নিজের বা পরিবারের কারও করোনা হলেই ‘কোয়ারেন্টাইন লিভ’ পাবেন শিক্ষকরা

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার ঢেউ আছড়ে পড়েছে শিক্ষাজগতেও। ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণের মধ্যেও দশম থেকে দ্বাদশের ক্লাস চলায় স্কুলে যেতে হচ্ছিল শিক্ষকদের। অনেকেই আক্রান্ত হয়েছিলেন।তাই শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা কোভিড আক্রান্ত হলে আইসোলেশনে যাওয়ার ছুটি বা কোয়ারেন্টাইন লিভের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদন মঞ্জুর করে রাজ্য শিক্ষা দফতর বিজ্ঞপ্তি দিলেও তাতে কয়েকটি ব্যাপারে ধোঁয়াশা থেকে যায়। সেইসব দূর করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।  তাতে বলা হয়েছে, শিক্ষক বা অশিক্ষকর কর্মচারীরা নিজে বা তাঁদের পরিবারের কেউ কোভিড বা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হলে কোয়ারেন্টাইন লিভ পাওয়া যাবে।

শিক্ষা দফতর জানিয়েছিল কোভিড ও অন্য চারটি রোগ হলে অন্দরবাসের ছুটি পাওয়া যাবে। অন্য চারটি রোগ হল সার্স, মার্স, অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও  ক্রিমিয়ান কঙ্গো হেমারেজিক ফিভার (সিসিএইচএফ)। শিক্ষা দফতর জানিয়েছে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী বা তাঁদের বাড়ির কোনও সদস্য করোনা ছাড়াও এই চার রোগের কোনও একটিতে আক্রান্ত হলে তাঁরা এই ছুটি পাবেন।

কোভিডের মধ্যেও স্কুলে আসতে হচ্ছিল শিক্ষকদের। তৃতীয় ঢেউ বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যাওয়ার আগে অবধি কোভিড বিধি মেনেই স্কুল ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলা ছিল। এই সময় অনেক পড়ুয়াই কোভিড আক্রান্ত হয়। সংক্রমণ ছড়ায় শিক্ষকদের মধ্যেও। তাই কোভিড ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কোয়ারেন্টাইন লিভের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। এই ছুটির অনুমতি মিললেও কয়েকটি ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছিল।

প্রথমবারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, কোভিড হলেই সরকারি কর্মীরা কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার ছুটি পাবেন। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার পোষিত স্কুলশিক্ষকদের অভিযোগ ছিল, সরকারি স্কুলের শিক্ষকেরা সরকারি কর্মীর পর্যায়ে পড়লেও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা সেই আওতায় পড়ছেন না। তাই শুধুমাত্র সরকারি স্কুল বা কলেজ নাকি সমস্ত স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা এই সুবিধা পাবেন তা স্পষ্ট করে বলাই নেই বিজ্ঞপ্তিতে। ছুটির দাবিতে তাই শিক্ষক সংগঠনগুলিও সরব হয়।

তবে এবারের বিজ্ঞপ্তিতে সেই সংশয় আর নেই। কোভিড বা সংক্রামক রোগ হলেই এই ছুটি পাবেন শিক্ষকরা, তেমনই বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। নিজে বা পরিবারের কোনও সদস্য সংক্রমিত হলে কোয়ারেন্টাইন লিভের জন্য আবেদন করতে পারবেন শিক্ষক। স্কুল ইন্সপেকটরের কাছে ছুটির জন্য আবেদন করা যেতে পারে।

কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসসের পক্ষ থেকে চন্দন মাইতি বলেছেন, “আমাদের দাবিকে মান্যতা দেওয়ার জন্য রাজ্য শিক্ষা দফতরকে ধন্যবাদ জানাই।”

 

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.