বিমান দলে হোল টাইমার পেতে বললেন ‘পার্টি ছাড়ব না বলে বাড়ি ছেড়েছিলাম’

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় পাঁচ দশক হতে চলল। সিপিএমের পার্টি অফিসই তাঁর ঘরবাড়ি। সারা দিন পার্টির কাজ। রাতে শোয়ার মতো ছোট্ট একটা ঘর। সেই তিনি প্রবীণ সিপিএম নেতা বিমান বসু জানালেন তাঁর গৃহত্যাগী হওয়ার নেপথ্য কাহিনী। সেইসঙ্গে দুঃসময়ের কথা স্মরণ করিয়ে এই দুর্দিনে তরুণ বাম কর্মীদের উদ্দেশে আহ্বানও জানালেন সিপিএম পলিটব্যুরোর এই বর্ষীয়ান নেতা।

আজ ১৩ জুলাই প্রয়াত প্রাক্তন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক প্রমোদ দাশগুপ্তর জন্মদিবস। পিডিজি-র স্মৃতি চারণের জন্যই বাংলা সিপিএমের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করে আপলোড হয়েছে। সেখানেই প্রমোদ দাশগুপ্ত প্রসঙ্গে নানান কথা বলেছেন বিমানবাবু। জানিয়েছেন, পার্টির জন্য তাঁকে গৃহত্যাগী হতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিলেন প্রমোদবাবু। সঙ্গ দিয়েছিলেন পি সুন্দরাইয়াও।

বিমানবাবু ওই ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “১৯৬৯ সাল থেকেই আমি ভাবছিলাম বাড়ি ছাড়ব। সেই সময়ে তো আমায় কেউ মারধর করে না। কথা শোনায়। আর কেউ আমার সামনে বলে না। আমার পিছনে বলে।” বিমানবাবুর বাড়ি কোনও ভাবেই বামপন্থী বাড়ি ছিল না। ভিডিও বার্তায় সে কথাও বলেছেন বর্ষীয়ান এই নেতা। তাঁর কথায়, “আমি দেখলাম আমায় গৃহত্যাগী হতে হবে। আমার বাড়ির লোক কেউ কমিউনিস্ট পার্টি করেন না। পছন্দও করেন না। কিন্তু তাতে কী! তার জন্য তো আর আমি পার্টি ছাড়তে পারি না। তাই বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই।”

কিন্তু থাকবেন কোথায়? বিমান বসু বলেছেন, ঘর ভাড়া পাওয়ার জন্য নিজের গ্যাঁটের পয়সা খরচ করে খবরের কাগজে বিজ্ঞাপনও দিয়েছিলেন। ভাড়া পাননি। শেষপর্যন্ত প্রমোদ দাশগুপ্তর দ্বারস্থ হন। বিমানবাবু অনুযোগের সুরে এও বলেছেন, সেই সময়ে অনেক প্রতিষ্ঠিত নেতা তাঁকে বাড়ি না ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কেউ কেউ বাড়িও চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু পিডিজি ১০০ শতাংশ সমর্থন জুগিয়েছিলেন তাঁকে।

সন্দেহ নেই বিমান বসুর অতি সাধারণ জীবনযাপন এই সময়ে বিরল। ৩৪ বছরের গনগনে জমানায় যখন নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে অনেক সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে, কেউ কেউ যখন বিলাসিতাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে ত্রিশ হাজারি চশমা বানিয়ে সেই বিল সরকারকে ধরিয়েছিলেন, তখন বিমান বসু যে দিকে থাকতেন সেদিকে ঘেঁষত না আড়ম্বর। এখনও না।

বিমান বসু প্রমোদ দাশগুপ্তর রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ তিতিক্ষার কথাও তুলে ধরেছেন। বলেছেন, একটা সময়ে প্রমোদবাবু কলকাতা কর্পোরেশনের এন্টালি গ্যারাজে ফোর ম্যানের চাকরি করতেন। সেই সময়ে তিনি বারবার মুজফফর আহমেদের কাছে আবদার করতেন, তাঁকে সর্বক্ষণের কর্মী করা হোক পার্টিতে। তিনি আর চাকরি করবেন না। কিন্তু কাকাবাবু তাঁকে বুঝিয়েছিলেন, প্রমোদবাবুর বেতনে একটা কমিউন চলে। এখন চাকরি ছাড়লে পার্টিই সঙ্কটে পড়বে। এক বছর সময় নেন কাকাবাবু। কমিউন চালানোর অর্থ জোগার করে নেওয়ার পর পিডিজিকে পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী করা হয়।

এই কথার রেশ ধরেই তিনি বলেন, এখন দলে অনেক বেশি সর্বক্ষণের কর্মী দরকার। না হলে এই সংকটকালে পার্টিকে দাঁড় করিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হবে। অর্থাৎ একুশের ভোট বিপর্যয়ের পর, তরুণ প্রজন্মের কাছে অন্য পেশায় না গিয়ে পেশাদার বিপ্লবী হওয়ার আহ্বান জানালেন বিমানবাবু।

যদিও এ ব্যাপারে বিভিন্ন জেলা সংগঠন সূত্রে নানান ব্যাপার জানা যায়। অনেক জেলায় নাকি হোলটাইমার হওয়ার আবেদন পত্র ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে। কিন্তু তাঁদের সর্বক্ষণের কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে অনেকে বলছেন, আর্থিক সংকট। সরকার থেকে চলে যাওয়ার পর সিপিএমে অর্থ সংকট বেড়েছে বলেই খবর। তার মধ্যে নতুন হোলটাইমার নিলে তা আর্থিক ভাবে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলেই মত অনেকের। যেমন কলকাতা জেলাতেই ২০১৬ সালের পর আর কোনও হোলটাইমার নিয়োগ হয়নি।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.