরভাগ রোগীকেই শণাক্ত করা যাবে না। তাদের থেকে আবার সংক্রমণ বেশিজনের মধ্যে ছড়াবে। এইভাবে সংক্রমণের হার ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে। ডাক্তারবাবু বলছেন, গত মাসেই রাজ্যে কোভিড পজিটিভিটি রেট ১.৮৫ এ পৌঁছে গিয়েছিল, মানে প্রায় ২ শতাংশ। গতকালের রেট ১.৫৮। কাজেই এখনই যদি করোনা পরীক্ষা না বাড়ানো হয়, তাহলে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বাড়বে। দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো তৃতীয় ঢেউও মারাত্মক হয়ে দেখা দিতে পারে।

Bizzare! Four people test Covid positive without undertaking test in Bengal - India News

কেরলের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে করোনা পরীক্ষা কম হচ্ছে, কীভাবে পরিকাঠামো সাজাতে হবে?

ডাক্তার সুবর্ণ গোস্বামী বলছেন, কেরলে করোনা পরীক্ষা বেশি হচ্ছে তাই কোভিড পজিটিভ রোগীদের বেশি চিহ্নিত করা যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যাও তাই বেশি দেখাচ্ছে। এর একটা ভাল দিক হল, যত বেশিজন আক্রান্ত ধরা পড়বে ততই দ্রুত চিকিৎসা হবে, সুস্থতার হার বাড়বে। পশ্চিমবঙ্গে করোনা পরীক্ষা তুলনায় কম হচ্ছে। তাই বহু রোগীকে শণাক্ত করাই যাচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গে যদি কোভিড সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাহলে সবচেয়ে আগে কোভিড টেস্ট বাড়াতে হবে। কীভাবে হবে কোভিড টেস্ট—

Coronavirus: West Bengal Records Highest Daily Surge Of 17,403 New COVID-19 Cases Amid Elections

অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ টেস্ট

কোভিড অ্যাকটিভ টেস্টিং বাড়াতে হবে। অ্যাকটিভ টেস্ট মানে হল, সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্বাস্থ্যকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোভিড টেস্টের ব্যবস্থা করবে। এখন রাজ্যে যা হচ্ছে তা হল প্যাসিভ টেস্টিং। মানে কেউ যদি মনে করেন তাঁর উপসর্গ রয়েছে তাহলে তিনি টেস্ট করাচ্ছেন। পরিষেবা নিতে আসা লোকজনের টেস্ট করা হচ্ছে। এটা হল ‘প্যাসিভ সার্ভিস’। সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালেও টেস্টিং এর কোটা আছে। একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার পরে বাকিদের টেস্ট হচ্ছে না বা পিছিয়ে যাচ্ছে। এইভাবে বহু রোগীকে শণাক্ত করা যাচ্ছে না। দেখা গেছে, মামুলি সর্দি-কাশি হয়েছে বলে কোভিড টেস্ট করাননি, এমন ব্যক্তির শরীরে পরে কোভিডের সংক্রামক স্ট্রেন ধরা পডে়ছে। ধরা যাক, সর্দি ও জ্বর নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসা ১০ জন রোগীকেও যদি টেস্ট করা হয়, অন্তত পাঁচজন তো কোভিড পজিটিভ বের হবেই। এই চিহ্নিতকরণটাই দরকার। তাছাড়া দোকানে, সবজি বাজারে, বাসস্ট্যান্ডে, জনবহুল এলাকায় করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার। পরিবহন কর্মী, পুলিশ-স্বাস্থ্যকর্মী, বস্তি এলাকাগুলোতে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। অফিসগুলোও যদি এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় তাহলে ভাল হয়। অর্থাৎ রুটিন টেস্ট চালু করতে হবে, যেভাবে রুটিন মেডিক্যাল চেক আপ করা হয়। সার্বিকভাবে রাজ্যের সমস্ত জায়গায় এই প্রক্রিয়া শুরু করলে দ্রুত কাজ হবে।

500+ "Dipika" profiles | LinkedIn
(বাঁ দিক থেকে) ডাঃ অনির্বাণ দলুই, ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী, ডাঃ দীপিকা সুর

