বামফ্রন্টের ভাঙন ঠেকালেন বিমান, ফরওয়ার্ড ব্লকের বিদ্রোহে ইতি, ‘জোড়া ক্র্যাচ’ সরানোর দাবি নরেনের

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারে থাকার সময়েও শরিকি কোন্দল দেখা যেত বামফ্রন্টের মধ্যে। তা কখনও সিপিএম-আরএসপি কিংবা ফরওয়ার্ড ব্লক-সিপিএম। অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও, শত দ্বন্দ্বে বিদীর্ণ হওয়ার পরেও বাংলায় বামফ্রন্ট ভাঙেনি। কিন্তু একুশের ভোটে ভরাডুবির পর সেই সম্ভাবনা তৈরি করেছিল হেমন্ত বসু ভবনের বিদ্রোহ। তবে শেষমেশ বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু কার্যত একাই সামলালেন পরিস্থিতি।

এদিন সকাল থেকে অনেক সংবাদমাধ্যম লিখতে শুরু করেছিল, বামফ্রন্ট ভেঙে যাচ্ছে। কেউ কেউ আরও কিছুটা আগবাড়িয়ে বলেছিল, তৃণমূলের দিকে পা বাড়াচ্ছে ফরওয়ার্ড ব্লক। কিন্তু দুপুরে ফরওয়ার্ড ব্লক রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে বাংলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, ফরওয়ার্ড ব্লক বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছিল। সেই চিঠির ভিত্তিতে বিমানবাবুর সঙ্গে এবং সিপিএমের সঙ্গে দু’বার দ্বিপাক্ষিক আলোচনা তাঁদের হয়েছে। তারপর এই সিদ্ধান্তে তাঁরা উপনীত হয়েছেন, ফ্রন্টেই থাকছেন। বামফ্রন্ট ভাঙার কোনও ইচ্ছে তাঁদের নেই।

এ ব্যাপারে বারবার বিমান বসুর ইতিবাচক ভূমিকার কথা বলেছেন নরেনবাবু। তবে ফরওয়ার্ডব্লক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বামফ্রন্টের দু’দিকে দুটো ক্র্যাচকে মানুষ ভাল ভাবে নিচ্ছে না। কোন দুটি ক্র্যাচ? কংগ্রেস এবং আইএসএফ-কে জোড়া ক্র্যাচ বলে উল্লেখ করেছেন নরেন।

তাঁর কথায়, মানুষের রায়েই স্পষ্ট তাঁরা নির্বাচন থেকে গণসংগ্রাম—সব জায়গাতেই বামফ্রন্টকে দেখতে চান। বামফ্রন্টই আসল জোট। বাকি সব নকল। নরেনবাবু এও বলেন, ষোলর আগে যেমন কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়ে তাঁদের অন্ধকারে রাখা হয়েছিল, একুশের ভোটেও আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়ে তাঁরা কিছু জানতে পারেননি। নির্বাচনের প্রাক মুহূর্তে যাতে বামফ্রন্টে ফাটল না ধরে তাই তাঁরা প্রকাশ্যে কিছু বলেননি বলে দাবি ফরওয়ার্ড ব্লক রাজ্য সম্পাদকের।

২০১৬-র ভোটের পরে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল ফরওয়ার্ড ব্লক। যদিও তা ধোপে টেকেনি। তবে একুশের আগে কংগ্রেস নিয়ে কিছুটা নরমই ছিল এই বাম শরিক। কিন্তু ভোট মিটতেই আইএসএফ নিয়ে ফোঁস করে ওঠে তারা। এদিনও নরেনবাবু বলেছেন, কী এমন হল যে পীরজাদাকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ভোট লড়তে হবে। তা ছাড়া এর আগে নরেন চট্টোপাধ্যায়ই দ্য ওয়াল-কে বলেছিলেন, “আমার বাড়ির পাশে বৈদ্যবাটি সিপিএম পার্টি অফিসে নৌসাদদের নিয়ে মিটিং করলেন সেলিম, মান্নান, অথচ আমি জানতেই পারলাম না।”

নরেন এদিন জানিয়েছেন, বিমানবাবু তাঁদের বলেছেন নির্বাচন থেকে আন্দোলন— বামফ্রন্টই মুখ্য ভূমিকা নেবে। এদিন নরেন চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয়, এরপর উপনির্বাচনে যদি জোট হয় তাহলে কি ফরওয়ার্ড ব্লক ফ্রন্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসবে? জবাবে প্রয়াত অশোক ঘোষের আশীর্বাদধন্য এই নেতা জানিয়েছেন, তখন কী হচ্ছে দেখে দলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাব।

সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ইস্যুতেও বামফ্রন্ট ভেঙে যায় ভেঙে যায় অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল। অশোক ঘোষ তখন জীবিত। তিনি বলেছিলেন, ওই কারখানা সিঙ্গুর থেকে তুলে কলাইকুন্ডায় নিয়ে যাক রাজ্য সরকার। একদিকে তৃণমূলের আন্দোলন, অন্য দিকে শরিকি কোন্দলে সিপিএমের তখন নাকানিচোবানি অবস্থা। যদিও শেষ পর্যন্ত বামফ্রন্ট ভাঙেনি। সেবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বিমান বসু। এবারও সেই তিনিই।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.