বাংলা সিপিএমে কি ‘কেরল মডেল?’ ঠিক হবে সম্মেলনে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্ক্সবাদের মৌলিক কথা হচ্ছে দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ। বাংলা সিপিএমের অনেকে মজা করে বলেন, পার্টি এখন ধন্দমূলক বস্তুবাদে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিছুই যেন ক্লিক করছে না! একুশের ভোটে শূন্য হওয়ার পর যখন দোরগোড়ায় সম্মেলন তখন বাংলা সিপিএমের শাখা থেকে রাজ্যস্তর পর্যন্ত এখন একটাই চর্চার বিষয়, কেরল মডেল নিয়েই কি চলতে হবে বাংলার পার্টিকে?

কেরল মডেল কী?

দক্ষিণের রাজ্যটিতে সিপিএমের প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেস। পিনারাই বিজয়নদের সঙ্গে চেন্নিথালাদের সম্পর্ক কতকটা সাপে-নেউলের মতো। কিন্তু কেরলে কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াই থাকলেও দিল্লিতে আবার তারা এক। অর্থাৎ, কংগ্রেসের সঙ্গে কেরলে কুস্তি, দিল্লিতে দোস্তি। বিজেপি বিরোধিতায় জাতীয় স্তরে ১০ জনপথের সঙ্গে একে গোপালন ভবনের কোনও সংঘাত নেই। বরং তারা বন্ধু।

এবার সেই মডেলই তৃণমূলের জন্য প্রযোজ্য করেছে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটি। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সঙ্গে লড়াই চললেও জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধিতায় তৃণমূলের সঙ্গে কোনও ঝগড়া নেই। সম্প্রতি একটি সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে কয়েকদিন আগেই একটি খসড়া আমি লিখেছিলাম। তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সই করেছেন।
সেপ্টেম্বরের গোড়া থেকে শুরু হতে চলা সিপিএমের সম্মেলন প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের সঙ্গে দিল্লিতে দোস্তি, বাংলায় কুস্তি এই অবস্থান নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হবে বলে মনে করছেন নেতৃত্ব। শাখাস্তর এবং এরিয়া স্তরে বহু জায়গায় তৃণমূল সম্পর্কে কট্টর মনোভাব রয়েছে। তারা মনে করেন না, তৃণমূলের সঙ্গে কোনও সংশ্রব রাখা উচিত। কেন্দ্রীয় কমিটির এই সিদ্ধান্তকে তৃণমূল সম্পর্কে দোদুল্যমানতা বলেই মনে করছেন সিপিএমের মাঝের তলার নেতারা।

আবার একাংশের নেতৃত্বের বক্তব্য, ৯৮-এর কলকাতা পার্টি কংগ্রেসেই বিজেপিকে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গত হায়দরাবাদ পার্টি কংগ্রেসে কংগ্রেস-বিজেপি সমদূরত্বের লাইনও খারিজ হয়ে গিয়েছে। যাঁরা এখনও বিজেপিকে চিনতে চাইছে না বা পারছে না, শুধু তৃণমূল নিয়ে পড়ে রয়েছে, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে।

ভোটের পরেই সিপিএম স্পষ্ট করে দিয়েছে তৃণমূল আর বিজেপি এক নয়। বাংলার প্রাজ্ঞ সিপিএম নেতারা যে ভাবে বিজেমূল স্লোগান দিয়েছিলেন কিংবা বক্তৃতায় বলেছিলেন তৃণমূল-বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ—তা ভুল হয়েছে বলে ইতিমধ্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন সূর্য মিশ্ররা। সিপিএমের পর্যালোচনায় স্পষ্ট করেই লেখা হয়েছে, বিজেপি বিরোধিতায় বাংলার মানুষ তৃণমূলের উপরেই আস্থা রেখেছে। অনেক সিপিএম নেতা ঘরোয়া আলোচনায় স্বীকার করে নিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ চিহ্নিতকরণে বাংলার পার্টির গুরুতর ত্রুটি ছিল। তাঁদের আরও বক্তব্য, এখনও যদি বিজেপি বিরোধিতাকে মুখ্য না করে তৃণমূল বিরোধিতাকে মুখ্য করা হয় তাহলে পার্টি উঠে যাবে।

শুধু দিল্লি নয়। ত্রিপুরাতেও তৃণমূল সম্পর্কে মানিক সরকারদের নরম মনোভাবকে অনেক জেলার সিপিএম-ই ভাল চোখে দেখছে না। যদি এ নিয়ে ত্রিপুরা সিপিএমের অনেকে বলছেন, বাংলায় যখন পার্টি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছিল তখন ত্রিপুরায় কংগ্রেস আমাদের প্রধান বিরোধী দল। ২০১৬ সালে দেখেছিলাম, যারা আমাদের বিরুদ্ধে ত্রিপুরায় ষড়যন্ত্র করছে তাদের সঙ্গে বাংলায় জোট হচ্ছে। তখন যদি বাংলায় কংগ্রেসের প্রতি নরম হওয়া যায় তাহলে এখন তৃণমূল সম্পর্কে ত্রিপুরায় দরজা খোলা রাখলে অসুবিধা কী? পার্টিতে তো ঠিকই হয়ছে, রাজ্যে রাজ্যে আলাদা আলাদা রণকৌশল নেবে দল।

এবারের সিপিএমের সম্মেলনেও কংগ্রেসের সঙ্গে যাওয়া নিয়ে নতুন করে সমালোচনা হবে। সেইসঙ্গে যোগ হবে আইএসএফ। বিশেষত আব্বাস সিদ্দিকিকে নিয়ে এক পলিটব্যুরোর সদস্যর আদিখ্যেতা নিয়েও চাঁচাছোলা আলোচনা হবে সম্মেলন প্রক্রিয়ায়।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.