কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা হবে অক্টোবরে, দিন ঘোষণা করল রাজ্য

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র বাড়িতেই দিয়ে দেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রীরা উত্তর লিখে জমা করতে পারবেন। বৈঠকে জানানো হয়েছে, ইউরোপ ও আমেরিকায় এমন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালু আছে। করোনা সংক্রমণের আবহে সুরক্ষা বিধি মেনে চলতেই এই প্রক্রিয়া এ বছর চালু করা হচ্ছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালযের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষার সময়সূচী জানাল রাজ্য। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত সেমেস্টারের পরীক্ষা দিতেই হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিল ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন বা ইউজিসি। এই সংক্রান্ত বিষয়ে আজ ভিডিও কনফারেন্সে রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা ১ থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে নিতে হবে। পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবে ৩১ অক্টোবর।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র বাড়িতেই দিয়ে দেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রীরা উত্তর লিখে জমা করতে পারবেন। বৈঠকে জানানো হয়েছে, ইউরোপ ও আমেরিকায় এমন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালু আছে। করোনা সংক্রমণের আবহে সুরক্ষা বিধি মেনে চলতেই এই প্রক্রিয়া এ বছর চালু করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, অনেক পড়ুয়াই বহু দূর থেকে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। লকডাউনের এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার অনেক সমস্যা রয়েছে। আর সংক্রমণ যেভাবে ছড়াচ্ছে তাতে সুরক্ষার ব্যাপারটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই ছাত্রছাত্রীরা আপাতত বাড়িতে বসেই পরীক্ষা দিতে পারবেন। উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষার সময়সূচী নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন, করোনা সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে ছেলেমেয়েদের সুরক্ষার কথা ভেবে সেপ্টেম্বরে পরীক্ষার দিন পিছোনো হতে পারে। তিনি জানান,  ইউজিসি ২৯ এপ্রিল চিঠি দিয়ে বলেছিল পরীক্ষা নেওয়ার দরকার নেই। সেই মতো অনেক রাজ্যই তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। পরে আবার ইউজিসির তরফে মত বদলে বলা হয় পরীক্ষা নিতেই হবে। এই বিষয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনার জন্য শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত সেমেস্টার এবং চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপড়েনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে ছাত্রছাত্রীরা। উদ্বেগের এই সময় শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার ব্যাপারে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকার বিষয়টা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপরেই ছেড়ে দেওয়া হবে। উপাচার্যদের সঙ্গে কথা বলেই এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

করোনা আবহের মধ্যেই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন বা ইউজিসি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছিল অনেক রাজ্য। পরীক্ষা বাতিলের দাবি করা হয়েছিল।  সেই নিয়ে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টেও। তারই শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত জানায়,  ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা নিতেই হবে। কিন্তু সংক্রমণের কারণে পরীক্ষার দিন পিছোতে পারে। ইউজিসির সঙ্গে কথা বলেই তা ঠিক করতে হবে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে। বিচারপতি অশোক ভূষণ, বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডি ও বিচারপতি এমআর শাহর ডিভিশন বেঞ্চ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই রায় দেন। তাঁরা বলেন, কোনও রাজ্য যদি মনে করে  ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিতে পারবে না, তাহলে তারা ইউজিসির সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষার দিন পিছোতেই পারে। কিন্তু পরীক্ষা কোনওভাবেই বাতিল করা যাবে না।

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.