মাস্ক বিধি মানছে না রাজ্যের অনেক জেলাই

কোভিড নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটা বড় পদক্ষেপ হল মাস্ক পরার নিয়ম বাধ্যতামূলক করা। ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামীআরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (কমিউনিটি মেডিসিন) ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ অনির্বাণ দলুই বলেছেন, মহারাষ্ট্র মাস্ক বিধি যতটা কড়া, পশ্চিমবঙ্গে তেমনটা নয়। বাইরের কয়েকটি রাজ্যে মাস্ক ছাড়া রাস্তায় গুরতে দেখলেই মোটা অঙ্কের টাকা ফাইন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে মাস্ক পরা নিয়ে রাজ্য সরকারের গাইডলাইন থাকলেও তা মানছেন কতজন? সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাস্ক পরার হারে এখনও পিছিয়ে রাজ্যের কয়েকটি জেলা।

মাস্ক পরার হারে সবচেয়ে এগিয়ে দার্জিলিং ৮১.৫%, এরপরে দক্ষিণ দিনাজপুর ও আলিপুরদুয়ার যথাক্রমে ৭৪.৪% ও ৭২.৮%, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পংয়েও প্রায় ৬৮-৬৯%। এদিকে আমাদের কলকাতায় ৬২.৮%, হাওড়াতেও ৬০ শতাংশের মতো। কিন্তু উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, আসানসোল, বাঁকুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, বর্ধমানে মাস্ক পরার হার খুব কম। সবচেয়ে কম উত্তর দিনাজপুরে ১৬.৮%, বাকিগুলিতে গড়ে ৩০-৪০ শতাংশের মতো।

মাস্ক না পরার হার যেমন বেশি, তেমনি ঠিক মতো মাস্ক পরছেন না এমন লোকজনের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বেশিরভাগেরই মাস্ক কান থেকে ঝুলছে বা থুতনির নীচে নামানো। নাক-মুখ ঢাকেনি পুরোপুরি। সমীক্ষা বলছে, শহরগুলিতে মাস্ক পরছেন না এমন মানুষজনের সংখ্যা ৪৩ শতাংশের মতো, ঠিকমতো মাস্ক পরছেন না এমন মানুষজন ১৯ শতাংশ। প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে, মাস্ক না পরার হার ৬০ শতাংশ, ঠিক মতো মাস্ক পরছেন না ১৪ শতাংশ। আরও চমকে দেওয়ার মতো ব্যাপার হল, জনবহুল এলাকা যেমন বাজার, শপিং মলে মাস্ক না পরার হার প্রায় ৫৪ শতাংশ।

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, শুধু নির্দেশিকা জারি করে নয়, কড়া আইনি ব্যবস্থা নিয়ে যদি মাস্ক পরার নিয়ম চালু করা যায়, তাহলে আখেরে সাধারণ মানুষেরই লাভ হবে।

Covid lockdown clamped in West Bengal, restrictions extended in several states - The Financial Express


সেরো সার্ভের রিপোর্টে কেরলের থেকে আমরা ভাল জায়গায়, বিপদ আসতে পারে অন্যদিকে

ডাঃ অনির্বাণ দলুই বলছেন, সেরো সার্ভের রিপোর্টে দেখা গেছে, কেরলে সেরো পজিটিভের সংখ্যা ৪৪ শতাংশের মতো। মানে হল, খুব কম জনের মধ্যে কোভিডের অ্যান্টিবডি রয়েছে। সেদিক থেকে পশ্চিমবঙ্গ ভাল জায়গায় আছে। সেরো পজিটিভের সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি। সেরো সার্ভে মানে হল রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ নির্ণয়। এই সার্ভে থেকে বোঝা যায়, কোন এলাকায় কতজন কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন, সংক্রমণ কতজনের মধ্যে ছড়িয়েছিল। সেরো পজিটিভ হওয়া মানে কোভিড সংক্রমণ হয়ত অজান্তেই হয়েছে এবং সেরেও গেছে আর সেই ব্যক্তির রক্তে কোভিড প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ডাক্তারবাবু বলছেন, এখনও অবধি আমাদের রাজ্য সেরো সার্ভের রিপোর্টে খুব একটা খারাপ জায়গায় নেই।

