সীতারামের জায়গায় বৃন্দা? সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের শুরুতেই জল্পনা

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিপিএমের (CPIM) রাজনৈতিক লাইনের অভিমুখ ঠিক করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন সীতারাম ইয়েচুরিরা। পার্টি কংগ্রেসে যে রাজনৈতিক খসড়া প্রতিবেদন পেশ হবে তার রূপরেখা ঠিক করতে শুক্রবার থেকে দিল্লির হরকিষেণ সিং সুরজিত্‍ ভবনে শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক। কিন্তু সেই বৈঠকের শুরুতেই জল্পনা শুরু হয়েছে, এবার কি সীতারাম ইয়েচুরিকে সরতে হবে? তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন? তাঁর নাম কি বৃন্দা কারাত?

কোভিড পরিস্থিতিতে এই প্রথম শারীরিক উপস্থিতিতে সিপিএমের সিসি মিটিং হচ্ছে। সারা দেশের সিপিএমের শাখা স্তরের সম্মেলন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে এরিয়া ( রাজ্য বিশেষে লোকাল) কমিটির সম্মেলন প্রক্রিয়া চলছে। আগামী বছর এপ্রিল মাসে কেরলের কান্নুরে সিপিএমের পার্টি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পরের তিন বছরের রাজনৈতিক লাইন ঠিক করবে সিপিএম। সেসব নিয়েই এদিন আলোচনা শুরু করেছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদীর কেন্দ্রীয় কমিটি।

কংগ্রেসের সঙ্গে সমীকরণ কী হবে, ত্রিপুরার মতো রাজ্যে তৃণমূলের সঙ্গেই বা মানিক সরকারদের সম্পর্ক কেমন হবে সেসব লাইন ঠিক হবে ঈশ্বরের আপন দেশে।

কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের শুরুতেই জল্পনা তৈরি হয়েছে, এবার কি সীতারামের বিদায় হবে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে? সিপিএমের আপডেটেড গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একটি স্তরে সম্পাদক পদে সর্বাধিক তিনটি মেয়াদ একজন থাকতে পারবেন। সেদিক থেকে সীতারামের আরও একটি মেয়াদ বাকি।

কিন্তু ইয়েচুরি জমানায় বাংলা-ত্রিপুরার মতো রাজ্যে সিপিএমের গণভিত্তি বিপন্ন।ত্রিপুরায় যাও বা আছে বাংলায় পার্টির অস্তিত্ব বিপন্ন। এই পরিস্থিতিতে দলের অন্দরে অনেকে বলছেন এক এক রাজ্যে এক এক রকম ‘ধান্দাবাজির লাইন’ পার্টিকে ডুবিয়ে দিল। তাঁদের বক্তব্য, সীতারামের কার্যকালে পার্টি কেবল ভোটের পাটিগণিত কষেছে। সাংঠনিক স্বাধীন শক্তির বিকাশ উপেক্ষিত থেকেছে পুরোপুরি। এই পরিস্থিতিতে বৃন্দা কারাতের নাম পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে সীতারামকে সবচেয়ে বেশি লজ্জায় পড়তে হয়েছে বাংলা নিয়ে। একের পর এক নির্বাচনের জামানত জব্দ হওয়া, সংগঠনের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা নিয়ে বিপাকে সীতারাম।

ইয়েচুরি বিরোধী শিবিরের মুখ বলতে বৃন্দাই পলিটব্যুরোতে সিনিয়র। তাছাড়া তিনি মহিলা মুখ। কারণ প্রকাশ কারাট আর সাধারণ সম্পাদক হবেন না। এসআর পিল্লাই এবার বানপ্রস্থে যাবেন। তাঁর বয়স ৭৫ পেরিয়ে গেছে কবেই। এই প্রেক্ষাপটে তপন সেন, হান্নান মোল্লার মতো অনেক বাঙালি পলিটব্যুরোর সদস্যও চাইছেন বৃন্দা সাধারণ সম্পাদক হোন।

 

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.