তবে বিপদ আসতে পারে অন্যভাবে। যদি কোভিড স্ট্রেনের ফের মিউটেশন হয়, এবং নতুন প্রজাতির আগমন ঘটে তাহলে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়তে থাকবে। আমাদের রাজ্যে কোভিড টেস্ট কম, টিকাকরণের প্রক্রিয়াও ধীরগতিতে হচ্ছে, কাজেই ডেল্টার মতো নতুন সুপার-স্প্রেডার প্রজাতি ছড়িয়ে পড়লে সংক্রমণের কার্ভ সীমা ছাড়িয়ে যাবে। তাই শুধু কোভিড টেস্ট নয়, কী ধরনের স্ট্রেন ছড়াচ্ছে তা জানার জন্য জিনোম সিকুয়েন্সও করতে হবে। যাদের কোভিড ধরা পড়ছে তাদের শরীরে আলফা, বিটা না ডেল্টা স্ট্রেন রয়েছে, তা জানা যাচ্ছে না। কাজেই যতক্ষণে কোভিড রোগীকে চিহ্নিত করা হচ্ছে, ততদিনে রোগ আরও পাঁচজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। কেরলে ঠিক এই কারণে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে গোষ্ঠী সংক্রমণ না হলেও আগামী দিনের জন্য সতর্ক থাকতেই হবে।

অসংক্রামক রোগ থেকে সাবধান

অসংক্রামক রোগ বা নন-কমিউনিকেবল ডিজিজের চিকিৎসা এখন অনেক কমে গেছে। ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী বললেন, ২০১৮-১৯ সাল থেকে অসংক্রামক রোগের চিকিৎসার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ইদানীং কোভিডের কারণে তা একপ্রকার বন্ধই হতে বসেছে। যে রোগ নীরবে আসে, মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ে না ঠিকই কিন্তু চুপিচুপি প্রাণ কেড়ে নেয়, তার খবর সেভাবে কখনও হয় না। সংক্রামক রোগ নয়, এই অসংক্রামক অসুখেরই কিন্তু বাড়বাড়ন্ত দেশে। হার্ট, লিভার, কিডনির রোগ, গেঁটে বাত থেকে শ্বাসকষ্ট, হাইপারটেনশন, ওবেসিটি—এইসব অসুখ ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে। অথচ অসংক্রামক রোগ নিয়ে তেমন হইচই হয় না কখনও। এখন মহামারী পর্যায়তেও এই ধরনের অসুখ বেড়ে চলেছে। ভারতে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সের লোকের রোগের ৬২ শতাংশই দীর্ঘস্থায়ী বা অসংক্রামক রোগের শিকার। অথচ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে শুরুতেই এই রোগ ধরা পড়ে। ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, হার্টের অসুখ ইত্যাদি রোগ থাকলে কোভিড সংক্রমণও চট করে ধরে নেয়। অসংক্রামক রোগের মধ্যে আমাদের দেশে উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, গাঁটের ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীর সংখ্যা বেশি। তাছাড়া আছে, হাইপারটেনশন, ওবেসিটি। এই ধরনের রোগের শণাক্তকরণ হওয়া দরকার, না হলে কোভিড মহামারীতেও লাগাম পরানো যাবে না।

 

রিইনফেনশন বা পুণঃসংক্রমণ কখন সিভিয়ার হবে

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, কেরলের রিপোর্ট দেখলে বোঝা যাবে, কোভিডের পুণঃসংক্রমণ অর্থাৎ দ্বিতীয়বারও সংক্রমণ ফিরে আসার সংখ্যা বেশি। পশ্চিমবঙ্গে ততটা না হলেও ঝুঁকি আছে। কোভিড ভ্যাকসিনের দুটো ডোজ নেওয়ার পরেও সংক্রমিত হয়েছেন এমন রোগীরা আছেন, তবে রোগ ততটা জটিল হয়নি। প্রতি দশ হাজারে হয়তো কয়েকজনের দ্বিতীয়বারও সংক্রমণ মারাত্মক হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে সেই সংখ্যা কম। এই পুণসংক্রমণ তখনই সিভিয়ার হবে যখন আক্রান্তের থেকে সংক্রমণ আরও কয়েকজনের মধ্যে ছড়াবে। ধরা যাক, যিনি ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নিয়েছেন তাঁর দ্বিতীয়বারও সংক্রমণ হল। যেহেতু টিকা নেওয়া আছে তাই ভাইরাল লোড কম হল, এবার তাঁর থেকে যতজনের মধ্যে ছড়াবে তাঁদের রোগ কিন্তু বড় হয়ে দেখা দিতে পারে। কেরলে এই ব্যাপারটা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও হওয়ার আশঙ্কা আছে।

এই রিইনফেকশন রোখার একটা উপায় হল কোভিডের বুস্টার ডোজ। মানে দুটি ডোজের পরেও তৃতীয় ডোজ। সেকেন্ড ডোজ নেওয়ার ছ’মাসের মধ্যে এই বুস্টার ডোজ নিলে সংক্রমণ ফিরে আসার ঝুঁকি কমে। ব্রিটেন, আমেরিকায় এই বুস্টার ডোজ চালু হয়েছে। আমাদের রাজ্যে যেহেতু টিকার ডোজের জোগান কম তাই এখনই এই ব্যাপারে কিছু করা সম্ভব নয়।

Durga Puja 2020: This Is How Durga Puja Will Look Like In A Pandemic Year

সামনেই দুর্গাপুজো, বাঙালির নানা পার্বন, সকলে সাবধান থাকুন

‘ব্রেকথ্রু ইনফেকশন’ যাকে বলে, যেমন ডেল্টা বা সংক্রামক স্ট্রেনের ইনফেকশন ফিরে আসার আশঙ্কা আছে। আইসিএমআর-নাইসেডের প্রাক্তন বিজ্ঞানী জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ দীপিকা সুর বললেন, ব্রিটেন থেকে যে ডেল্টা স্ট্রেন ঢুকছে আর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যে ডেল্টা স্ট্রেন ঢুকছে তারা কিন্তু জিনের বিন্যাসে আলাদা। কাজেই মিউটেশন বা জিনগত বদলের কারণে যদি নতুন কোনও স্ট্রেনের জন্ম হয় এবং পশ্চিমবঙ্গেই হয়, তাহলে দ্বিতীয় ঢেউয়ের থেকেও খারাপ অবস্থা তৈরি হবে। সামনেই পুজো, আরও নানা পার্বণ রয়েছে, এই সময় একটু বেশিই সতর্ক থাকতে হবে। পুজোর সময় কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হবে, মানুষজন কী নিয়ম মানবেন এই নিয়ে গত বছরও নির্দেশিকা জারি করেছিল রাজ্য সরকার। এ বছরেও হবে, কিন্তু সাধারণ মানুষজন কতটা মানবেন সেটাই আসল প্রশ্ন। ডাঃ দীপিকা বলছেন, পুজোর আগে কেনাকাটার ব্যাপার আছে। দোকান, শপিং মলগুলিতে ভিড় হবে। এই সময় একটু নিয়ম মানতেই হবে জনসাধারণকে। মুখে মাস্ক থাকাটা জরুরি, সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং মানুন সকলে। এতদিনের কোভিড নিয়ম মেনে পুজো মানেই দমফাটা আনন্দে ঝাঁপিয়ে পড়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। প্রায় কোনও বিধির তোয়াক্কা না করে মানুষজন যদি শঙ্খলার জলাঞ্জলি দেন, তাহলে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ বেলাগাম হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, অক্টোবর মাসেই কিন্তু থার্ড ওয়েভ আসার পূর্বাভাস জারি হয়েছে।

এখন যা পরিস্থিতি তাতে টিকাকরণের গতি বাড়াটা কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করছে। সাধারণ মানুষ শুধু নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। তার জন্য মাস্ক পরা, পারস্পরিক দূরত্ব রাখাটা জরুরি। কোভিড টেস্ট রুটিনমাফিক করতে হবে, ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে আর কোনওরকম জমায়েত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.